চট্টগ্রাম বুধবার, ১৩ নভেম্বর, ২০১৯

সর্বশেষ:

২৪ অক্টোবর, ২০১৯ | ১:২৪ পূর্বাহ্ণ

রাকিবুল হক

ব্যর্থ প্রেম অনেককিছুই শিখিয়ে যায়…

দুজনের মধ্যে অনেক মাখামাখি ছিল। একে অন্যকে ছাড়া যেন থাকতেই পারে না। কিছু সময় পরে হয়তো দেখা গেল, সঙ্গী হয়ে উঠেছে চক্ষুশূল! ফলে ব্রেক আপ ছাড়া গতি থাকে না। সম্পর্কের সুখী পরিণতি সব সময়ই কাম্য, কিন্তু এই ব্রেক আপ কি শুধুই কেড়ে নেয়? কিছুই কি দিয়ে যায় না?

মনোবিদরা কিন্তু বলছেন, ব্রেক আপ মানুষকে অনেকটা পরিণত করে তোলে। জীবনের বেশ কিছু ধ্রুব সত্যকে সামনে এনে অনেক বাস্তববাদী ও গোছানো মানুষে পরিণত করে।

ভালোবাসার সম্পর্ক যখন ক্রমশ খারাপের দিকে যেতে শুরু করে, তার চরম পরিণতি হয় ব্রেক আপ। খুব ঘৃণায় পর্যবসিত না হলে যে কোনো প্রেমের সম্পর্কের ভাঙনই মানুষের মনে হতাশা ও দুঃখের জন্ম দেয়। তির তিরে অভিমানটুকু হয়তো কারও কারও ক্ষেত্রে থেকে যায় আজীবন। সবচেয়ে কাছের জনের কাছ থেকে পাওয়া এমন আঘাত থেকে কোনোদিনই বের হওয়া যাবে না, এমন ধারণাও হতে থাকে অনেকের। তবে মনোবিদদের মতে, এই সবই খুব সাময়িক। সম্পর্কের ভাঙন যেমন দুঃখজনক, তেমনই তা জীবন সম্পর্কে শিখিয়ে যায় অনেক কিছু। তেমনি কিছু বিষয় জেনে নিন :
পারফেক্ট মানুষ বলে কিছু হয় না প্রায়ই একটা কথা শুনতে পাওয়া যায়, ‘মিস্টার অ্যান্ড মিসেস পারফেক্ট’। যতই শুনে আসুন না কেন, বাস্তবে এর কোনো ভিত্তি নেই। তবু প্রেমের ভালো সময়ে নিজেদের সবাই পারফেক্ট জুটি মনে করে। কিন্তু ব্রেক আপ বুঝিয়ে দিয়ে যায়, একটা মানুষ কখনওই পুরোপুরি সঠিক হতে পারে না। বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই প্রেমের সম্পর্কে সঙ্গী দুজন একে অপরের গুণে এতটাই মুগ্ধ থাকে যে দোষগুলো তাদের চোখ এড়িয়ে যায়। আর এটাই একটা সম্পর্কে থাকাকালীন প্রথম ভুল। কিছু দিন সম্পর্কে থাকার পর যখন সঙ্গীর দোষগুলো চোখে পড়তে শুরু করে তখনই দেখা দেয় সমস্যা। তাই সম্পর্কের শুরুর দিক থেকেই সঙ্গীর গুণের সঙ্গে সঙ্গে খারাপ দিকটাও বিচার করা উচিত। গুণগুলো মেনে নেওয়ার পাশাপাশি দোষগুলোকেও এড়িয়ে যাওয়া যায় না।

দুজনের পছন্দ-অপছন্দে মিল থাকলেই সম্পর্ক স্থায়ী হবে না সম্পর্কে সঙ্গী দুজনের মধ্যে
পছ্ন্দ-অপছন্দের মিল হলেই যে সেই সম্পর্ক স্থায়ী হবে তার কোনো মানে নেই। সঙ্গীর সব অভ্যেসের সঙ্গে নিজের স্বভাবের সামঞ্জস্য আছে দেখলেই তা স্থায়ী হবে ভেবে ভুল করেন অনেকেই। কোনো পরিস্থিতিতে যদি এক জন উত্তেজিত হয়ে পরেন, সেই ক্ষেত্রে অপর জনের উচিত ঠান্ডা মাথায় সমস্যার সামাধান করা। এই কারণে অনেক ক্ষেত্রেই দুজন বিপরীতধর্মী মানুষই হয়ে ওঠেন সেরা যুগল। আবার কখনও একই স্বভাবের দুজন অনেক ভালো থাকেন, এটা পুরোটাই পরিস্থিতি, নিজেদের বোঝাপড়া ও বিশ্বাসের উপর নির্ভর করে।

সব ক্ষেত্রে নারী-পুরুষ সমতা বজায় রাখা সম্ভব নয়
আমাদের এই প্রজন্ম সমতায় বিশ্বাসী। অর্থাৎ নারী-পুরুষ একে অপরের কাছে কোনো দিক থেকেই পিছিয়ে নেই এখন। আর এই ধারণা ঢুকে পড়েছে ভালোবাসার সম্পর্কেও। যা সব ক্ষেত্রে বাস্তবায়ন করা সম্ভব হয় না। আর এটাই অনেক সময় সম্পর্কের মাঝে অশান্তির বীজ বপন করে। সঙ্গী দুজনকে তাদের সীমাবদ্ধতা সম্পর্কে জানতে হবে।
(আগামী সংখ্যায় সমাপ্য)

The Post Viewed By: 22 People

সম্পর্কিত পোস্ট