চট্টগ্রাম সোমবার, ০৯ ডিসেম্বর, ২০১৯

সর্বশেষ:

১৭ নভেম্বর, ২০১৯ | ১:৪৫ পূর্বাহ্ন

স্পোর্টস ডেস্ক

টসের সিদ্ধান্তটা কঠিন ছিল : মুমিনুল

পর্যাপ্ত টেস্ট না খেলা ব্যর্থতার কারণ

চলতি বছর ভারত খেলেছে তৃতীয় সর্বোচ্চ টেস্ট। বাংলাদেশ খেলেছে দ্বিতীয় সর্বনিম্ন টেস্ট। ভারত ৭ টেস্টের বিপরীতে বাংলাদেশ খেলেছে ৪টি। ভারত ৭ টেস্টের ৬টিই জিতেছে। ১টি ড্র করেছে। বাংলাদেশ এখনও সাফল্যের মুখ দেখেনি। নিউজিল্যান্ডের মাটিতে ২ টেস্ট হারের পর ঘরের মাঠে আফগানিস্তানের বিপক্ষে হেরেছে। ইন্দোরে ভারতের বিপক্ষে দুই ম্যাচ সিরিজের শুরুটা হল হার দিয়ে। হলকার স্টেডিয়ামে ভারতের সামনে দাঁড়াতে পারেনি দল। ইনিংস ও ১৩০ রানে হেরেছে দল। ১১৬ টেস্টে এটি বাংলাদেশের ৮৭তম হার। আর ইনিংস ব্যবধানে ৪১তম হার। টেস্ট ক্রিকেটের দুই দশকে পা দিলেও বাংলাদেশ এখনও টেস্ট মেজাজটাই বুঝে উঠেনি। দলের এমন ব্যর্থতায় বিষন্ন অধিনায়ক মুমিনুল হক। ইন্দোর টেস্ট দিয়েই মুমিনুলের অধিনায়কত্বের যাত্রা শুরু হয়েছে। আর প্রথম যাত্রায় পেয়েছেন বড় ধাক্কা। কেন বাংলাদেশ দীর্ঘ সময়েও টেস্ট খেলা আয়ত্ব করতে পারল না। কেন সাফল্যের হার এতোটা তলানিতে? নতুন অধিনায়কের মতে, পর্যাপ্ত টেস্ট না খেলা ব্যর্থতার বড় কারণ। ইন্দোরে ম্যাচ শেষে মুমিনুল বলেছেন, ‘আমরা খুব বেশি টেস্ট খেলি না। আপনি যদি দেখেন গত সাতমাসে দুই টেস্ট খেলেছি। ব্যর্থতার জন্য পর্যাপ্ত টেস্ট না খেলা একটা মূল কারণ।’

ইন্দোরের ম্যাচ দিয়ে বাংলাদেশ টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপে পা রেখেছে। শুরুতেই পয়েন্ট হারাল বাংলাদেশ। টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশ দ্বিপাক্ষিক সিরিজ বাদেও খেলবে মোট ১৪ টেস্ট। ইন্দোরের ম্যাচের পর বাকি ১৩ ম্যাচ। এর মধ্যে শ্রীলঙ্কা ও ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে খেলবে সর্বোচ্চ ৩টি করে টেস্ট। এছাড়া অস্ট্রেলিয়া, পাকিস্তান ও নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে খেলবে ২টি করে টেস্ট। ভারত সিরিজের পর দুই বছরের মধ্যে আরও পাঁচটি সিরিজ খেলবে বাংলাদেশ। তিনটি ঘরের মাঠে, দুটি প্রতিপক্ষের মাঠে। নতুন এ চ্যাম্পিয়নশিপের মধ্য দিয়ে টেস্ট ম্যাচ বেড়েছে বাংলাদেশের। মুমিনুলকে আশা দেখাচ্ছে টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপ। তার বিশ্বাস যত বেশি টেস্ট খেলবে বাংলাদেশ তত বেশিই উন্নতি করবে সাদা পোশাকে, ‘টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপ সবার জন্যই বড় সুযোগ। আমরা যারা বেশি টেস্ট খেলার সুযোগ পাই না আমাদের জন্য অবশ্যই খুশির দিক। আইসিসি এটা না করলে আমরা খুব বেশি টেস্ট পেতাম না। অবশ্যই সবার জন্যই এটা ভালো।’

এ ম্যাচে ইনিংস পরাজয়ের পরও ইতিবাচক দিক দেখছেন দলপতি। মুমিনুল বলেন, আমি বেশ কিছু ইতিবাচক দিক পাচ্ছি। বিশেষ করে আবু জায়েদ রাহী চার উইকেট পেয়েছে। মুশফিকুর দুই ইনিংসেই (৪৩ ও ৬৪) দারুণ খেলেছে। মুমিনুল ব্যাটিং ব্যর্থতার জন্য কাঠগড়ায় দাঁড় করিয়েছেন দলের সবাইকেই, ‘আমরা দল হিসেবে খেলতে পারিনি। জুটি করতে পারিনি। এটা খুব ভালো দলীয় পারফরম্যান্স নয়। ওদের যে তিনজন বোলার আছে তাদেরকে নিয়ে ভারত এখন বিশ্বের এক নম্বর বোলিং দল। আমরাও সেভাবে সুযোগ কাজে লাগাতে পারিনি। মিস করে গিয়েছি ভালো সময়। ব্যাটিং এপ্রোচ ঠিক ছিল। ওরা বাজে বল কমই দেয়। এমন প্রতিপক্ষের বিপক্ষে আপনাকে ধৈর্য ধরে ব্যাটিং করতে হবে। উইকেটে আমাদের ১৫-২০ ওভার টেকার চেষ্টা করতে হবে।’

দেশের টেস্ট স্পেশালিস্ট ব্যাটসম্যান হিসেবে পরিচিতি মুমিনুল হক আরও বলেন, ম্যাচের ফলে টস প্রভাব ফেলেছে। এটা বেশ কঠিন ছিল। আমরা জিতে ব্যাটিং বেছে নিয়েছিলাম। সিদ্ধান্তটা আসলেই কঠিন ছিল। ইডেনে দুই দল দ্বিতীয় টেস্টে মাঠে নামবে। ম্যাচটি হবে দিবারাত্রির। ইডেনের ম্যাচ দিয়ে দুই দল প্রথম দিবারাত্রির টেস্ট খেলবে।

The Post Viewed By: 33 People

সম্পর্কিত পোস্ট