চট্টগ্রাম বুধবার, ১৯ ফেব্রুয়ারী, ২০২০

সর্বশেষ:

১৪ ফেব্রুয়ারি, ২০২০ | ৯:৪৫ পূর্বাহ্ণ

ইদরীস আল মুহারিব

ভালোবাসা হোক আল্লাহর জন্য

ভালোবাসা মানব স্বভাবের একটি আশ্চর্য গুণ। এক অজানা টানে হৃদয়ের ঝোঁক থেকেই সূচনা হয় ভালোবাসার। তারপর গড়ায় প্রীতির বন্ধনে। কিন্তু এ ভালোবাসা যদি অশ্লীল হয়, অশ্লীলতার পথে গড়ায় ভালোবাসার প্রবাহ, তখন জীবন হয় শূলের চেয়ে বিষাক্ত, মাটির চেয়েও অর্থহীন। অথচ ভালোবাসার পথে চলেই, ভালোবাসাকে সততার পথে পরিচালিত করেই আমরা হতে পারি সৌভাগ্যবান, রবের প্রিয় বান্দা এবং কেয়ামতের দিন নবীগণের মুগ্ধতার পাত্র।

হজরত ওমর (রা.) থেকে বর্ণিত, নবী (সা.) বলেছেন, ‘আল্লাহর বান্দাদের মধ্যে এমন কিছু ব্যক্তি আছে যারা নবী নয় এবং শহীদও নয়। অথচ কেয়ামতের দিন নবীগণ এবং শহীদগণ তাদের দেখে আশ্চর্য হবেন এবং মুগ্ধতার দৃষ্টিতে তাদের দিকে তাকাবেন। সাহাবায়ে কেরাম বললেন, ইয়া রাসুলুল্লাহ! আমাদেরকে বলুন, তারা কারা হবে? নবীজি (সা.) বললেন, তারা এমন কিছু ব্যক্তি যারা পরস্পরকে ভালোবেসেছে একমাত্র আল্লাহর সন্তুষ্টির লক্ষ্যে। আত্মীয়তার সূত্র ধরে নয় কিংবা টাকা-পয়সার সম্পর্কের কারণেও নয়। আল্লাহর কসম! তাদের চেহারা হবে পবিত্র নূরে উদ্ভাসিত, আর তারা থাকবে প্রভুর নূরের আচ্ছাদনে। মহাপ্রলয়ের দিন তারা শঙ্কিত হবে না, যখন সবাই থাকবে ভীতসন্ত্রস্ত। আর তারা হবে না দুশ্চিন্তাগ্রস্ত।’ (আবু দাউদ : ২৪২৭)

আমরা যদি আখেরাতে প্রিয় নবী (সা.)-এর সঙ্গে থাকতে চাই, তাহলে দুনিয়াতেও তাকে ভালোবাসতে হবে, ভালোবাসার বন্ধনে বাঁধতে হবে তার সিরাত, আখলাক ও পুরো জীবনাদর্শ। নবী (সা.) বলেছেন, ‘কেয়ামতের দিন প্রত্যেক ব্যক্তি তার সঙ্গে থাকবে, যাকে সে দুনিয়াতে ভালোবাসত।’ (বুখারি : ২৫২)

কেয়ামতের দিন সূর্য মাথার এক হাত ওপরে নেমে আসলে বিক্ষিপ্ত প্রাণগুলো যখন ছুটোছুটি করবে চারদিকে, তখন আল্লাহ তায়ালা ঘোষণা দিয়ে বলবেন, ‘কোথায় আমার বান্দারা, যারা পরস্পরকে ভালোবেসেছিল শুধু আমাকে পাওয়ার লক্ষ্যে! আজ আমি তাদেরকে ছায়া দান করব আমার আরশের ছায়াতলে; আজ আরশের ছায়া ছাড়া আর কোনো ছায়া নেই।’ (মুসলিম : ২৫৬৬)

আমরা অনেকে দুনিয়ার তারকা ওমুক খেলোয়াড়, তমুক নায়ক বা অমুক নেতাকে ভালোবাসি। তাদের জন্য জানপ্রাণ দিয়ে দিতে চাই। একজন মানুষ হিসেবে কাউকে ভালোবাসতে সমস্যা নাই। কিন্তু তাকে ভালোবাসলে পরকালে আপনার কী লাভ? দুনিয়াতেই বা কি অর্জন করতে পারলেন? অনেক ক্ষেত্রে দেখা যায় উল্টো তার জন্য আপনার অনেক সময় নষ্ট হয়ে যাচ্ছে! অথচ বিনিময়ে কিছুই পাচ্ছেন না।

দুনিয়ার জীবনের সময়গুলোকে খুব সস্তা ভাবার সুযোগ নেই। কেয়ামতের দিন আল্লাহ তায়ালা জিজ্ঞাসা করবেন, ‘কোন কাজে তুমি জীবনের সময়গুলো ব্যয় করেছ হে বান্দা?’ (তিরমিজি : ২৪১৭)। সেই প্রশ্নের উত্তরের জন্য আজ থেকেই নিজেকে প্রস্তুত করুন, যেন বলতে পারেন, হে আল্লাহ! তোমার সন্তুষ্টির জন্য আমি তোমার অমুক বান্দাকে ভালোবেসেছি, আমি ভালোবেসেছি তোমার নবীকে। সুতরাং আজ আমি তোমার ছায়া পেতে চাই এবং পেতে চাই তোমার নবীর সঙ্গ!

শুধু রবের সন্তুষ্টির পেতে যারা পরস্পরকে ভালোবাসে, তাদেরকে সুসংবাদ দিয়ে নবী (সা.) বলেছেন, ‘জান্নাতে রয়েছে নীলকান্তমণি আর পান্নার নির্মিত অট্টালিকাসমূহ। সেগুলোতে রয়েছে মুক্তা খচিত কামরা। আর সেসব কামরায় থাকবে এমন দুই ব্যক্তি যারা আল্লাহর জন্য পরস্পরকে ভালোবেসেছে।’(মুসনাদে বাজ্জার : ২৯২)

আল্লাহর জন্য যাকে ভালোবাসবেন তার কল্যাণ কামনা করবেন; তার উপস্থিতিতে কিংবা অনুপস্থিতিতে। তার ভালো গুণগুলো নিজের মধ্যেও প্রয়োগের চেষ্টা করবেন। আর সে অন্যায় কিছু করলে তাকে বোঝাবেন। আল্লাহর কাছে তার সংশোধনের জন্য দোয়া করবেন। নামাজে যাওয়ার সময় তাকে ডেকে নিয়ে যাবেন এবং তাকে সৎ কাজের আদেশ করবেন। অসৎ কাজ থেকে নিষেধ করবেন। আল্লাহ তায়ালা আমাদের পরস্পরের ভালোবাসা-ভ্রাতৃত্ববোধ শুধু তার সন্তুষ্টির লক্ষেই করার তাওফিক দান করুন।

 

 

 

পূর্বকোণ/আরপি

The Post Viewed By: 124 People

সম্পর্কিত পোস্ট