চট্টগ্রাম বৃহষ্পতিবার, ২১ জানুয়ারি, ২০২১

১৯ মে, ২০১৯ | ১:৪০ পূর্বাহ্ণ

হুমায়ুন কবির কিরণ

দুটো প্রথমে জড়িয়ে ‘১৭ মে’

২১ বছরের ব্যবধান অথচ ঘটনাপ্রবাহে কী আশ্চর্য মিল! প্রথম ওয়ানডে জয়ের তারিখেই বাংলাদেশ পেল প্রথম টুর্নামেন্ট জয়ের স্বাদ। দুটি ক্ষেত্রেই অনেক প্রতীক্ষার পর এসেছে সাফল্য এবং যার মঞ্চায়ন বিদেশের মাটিতে। প্রথম ওয়ানডে জয়ের ২১ বছর পর ঠিক সেই ১৭ মে’তেই প্রথম শিরোপা জয় টাইগারদের। ১৯৮৬ সালের ৩১ মার্চ শ্রীলঙ্কার মোরাতোয়ায় পাকিস্তানের বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে ওয়ানডে খেলা শুরু করেছিল বাংলাদেশ। আর তারও প্রায় একযুগ পর ১৯৯৮ সালের ১৭ মে ভারতের হায়দ্রাবাদের লাল বাহাদুর শাস্ত্রী স্টেডিয়ামে কেনিয়ার বিপক্ষে ৬ উইকেটের প্রথম জয়টিও ছিল এই ১৭ মে তারিখে, মানে গত পরশুর দিনে। বাংলদেশের ক্রিকেটের অগ্রযাত্রার রূপকার গর্ডন গ্রিনিজ ছিলেন ১৯৯৮ সালে জাতীয় দলের কোচ। বিখ্যাত স্পিন তারকা মোহাম্মদ রফিক সেদিন ৩ উইকেট নিয়েছিলেন। তারপর দারুণ ব্যাটিং করে ম্যাচসেরার পুরস্কার জিতেন তিনি। ২টি করে উইকেট নিয়েছিলেন খালেদ মাহমুদ সুজন এবং এনামুল হক। এতেই কেনিয়া থেমে যায় ২৩৬ রানে। বাংলাদেশ তখনই জয়ের স্বপ্ন দেখতে শুরু করে। এই জয়ের পেছনে কোচ গ্রিনিজের দারুণ একটি কৌশল শতভাগ কাজে দিয়েছিল। স্পিনার হলেও রফিক নিচের দিকে দারুণ ব্যাট করতেন। বাঁ হাতি অলরাউন্ডারের মারকাটারি ব্যাটিংয়ের সুবিধা পেতে পাকা জহুরি গর্ডন গ্রিনিজ সেদিন তাকে তুলে আনেন ওপেনিংয়ে। আতহার আলী খানের সঙ্গে ওপেনিংয়ে নেমে রফিক খেলেন ইনিংসের সর্বোচ্চ ৮৭ বলে ১১ চার ১ ছক্কায় ৭৭ রানের ইনিংস। এরপর আকরাম খানের ৩৯ রানে ৬ উইকেট এবং ১২ বল হাতে রেখে প্রথম জয়ের স্বাদ পায় বাংলাদেশ। একই দিনে প্রথম ওয়ানডে জয় আর তার ২১ বছর পর কোন ওয়ানডে টুর্নামেন্ট বা তিন জাতি আসরের ট্রফি জয়। গত পাঁচ বছর বিশেষ করে ২০১৫ সালের বিশ্বকাপের আগে থেকে এই আয়ারল্যান্ডের তিন জাতি আসরের ফাইনালের আগে পর্যন্ত বাংলাদেশের প্রায় সব ওয়ানডে জয়ের পিছনে মাশরাফি, সাকিব, তামিম, মুশফিক আর মাহমুদউল্লাহর অবদান সর্বোচ্চ।
প্রায় ৯৫ ভাগ ক্ষেত্রে তারাই সাফল্যের রূপকার, স্থপতি এবং জয়ের নায়ক। প্রতিপক্ষের সাথে লড়াই করে ব্যাট ও বল হাতে সাফল্যের ভিত রচনা এবং সাফল্যের বন্দরে পৌঁছে দেয়া- সব কাজেই পঞ্চপান্ডব অগ্রণী ভূমিকায়। পরশু ১৭ মে শুক্রবার ডাবলিনের মালহিডের ‘দ্যা ভিলেজ’ মাঠে তার ব্যত্যয় ঘটেছে। ম্যাচে টাইগারদের জয়ের দুই মূল রূপকার ও প্রধান নায়ক পঞ্চপান্ডবের কেউ নন। ইনজুরির কারণে সাকিবতো ছিলেনইনা। জয়ের নায়ক দুই তরুণ তুর্কি সৌম্য সরকার আর মোসাদ্দেক হোসেন। এমন নয়, আর কারো কোনো অবদান নেই। শুধু বাঁহাতি ওপেনার সৌম্য আর লেট মিডলঅর্ডার মোসাদ্দেকই দল জিতিয়েছেন। আর কেউ কোন ভূমিকা রাখেননি, তা বলা যাবে না। ২৪ ওভারে ২১০ রানের কঠিন লক্ষ্যে পৌছাতে পঞ্চপান্ডবের দু’জন তামিম আর মুশফিকও অবদান রেখেছেন। তবে শুরুর ঝড় বইয়ে ক্যারিবীয় বোলিংকে লন্ডভন্ড করার কাজটি সেড়েছেন সৌম্য। তার ১৬০.৯৭ স্ট্রাইকরেটে ৪১ বলে ৬৬ রানের ঝড়ো ইনিংসটি তাই বাংলাদেশকে আশা জাগিয়েছে। জয়ের পথে অনেকদূর এগিয়েও দিয়েছে। আর শেষ দিকে ২১৬.৬৬ স্ট্রাইকরেটে মাত্র ২৪ বলে ৫২ রানের উত্তাল ইনিংস (পাঁচটি ছক্কা ও দুটি বাউন্ডারি) খেলে দলকে জয়ের বন্দরে পৌঁছে রাজ্যজয়ী নাবিকের মত শেষ হাসি হেসেছেন তরুণ মোসাদ্দেক। শেষ ২৪ বলে যখন ৩৯ রান দরকার, ঠিক তখনই বিদ্যুতের মত ঝলক খেললো মোসাদ্দেকের ব্যাট। ২১ নম্বর ওভারে ওয়েস্ট ইন্ডিজ ফাস্টবোলার কেমার রোচকে এক্সট্রা কভারের ওপর দিয়ে তুলে মেরে ছক্কা হাঁকানোটাই প্রথম আক্রমনাত্মক শট। সে ওভারে ১২ রান আসার পর রীতিমত আগ্রাসী মূর্তি মোসাদ্দেকের। ২২ নম্বর ওভারে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বাঁহাতি অর্থোডক্স বোলার ফ্যাবিয়ান এলেনের ওপর প্রবল বেগে আক্রমণ। তিন ছক্কা আর এক বাউন্ডারি হাঁকানোসহ ২৫ রান তুলে একদম হিসেব সহজ করে ফেলেন মোসাদ্দেক। আর তখনই জয় নিশ্চিত হয়ে যায় টাইগারদের।

বিজ্ঞাপন

শেয়ার করুন
The Post Viewed By: 264 People

মন্তব্য দিন :

সম্পর্কিত পোস্ট