চট্টগ্রাম রবিবার, ২৯ জানুয়ারি, ২০২৩

সর্বশেষ:

১৯ মে, ২০১৯ | ৩:০৯ পূর্বাহ্ণ

হুমায়ুন কবির কিরণ

টাইগাররা এখন সত্যিই গর্জন করতে জানে

সাউদাম্পটন, ব্রিস্টল ও নটিংহ্যাম-এই তিন ভেন্যুতে বিশ্বকাপের কয়েকটি ম্যাচ অনুষ্ঠিত হবে। যারা চলমান পাকিস্তান ও ইংল্যান্ডের মধ্যকার ওয়ানডে সিরিজে নজর রাখছেন তারা অবশ্যই দেখেছেন প্রথমটি বৃষ্টিতে ভেঁসে যাওয়ার পর উল্লেখিত তিন ভেন্যুতে ৩৫০-এর বেশি করেও একটি ম্যাচেও জিততে পারেনি অতিথি পাকিস্তান। আসছে বিশ্বকাপে কতটা রানবন্যা হতে পারে দুই দলের তিনটি ওয়ানডেতেই পরিস্কার। পরশু রাতেই অসামান্য এক সিরিজ শেষ করলো বাংলাদেশ জাতীয় ক্রিকেট দল। ওয়েস্ট ইন্ডিজকে হ্যাটট্রিক হারের স্বাদ দিয়ে লম্বা সময় পর অবশেষে একটি ওডিআই ট্রফি পেলো টাইগাররা। সাথে ভক্তদের কি আশ্বস্তও করলো না সৌম্য সরকার ও মোসাদ্দেক হোসেনরা, আমরাও প্রস্তুত, লক্ষ্যটা ২৪ ওভারে ২১০ হোক কিংবা ৩০০ প্লাস-আসছে বাংলাদেশ, ইংল্যান্ডের মাটিতে কতটা রান স্কোরবোর্ডে জমা করতে পারলে একটি দল নিজেদের নিরাপদ ভাবতে পারে বাংলাদেশ এখন সেই ভাবনায় নেই। বরং যে কোন পরিস্থিতিতে লড়াই করার মানসিকতার জানান দিলো সদ্য জেতা ত্রিদেশীয় সিরিজে বাংলাদেশের পারফরম্যান্স। ক্রিকেট পন্ডিতরা বলছেন, ইংল্যান্ডে এব বিশ্বকাপে রান উৎসবই হবে। সে ক্ষেত্রে প্রতিপক্ষ আগে ব্যাট করে তিন’শ ছুঁই ছুঁই কিংবা তিন শর বেশি সংগ্রহ পেয়ে গেলে বাংলাদেশের জন্য তাড়া করা কতটা কঠিন হবে? অনেকেই বলতে পারেন, বাংলাদেশ কি প্রায় ইংলিশ কন্ডিশনে আয়ারল্যান্ডের মাটিতে ২৯২ চেজ করেনি। তাছাড়া আস্কিং রান রেট ৯-এর কাছাকাছি দেখেও বাংলাদেশ টি-টুয়েন্টি ফোর (!) ম্যাচে ওয়েস্ট ইন্ডিজকে হারিয়ে দেয়নি। তারপরও জবাব এখনই দেওয়া সম্ভব না। বিশ্বকাপ শুরু হতে এখনো বেশ কিছুদিন বাকি। তবে নিকট অতীত দেখে আন্দাজ তো করাই যায় এবং তা বেশ ইতিবাচক। সদ্য শেষ হওয়া ত্রিদেশীয় সিরিজে বাংলাদেশ অপরাজিত চ্যাম্পিয়ন। আর এই চ্যাম্পিয়ন হওয়ার পথে ব্যাটিংয়ে কঠিনতম কাজটাই বারবার করে দেখিয়েছে মাশরাফির দল। সেটি রান তাড়া করে জয়। একবার-দু’বার নয়, টুর্নামেন্টে বাংলাদেশ যে চার ম্যাচ খেলেছে, সব কটিই জিতেছে রান তাড়া করে।
বাংলাদেশ দল নিয়ে একটি প্রচলিত ধারণা, চাপে ভেঙে পড়ে। রান তাড়া করাটা এমনিতেই চাপের। আড়াই’শ ছুঁই ছুঁই কিংবা তার ওপাশে রান তাড়া করতে নেমে বাংলাদেশের ব্যাটিং অর্ডার বহুবার ‘তাসের ঘর’-এর মতো ভেঙে পড়েছে। কিন্তু ত্রিদেশীয় সিরিজে দেখা গেল নতুন কিছু। ২৫০ এমনকি ৩০০’র কাছাকাছি স্কোর তাড়া করতেও বেগ পেতে হয়নি টাইগারদের। পরশুর বৃষ্টিবিঘিœত ফাইনালে ২৪ ওভারে বাংলাদেশকে করতে হবে ২১০। অর্থাৎ ওভারপ্রতি তুলতে হবে ৮.৭৫। যদি ৫০ ওভারে এই রানরেট বিবেচনা করা হয়, তাহলে বাংলাদেশের লক্ষ্য দাঁড়াত প্রায় ৪৩৮! এমন কিছু না হলেও বৃষ্টিভেজা মাঠে ২৪ ওভারে ২১০ রান তাড়া করা মোটেও সহজ ছিল না। কিন্তু এই টুর্নামেন্টে রান তাড়া করে জয়কে অভ্যাস বানিয়ে ফেলা বাংলাদেশ ফাইনালও জিতল কঠিন লক্ষ্যকে সহজ বানিয়ে।
পরশু ডাবলিনে যখন শিরোপা নিষ্পত্তি হয় বাংলাদেশে মধ্যরাত তখন পেরিয়ে গেছে। এই বাংলাদেশের মাটিতে কালবৈশাখিতে ক্ষয়ক্ষতির কষ্টের মাঝেও ক্রিকেটাররা আনন্দে মাতিয়েছেন পুরো জাতিকে। গতকাল একটি ছবি সবার কাছেই অন্যরকম মনে হয়েছে। প্রায় প্রত্যেক প্রিন্ট মিডিয়াতেই বাংলাদেশ দলের ট্রফি নিয়ে উল্লাসের ফটোসেশন ছাপা হয়। সেখানে মুশফিকুর রহিম আধশোয়া। তার মাথার ওপর একটা ট্রফি। সৌম্য বসে পড়েছেন, কাঁদছেন না। ছবির পোজ দিচ্ছেন। ওপরে একপাশ থেকে হাত বাড়িয়ে রেখেছেন রুবেল হোসেন। তামিম একপাশে দাঁড়িয়ে হাসছেন। মাশরাফি আরেকপাশে দাঁড়িয়ে, লিটনের কাঁধে হাত। একটু আগে একে একে সবাই বাধা পড়েছিলেন তার আলিঙ্গনে। সাকিব খেলেননি, তবে তার হাসিটা মনে করিয়ে দেবে অনেক কিছু। রাব্বি ভি চিহ্ন দেখাচ্ছেন, এ সিরিজে এক ম্যাচও খেলেননি তিনি। হয়তো এটা বিশ্বকাপের আগে নেহায়েত একটা সিরিজ, যেটিকে সবাই নিয়েছে প্রস্তুতি হিসেবেই। বিশ্বকাপে বাংলাদেশ দলকে নিয়ে সবাই আশায় দিন গুনছেন। পাকিস্তান-ইংল্যান্ডের চলমান সিরিজের মতো হয়তো বিশ্বকাপেও রান উৎসব হবে কিন্তু একটি ট্রফির জন্য সাকিবের উদাস পানে চেয়ে থেকে কান্নার ছবিটার দিন শেষ। এখন বাংলাদেশ হারার আগে হারে না, বরং ইংল্যান্ড হোক বা অস্ট্রেলিয়া টাইগারের মতোই গর্জন করতে জানে। এই গর্জনটাই ক্রিকেট ভক্তরা দেখতে চায় বিশ্বকাপেও।

শেয়ার করুন