চট্টগ্রাম রবিবার, ২৯ জানুয়ারি, ২০২৩

সর্বশেষ:

১৮ মে, ২০১৯ | ৩:১০ পূর্বাহ্ণ

কবির কিরণ

ইতিহাস গড়লো বাংলাদেশ

৭ সংখ্যাটি নাকি ভাগ্যের প্রকাশ করে। আসলেই তাই, পরপর ৬টি ফাইনাল হারের পর অবশেষে বাংলাদেশ কোন টুর্নামেন্টের শিরোপা জিতলো ৭ নম্বর ফাইনালে এসেই। গতকাল আয়ারল্যান্ডের ডাবলিনে কঠিন সমীকরণের সাথে লড়াই করে সৌম্য সরকার ও মোসাদ্দেক সৈকতের ব্যাটে ভর করে ওয়েস্ট ইন্ডিজকে ফাইনালে হারিয়েছে ৫ উইকেটে। অথচ এই চ্যাম্পিয়ন হওয়ার সুযোগটা এক সময় প্রকৃতির আশীর্বাদে দানে পাওয়ার মতো হয়ে দাঁড়িয়েছিলো বৃষ্টির বাগড়ায়। তাতে না খেলে ফাইনাল জেতার অতৃপ্তিটা হয়তো কাঁটা হয়ে থাকতো মাশরাফিদের মনে। কিন্তু প্রকৃতি সহায় হওয়ায় তা আর হয়নি। যোগ্যতার ভিত্তিতেই নিজেদের দাপুটে পারফরম্যান্সের জানান দেয় তারা ২৪ ওভারে ২১০ রানের লক্ষ্যটা সহজে জিতে। আর তা সম্ভব হয়েছে ওপেনার সৌম্য সরকারের সাথে মোসাদ্দেকের ঝড়ো ব্যাটিংয়েই। প্রথমে সৌম্য সরকারের ঝড়, এরপর শেষ দিকে এসে ঝড় তুললেন মোসাদ্দেক হোসেন সৈকত। সৌম্যর ২৭ বলে হাফ সেঞ্চুরির পর মোসাদ্দেকের ২০ বল হাফ সেঞ্চুরি। এই দুই ঝড়ো ইনিংসের ওপর ভর করে এই প্রথম নিজেদের ক্রিকেট ইতিহাসে কোনো টুর্নামেন্টে চ্যাম্পিয়ন হলো বাংলাদেশ। গতকালের ম্যাচের শুরুতে ভাগ্যদেবী খুব একটা বাংলাদেশের পক্ষে ছিল না। একেতো ক্যারিবিয় ওপেনারদের ঝড়, তার উপর বৃষ্টির কারণে খেলা দীর্ঘক্ষণ বন্ধ থাকায় ২৪ ওভারের কার্টেল ম্যাচে বাংলাদেশের সামনে লক্ষ্য দাঁড়ায় ২১০ রান। ৫০ ওভারের ম্যাচে বাংলাদেশের টার্গেট যতটা খারাপ বা লম্বা হতে পারতো ২৪ ওভারের কার্টেল ম্যাচে ডাকওয়ার্থ ও লুইস সাহেবদের ক্রিকেটীয় বিশ্লেষণে ২১০ রানের বড় টার্গেটই পেয়ে যায় বাংলাদেশ। আর এই রানকেই সহজে অতিক্রম করে বাংলাদেশ বিশ্বকাপ শুরুর আগে বড় সঞ্জিবনী সুধা পেয়ে গেলো।
২১০ রান, বল মাত্র ১৪৪টি, কঠিন লক্ষ্য বটেই। কিন্তু জবাব দিতে নামা বাংলাদেশ সৌম্য সরকারের ব্যাটে জয়ের স্বপ্নটা দেখতে শুরু করে। ২৭ বলে হাফ সেঞ্চুরি করে সেটা আরও বাড়িয়ে দিয়েছিলেন তিনি। কিন্তু ৪১ বলে ৬৬ রান করার পর সৌম্য বিদায় নিতেই জয়ের কাজটা ধীরে ধীরে কঠিন হতে শুরু করে। মুশফিকুর রহিম, মোহাম্মদ মিথুনরাও চেষ্টা করেন রানের চাকা সমানতালে এগিয়ে নিতে। কিন্তু নিয়মিত বিরতিতে উইকেট পড়তে থাকায় সেটা আরও কঠিন হয়ে যাচ্ছে। দলীয় ১০৯ রানের মাথায় রেমন রেইফারের স্পিন ঘূর্ণিতে বিভ্রান্ত হয়ে ছক্কা মারতে যান সৌম্য। লং অনে ধরা পড়েন সেলডন কটরেলের হাতে। মুশফিকুর রহিম করেন ২২ বলে ৩৬ রান। মিথুনের ব্যাট থেকে আসে ১৪ বলে ১৭ রান। কঠিন সমীকরণ মেলাতে গিয়ে ১৫.৪ ওভারে ১৪৩ রানে ৫ উইকেট হারায় বাংলাদেশ। ৪৮ বলে দরকার ৬৫ রান। জয়ের স্বপ্ন ধূসর হওয়ার সংশয় যখন, তখনই আবির্ভাব মোসাদ্দেকের। ডাবলিনে গতকাল ভারি বৃষ্টিই হয়েছে। মোসাদ্দেকের সৌজন্যে ঝড়ও উঠল। ১৮ বলে যখন দরকার ২৭ রান মাচটা চকিতে নিজেদের হাতের মুঠোয় আনলেন মোসাদ্দেক। এলেনের করা ২২তম ওভারে ৬, ৬, ৪, ৬, ২, ১ মিলিয়ে ২৫ রান তুলে এক ঝটকায় সমীকরণ করে ফেললেন একেবারে সহজ। এরই ফাঁকে বাংলাদেশের ব্যাটসম্যানদের মধ্যে সবচেয়ে দ্রুততম ফিফটির রেকর্ডও গড়লেন মোসাদ্দেক। মোসাদ্দেকের হাতে সমাপ্তি, কিন্তু শুরুটা করেছিলেন সৌম্য সরকার। বাঁহাতি ওপেনারের ৪১ বলে ৬৬ রানের দুর্দান্ত ওই ইনিংসটা গড়ে দিয়েছে ফাইনালের ভিত্তি।
এর আগে টস জিতে ফিল্ডিংয়ের সিদ্ধান্ত নেন টাইগার দলপতি মাশরাফি বিন মুর্তজা। ইনিংসের ২৩তম ওভারে মিরাজ ফিরিয়ে দেন ওপেনার শাই হোপকে। বাউন্ডারি সীমানায় দারুণ ক্যাচ নেন মোসাদ্দেক হোসেন। তার আগে ক্যারিবীয়ান ওপেনার ৬৪ বলে ৬টি চার আর তিনটি ছক্কায় করেন ৭৪ রান। দলীয় ১৪৪ রানের মাথায় প্রথম উইকেট হারায় উইন্ডিজরা। আরেক ওপেনার সুনীল অ্যামব্রিস ৭৮ বলে সাতটি চারে ৬৯ রান করে অপরাজিত থাকেন। তিন নম্বরে নামা ড্যারেন ব্রাভো ৩ রানে অপরাজিত থাকেন।
ম্যাচে খরুচে ছিলেন মুস্তাফিজসহ বাংলাদেশের সকল বোলারই। তবে বৃষ্টিবাধায় ম্যাচের দৈর্ঘ্য কমে আসায় কঠিন লক্ষ্য, আম্পায়ারিং নিয়ে প্রশ্ন, সব বাধা উতরে বাংলাদেশ দূর করেছে ফাইনাল হারের দুঃখ। লিখেছে নতুন ইতিহাস। গতকাল বাংলাদেশ সময় বিকাল পৌনে চারটায় শুরু হয় ম্যাচটি। ইনজুরির কারণে এই ফাইনালে ছিলেন না সাকিব আল হাসান। এছাড়া, আগের ম্যাচে থাকলেও এই ম্যাচে ছিলেন না আবু জায়েদ রাহি, রুবেল হোসেন, লিটন দাস। দলে ফিরেন মেহেদি হাসান মিরাজ, মুস্তাফিজুর রহমান, সৌম্য সরকার, মোহাম্মদ মিথুন।

শেয়ার করুন