চট্টগ্রাম শুক্রবার, ০৫ জুন, ২০২০

কাপ পর্বের সেমিফাইনালে চট্টগ্রাম বান্দরবান থেকে ফিরে

২১ জানুয়ারি, ২০২০ | ১:৫২ পূর্বাহ্ণ

দেবাশীষ বড়–য়া দেবু

বঙ্গবন্ধু ফুটবলে জিতেছে রাঙ্গামাটি ও খাগড়াছড়ি

কাপ পর্বের সেমিফাইনালে চট্টগ্রাম বান্দরবান থেকে ফিরে

মুজিববর্ষ উপলক্ষে অনুষ্ঠানরত জেলা পর্যায়ে বঙ্গবন্ধু জাতীয় ফুটবল চ্যাম্পিয়নশিপে যমুনা অঞ্চলের কাপ পর্বের সেমিফাইনালে খেলার যোগ্যতা অর্জন করেছে চট্টগ্রাম জেলা। গতকাল বান্দরবান স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত ফিরতি পর্বের খেলায় চট্টগ্রাম জেলা ১-০ গোলে স্বাগতিক বান্দরবান জেলাকে হারিয়ে এ যোগ্যতা অর্জন করেছে। খেলার ৪৪ মিনিটে একমাত্র জয়সূচক গোলটি করেছেন দলীয় অধিনায়ক নাজিম উদ্দিন মিঠু। দু-দলের প্রথম পর্বে চট্টগ্রামে গত ১৭ জানুয়ারী অনুষ্ঠিত ম্যাচটি ১-১ গোলে ড্র হয়েছিল। চট্টগ্রাম দল আগামী ২৪ জানুয়ারী হোম এন্ড এ্যাওয়ে পদ্ধতির প্রথম ম্যাচে ফেনী জেলার বিরুদ্ধে খেলবে। ফেনী জেলা নিজেদের মাঠে নোয়াখালী জেলাকে ১-০ গোলে হারানোর পর গতকাল এ্যাওয়ে ম্যাচে গতকাল নোয়াখালীর সাথে ২-২ গোলে ড্র করে কাপ পর্বের সেমিফাইনালে খেলা নিশ্চিত করে। একইভাবে কাপ পর্বের সেমিতে ওঠেছে খাগড়াছড়ি ও কক্সবাজার জেলা। খাগড়াছড়ি জেলা হোম এন্ড এ্যাওয়ে ম্যাচের দুটোতেই ২-০ গোলে প্রতিপক্ষ লক্ষীপুর জেলাকে হারিয়েছে। অন্যদিকে নিজেদের মাঠে হোম ম্যাচে কক্সবাজার ২-০ গোলে রাঙ্গামাটিকে হারালেও এ্যাওয়ে ম্যাচে গতকাল ১-০ গোলে রাঙ্গামাটির কাছে হেরে যায়। এতে দু-দলের পয়েন্ট সমান হলে গোল গড়ে সেমিতে পৌঁছে যায় কক্সবাজার।

গতকাল বান্দরবানের বিরুদ্ধে জিততেই হবে এমন সমীকরণ নিয়ে মাঠে নেমেছিল হেড কোচ শামসু ও কোচ নাজুর দল চট্টগ্রাম। এ কারণে শুরু থেকেই প্রতিপক্ষের উপর চড়াও হয় চট্টগ্রাম। অন্যাদিকে নিজেদের মাঠে পরিচিত পরিবেশ ও সমর্থন পেয়ে বান্দরবানও সমানতালে খেলার চেষ্টা করে। তবে রেফারির কারণে বারবার খেলার সৌন্দর্য্য ব্যাহত হয়েছে। লাইন মানের সাথে মুল রেফারির কোন সমন্বয় ছিল না। দ্বিতীয়ার্ধে তাদের পরিচালনা ছিল আরো করুণ এবং বেশ কয়েকটি সিদ্ধান্ত ছিল বেশ বিতর্কিত। খেলার ৪৪ মিনিটে চট্টগ্রামের পক্ষে অধিনায়ক নাজিমউদ্দিন মিঠু জয়সূচক গোলটি করেন। বামপ্রান্ত থেকে আবু বক্কর সিদ্দিকের লম্বা থ্রো ডি বক্সে পেয়ে মিঠু দূর্দান্ত ব্যাকভলি শটে বল জালে জড়ান (১-০)। এর ৬ মিনিট আগে বড় ডি বক্সে বল নিয়ে এগিয়ে যাওয়ার সময় পিছন থেকে চট্টগ্রামের মুন্নাকে ফাউল করে প্রতিপক্ষের একজন ডিফেন্ডার ফেলে দিলেও রেফারি আলমগীর তা এড়িয়ে যান। আর সহকারী রেফারি চট্টগ্রামের অনুকূলে থ্রো দিলেও রেফারি আলমগীর তা বাতিল করে বান্দরবানের পক্ষে দিয়ে পক্ষপাতিত্বের আশ্রয় নেন। এদিকে দ্বিতীয়ার্ধের শুরু থেকে গোলের জন্য মরিয়া হয়ে চট্টগ্রামের গোলমুখে হানা দিয়েও ডিফেন্ডারদের কৃতিত্বে সফল হয়নি স্বাগতিকরা। বান্দরবানের পৌর মেয়র ও জেলা ক্রীড়া সংস্থার সাধারণ সম্পাদক ইসলাম বেবী খেলা শুরুর আগে খেলোয়াড়দের সাথে পরিচিত হন। এ জয়ে চট্টগ্রাম দলের ম্যানেজার মশিউল আলম স্বপন খেলোয়াড়দের আন্তরিক অভিনন্দন জানিয়ে চট্টগ্রাম থেকে আগত দর্শক ও কর্মকর্তাদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন। এদিকে চট্টগ্রাম দলকে উৎসাহিত করতে চট্টগ্রাম জেলা ক্রীড়া সংস্থা ও ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন এবং চট্টগ্রাম মর্ণিং ফিটনেস জোনের একাধিক কর্মকর্তা বান্দরবান স্টেডিয়ামে উপস্থিত ছিলেন।

দু’দলে যারা খেলেছেন- চট্টগ্রাম জেলা: মহসিন সুমন (সাদ্দাম), আবু বক্কর সিদ্দিক, নাজিমউদ্দিন মিঠু, আকতারুজ্জামান, প্রকাশ, মুন্না (রাজিব), আরিফুল, রাকিব (মোরশেদ), জাহেদুল, বোরহান, আমিরুজ্জামান সাইমুন।

বান্দরবান জেলা: এনামুল, শহীদুর, ক্য ক্য মারমা, কাশেম, ছোটন (মিনহাজ), অং থোয়াই মারমা (আরিফুল), আকাশ চাকমা, প্রুচা চিং মারমা, আরিফ মিয়া, বাধন শীল, সুমন (শাহীন)।

The Post Viewed By: 54 People

সম্পর্কিত পোস্ট