চট্টগ্রাম বৃহষ্পতিবার, ২০ ফেব্রুয়ারী, ২০২০

সর্বশেষ:

১৬ জানুয়ারি, ২০২০ | ৩:৪৬ পূর্বাহ্ণ

স্পোর্টস ডেস্ক

ফিলিস্তিনের কাছে হার বাংলাদেশের

ফিলিস্তিনকে ম্যাচের আগে পরিষ্কার ফেভারিট বলেছিলেন বাংলাদেশ কোচ জেমি ডে। মাঠের খেলায় অবশ্য কে ফেভারিট সেটা টের পাওয়া গেল না। ম্যাচ শেষের স্কোরলাইনে ডের কথা ফুটে উঠল। সেটা বাংলাদেশের জন্য অস্বস্তিকর, আর ‘দ্বিতীয়’ দল নিয়ে আসা আনকোরা ফিলিস্তিনের জন্য বড় পাওয়া। বাংলাদেশ হারল আসলে নিজেদের কৌশলের কাছে। জামাল ভুঁইয়াদের শুরুটা নিয়ে খুব বেশি আপত্তি থাকার কথা নয় ডের। লং থ্রো, সেট পিস ফিলিস্তিনের রক্ষণকে বেশ কয়েকবার ঝামেলায় ফেলল বাংলাদেশ। তবে সুযোগগুলো এলোমেলো, সেখান থেকে গোলেও শট করা হলো না একবারও। সুযোগটা পুরোপুরি কাজে লাগিয়ে ফিলিস্তিন বাংলাদেশকে আক্ষেপে পোড়াল ২৮ মিনিটে। অন্যপাশে বাংলাদেশের লং থ্রো। বক্সের ভেতর ঢুকে গেছেন প্রায় সবাই। রক্ষণে ছিলেন কেবল রহমত মিয়া। প্রথমে হেড বল ক্লিয়ার করলেও একা আর সামাল দিতে পারেননি। ফিলিস্তিন মিডফিল্ডার অদায় খারুব বল পেয়ে গিয়েছিলেন, এর পর থ্রু পাসে বক্সের খুঁজে পান খালেদ সালেমকে। তার ডান পায়ের আড়াআড়ি শটে করা গোলে এগিয়ে যায় ফিলিস্তিন। ওমানের বিপক্ষে শেষ ম্যাচ থেকে তিনটি পরিবর্তন এনেছিলেন ডে। মামুনুল ইসলাম, তপু বর্মনদের সঙ্গে নেমেছিলেন মতিন মিয়া। মামুনুল খেলেছেন ৪-১-৪-১ ফর্মেশনের ডিফেন্সিভ মিডফিল্ডারের ভূমিকায়। সেটপিস থেকে শুরুতে খানিকটা ঝলক দেখিয়েছিলেন মামুনুল। তবে পার্থক্যটা গড়ে দিতে পারতেন আসলে তপু। ৩১ মিনিটে যে গোল হাতাছাড়া করেছেন তাতে তার আক্ষেপটাই বেশি হওয়ার কথা। রায়হানের লম্বা থ্রো ফিলিস্তিন ডিফেন্ডারের ফ্লিকের পর দূরের পোস্টে পেয়ে গিয়েছিলেন তপু। যে কাজটা সাধারণত ঠিকঠাক করেন- সেটাই এদিন গুলিয়ে ফেললেন। হেড মারলেন বাইরে দিয়ে। প্রথমার্ধে বাংলাদেশ পিছিয়ে থাকার সঙ্গে গোল হাতছাড়ার আফসোস নিয়ে মাঠ ছাড়ল।

ফিলিস্তিন সেভাবে বাংলাদেশের ওপর জেঁকে বসেনি তখনও। প্রথমার্ধের মতোই নিজেদের রক্ষণ সামলেই খেলছিল তারা। উচ্চতা আর শক্তিমত্তায় এগিয়ে থাকা ফিলিস্তিন ডিফেন্ডারদের দ্বিতীয়ার্ধে আর পরীক্ষায়ই ফেলতে পারেনি বাংলাদেশ। ম্যাচে ফেরার বদলে ৫৮ মিনিটে উলটো আবার পিছিয়ে পড়ে ডের দল। উজ্জীবনী শক্তিটুকুও তাই জোটেনি বাংলাদেশের। এই গোলেও দায় এড়াতে পারবেন না তপু-ইয়াসিনরা। মোহাম্মদ দারুউইশের লম্বা বল তপুর মাথার ওপর দিয়ে গিয়ে পড়েছেন বাংলাদেশের বক্সের মাথায়। ইয়াসিন ধারে কাছেও ছিলেন না। লায়িথ খারুবের জন্য সুযোগ ছিল সহজ। সময়ও ছিল অনেক। আশরাফুল ইসলাম রানাকে টপকালেন এক শটেই, ফিলিস্তিন ২, বাংলাদেশ ০।

এর পর ম্যাচে ফিরতে হলে বাংলাদেশকে নাটকীয় কিছু করতে হত। মতিন মিয়া অনেকদিন পর একাদশে সুযোগ পেয়ে চোটাক্রান্ত নাবিব নেওয়াজ জীবনের জায়গাটা লুফে নেওয়ার মতো কিছু করতে পারেননি। ম্যাচের ঘন্টাখানেক পার হওয়ার পর রবিউল হাসানের বদলি হয়ে মাঠ ছেড়েছিলেন তিনি। সাদ উদ্দিনও স্ট্রাইকারের ভূমিকায় খেলে পুরো ম্যাচে গোলেই শট করতে পারেননি একবারও। আগেরবার যেভাবে শেষ হয়েছিল, বঙ্গবন্ধু গোল্ডকাপে বাংলাদেশের শুরুটা হলো সেখান থেকেই। ২০১৮ এর বঙ্গবন্ধু গোল্ডকাপেও ফিলিস্তিনের কাছে বাংলাদেশ হেরেছিল একই ব্যবধানে, তবে সেবার বাংলাদেশ হেরেছিল সেমিফাইনালে। ১৯ জানুয়ারি গ্রুপ ‘এ’-তে নিজেদের শেষ ম্যাচে বাংলাদেশের প্রতিপক্ষ শ্রীলঙ্কা। সেমিফাইনালে উঠতে সমীকরণ কী হবে সেটা অবশ্য এর আগেই জেনে যাবে বাংলাদেশ। গ্রুপের দ্বিতীয় ম্যাচে শ্রীলঙ্কা ফিলিস্তিনের বিপক্ষে খেলবে ১৭ জানুয়ারি।

The Post Viewed By: 41 People

সম্পর্কিত পোস্ট