চট্টগ্রাম সোমবার, ২০ জানুয়ারি, ২০২০

১৫ ডিসেম্বর, ২০১৯ | ৩:০৬ পূর্বাহ্ন

নিজস্ব ক্রীড়া প্রতিবেদক

দাবাড়– শহীদ কাজী সাদিক হাসান

তিনিই হতে পারতেন প্রথম গ্র্যান্ড মাস্টার

১৯৭১ সালের ২৯ মার্চের চরম বিভিষিকা ময় একটি দিনে পাক হানাদারদের বুলেটে ঝাঝড়া হয়েছে তার বুক, অকালেই ঝড়লো তরতাজা ও অত্যন্ত মেধাবী এক প্রাণ। তিনি হলেন, শহীদ কাজী সাদিক হাসান। তাকে স্মরণ করে চট্টগ্রাম বিশ^বিদ্যালয় (চ.বি.) প্রাক্তন ছাত্র-ছাত্রী সমিতি’ ৮২ একটি আন্তর্জাতিক রেটিং উন্মুক্ত দাবা টুর্নামেন্ট আয়োজন করতে গিয়েই জানা গেল তিনি ‘কী’ ছিলেন। আয়োজকদের দাবি তিনি হতে পারতেন বাংলাদেশের প্রথম গ্র্যান্ড মাস্টার। হতেই হবে। কেননা, প্রথম গ্র্যান্ড মাস্টার হওয়ার মতো ল্যান্ডমার্কের কাছাকাছিতে তিনি পৌঁছেও গিয়েছিলেন। ১৯৭০ সালে অল-পাকিস্তান চেস চ্যাম্পিয়নশিপে পূর্ব পাকিস্তান চ্যাম্পিয়ন হয়েছিলেন কাজী সাদিক হাসান। সে প্রতিযোগিতায় তিনি তৎকালীন পাকিস্তান চ্যাম্পিয়ন জহিরুদ্দিরন ফারুকিকে পরাজিত করেছিলেন। কিন্তু ঘাতকদের গুলিতে খান খান হয়ে গেলে সাদিকের সে স্বপ্ন। অসাধারন মেধাবী ও সাহসী কাজী সাদিক হাসান ১৯৫১ সালের ১৬ জুলাই জন্মগ্রহণ করেন, থাকতেন লালখান বাজারের চানমারী রোডে। বাবা শহীদ কাজী মুহাম্মদ ইউসুফ জিপিওতে চাকরি করতেন। সাদিক ১৯৬৮ সালে সেন্ট প্লাসিড স্কুল থেকে ৪ বিষয়ে লেটারসহ এস এস সি পাশ করে চট্টগ্রাম কলেজে ভর্তি হন। কৃতি এই দাবারু ১৯৭১ সালে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজের ছাত্র (১৪-তম ব্যাচ) ছিলেন। ২৯ মার্চ একদল পাকিস্তানী সৈন্য কাজী সাদিক হাসান, তার বাবা, চাচা, ফুফাসহ মোট ৮জনকে তাদের বাসা থেকে ধরে নিয়ে যায়। দামপাড়া পুলিশ লাইনের পেছনে গুলি করে তাদের লাশ পাহাড়ের ঢালে ছুঁড়ে ফেলে দেয়, যে মৃতদেহ খুজেই পাওয়া যায়নি। তার এই গৌরবোজ্জ¦ল আত্মদান এবং তার অনন্যসাধারণ দাবা প্রতিভা নতুন প্রজন্মের কাছে পুনরায় তুলে ধরার মানসে বিজয়ের ডিসেম্বর মাসেই শহীদ কাজী সাদিক হাসান আন্তর্জাতিক রেটিং উন্মুক্ত দাবা টুর্নামেন্টের আয়োজন করা হয়েছে। তিনি ব্লাইন্ড ফোল্ড ( বোর্ড না দেখে খেলা) -দাবায় বেশ পারদর্শী ছিলেন। তার সময়ের অন্যতম শ্রেষ্ঠ এই বিতার্কিক জার্মান এবং রাশিয়ান ভাষায়ও দক্ষ ছিলেন। তিনি রাশিয়ান ‘কালচার এন্ড লাইফ’ পত্রিকায় চেস প্রোবলেম এন্ড স্টাডিজ শিরোনামে দাবা বিষয়ক সমস্যার সমাধান দিতেন।

বিরল প্রতিভাধর শহীদ কাজী সাদিক হাসানকে গতকাল বুুদ্ধিজীবি দিবসেই ¯œরণ করেছে চট্টগ্রাম বিশ^বিদ্যালয় (চ.বি.) প্রাক্তন ছাত্র-ছাত্রী সমিতি’ ৮২। তাদের মতে তিনিও একজন বুদ্ধিজীবি। এখন একবার ভাবুনতো ঐ সময়ে কাজী সাদিকের কেমন লেগেছিলো, যখন ৮ জনের সারিতে তাকে দাড় করানো হয়েছিলো। তিনি কি একেবারে সামনেই ছিলেন। নাকি শেষে, নাকি মাঝামাঝিতে। যাই হোক, দেশের ২ লক্ষ শহীদের সাথে তার এই আত্মদান বৃথা যায়নি। তাদের কারণেই বাংলাদেশের লাল সবুজের পতাকা পৃথিবীর মানচিত্রে অংকিত হয়েছে। লক্ষ প্রাণের দামে কেনা এই রক্তলাল স্বাধীনতার এক সূর্যসৈনিকের নাম শহীদ কাজী সাদিক হাসান।

The Post Viewed By: 79 People

সম্পর্কিত পোস্ট