চট্টগ্রাম বৃহষ্পতিবার, ১২ ডিসেম্বর, ২০১৯

১৫ নভেম্বর, ২০১৯ | ২:২৭ পূর্বাহ্ন

হুমায়ুন কবির কিরণ

মুশফিকরা কি ব্যাটিং ভুলে গেলেন?

বাংলাদেশ ১৫০/১০, ভারত ৮৬/১ (অসমাপ্ত)

সাদা বলে যে বাংলাদেশকে মিলেছিলো ভারতে, সেই বাংলাদেশই উধাও ইন্দোরে লাল বলের লড়াইয়ে। টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপে নিজেদের প্রথম ম্যাচে গতকাল ভারতের বিরুদ্ধে টস জিতে আগে ব্যাট করতে নেমে ৫৮.৩ ওভার ব্যাট করে মাত্র ১৫০ রানেই অল-আউট হয়ে যায় অতিথি টাইগাররা। যে পিচে রানের জন্য হাপিত্তেশ করেছেন টাইগার উইলোবাজরা সে পিচেই ওয়ানডে স্টাইলে ব্যাট করে প্রথম দিনের স্টাম্প পর্যন্ত মাত্র ২৬ ওভারে রোহিত শর্মার উইকেটটি হারিয়ে স্বাগতিকরা তুলে নিয়েছে ৮৬ রান। ভারতের ইনিংসে অষ্টম ওভারের দ্বিতীয় বলে আবু জায়েদ রাহীর বলে আউট হন ৬ রান করা রোহিত শর্মা। ভারতীয় ব্যাটসম্যানদের সমীহ আদায় করা এই পেসার ২৪তম ওভারে ফের বল হাতে নিয়েই সুযোগ তৈরি করেছিলেন। কিন্তু প্রথম স্লিপে দাঁড়িয়ে আগারওয়ালের ক্যাচ হাতে নিয়েও ফেলে দেন ইমরুল কায়েস। দিনশেষে ওই ক্যাচ মিসের আক্ষেপ নিয়েই মাঠ ছাড়তে হয়েছে বাংলাদেশকে। ৩২ রানে জীবন পাওয়া আগারওয়াল অপরাজিত আছেন ৩৭ রানে। সাথে চেতেশ্বর পূজারা ব্যাটিংয়ে ৪৩ রান নিয়ে।

টস জিতে ইতিবাচক ও সাহসী সিদ্ধান্তই নিয়েছিলেন বাংলাদেশ অধিনায়ক মুমিনুল হক। উইকেটে ঘাস আছে, হালকা আদ্র কন্ডিশনে প্রতিপক্ষ দলে দুর্দান্ত তিন ফাস্ট বোলার প্রথম দিনের সকালটা দুর্বিষহ করে তুলতে পারেন, সব জেনেও মুমিনুল ব্যাটিং নিয়েছেন। ভারতীয় অধিনায়ক বিরাট কোহলি বলেছেন, ‘আমরা বোলিংই নিতে চেয়েছিলাম। তবে কঠিন কন্ডিশনে আমাদের ব্যাটিং করতে আপত্তি নেই।’ একাদশে সাত ব্যাটসম্যান নেওয়ার অর্থই বাংলাদেশের লক্ষ্য টেস্ট ড্র করা। অবশ্য ইন্দোর টেস্টের প্রথম দিনে বাংলাদেশ ব্যাটসম্যানদের যে ব্যাটিং দেখা গেছে, তাতে ড্র ঠিক নয়, কোনোভাবে ম্যাচটা পাঁচ দিনে নিয়ে যাওয়াটাই ছিল তাঁদের লক্ষ্য। তবে দিনের শুরুটা যদি শেষের ইঙ্গিত দেয় তাহলে এই টেস্ট পাঁচ দিন কেন এ টেস্ট চতুর্থ দিনেও যায় কিনা ঘোর সংশয়।

স্বাগতিক বোলাররা বলতে গেলে মুড়িমুড়কির মতো তুলে নিয়েছেন বাংলাদেশের উইকেটগুলো। তেমন কষ্ট করতে হয়নি। যতটা না কঠিন বোলিং করেছেন তারা, তার চেয়েও বেশি কঠিন মনে হলো বাংলাদেশি ব্যাটসম্যানদের এপ্রোচ এন্ড এপ্লিকেশন। টেস্ট কিভাবে খেলতে হয়, সেটিই যেন ভুলে গিয়েছেন টাইগার ব্যাটসম্যানরা। ভুলভাল শট, বোকার মতো স্ট্যাম্প ছেড়ে দেয়া কিংবা খারাপ বলকে উইকেটে টেনে নেয়ার মতো কাজ প্রথম ইনিংসে চোখ বন্ধ করেই করেছেন মুশফিক-মাহমুদউল্লাহরা। যার ফলশ্রুতিতে বিপর্যয়। ব্যাটিংয়ে নেমে শুরুতেই বড় ধাক্কা খায় বাংলাদেশ। ১২ রানের মধ্যে দুই ওপেনার ইমরুল কায়েস আর সাদমান ইসলাম সমান ৬ করে রান নিয়ে সাজঘরের পথ ধরেন। তারপরও মুমিনুল (৩৭), মুশফিকদের (৪৩) ব্যাটে কিছুটা আশা জেগেছিল। মনে হচ্ছিল, মোটামুটি মাঝারি মানের একটি পুঁজি দাঁড় করানো যাবে। একটা সময় যে ৫ উইকেটে ১৪০ রান ছিল

টাইগারদের। সেখান থেকে মাত্র ১০ রান তুলতেই বাকি ৫ উইকেট হারিয়ে বসে সফরকারিরা। অথচ নিচের দিকেও বেশ কয়েকজন ব্যাটসম্যান ছিলেন, যারা ব্যাটিংটা খারাপ করেন না। ১১৫ রানে ৫ উইকেট হারানোর পর ষষ্ঠ উইকেটে মুশফিক আর লিটন দাস মিলে গড়েন ২৫ রানের একটি জুটি। ওই জুটিটা ভাঙতেই সব শেষ। মোহাম্মদ শামির বলে ব্যাট ছুঁইয়ে বোকার মতো বোল্ড হন মুশফিক। ঠিক পরের বলেই এলবিডব্লিউ মেহেদী হাসান মিরাজ। পরের ওভারের প্রথম বলে ইশান্ত শর্মার শিকার লিটন দাস (২১)। অর্থাৎ টানা তিন বলে তিন উইকেট হারায় বাংলাদেশ। এক ওভার পর রানআউট হয়ে যান তাইজুল ইসলাম (১)। খুব বেশি দেরি করেননি এবাদত হোসেনও। দশম ব্যাটসম্যান হিসেবে ২ রান করে বোল্ড হন উমেশ যাদবের বলে। টপঅর্ডার ব্যাটসম্যানদের আত্মাহুতির মিছিলে এবাদতকে দোষ দেয়া যাবে না। তবে লিটন, মিরাজ, তাইজুলরা যে একটু প্রতিরোধও গড়তে পারবেন না, কে জানতো!

The Post Viewed By: 54 People

সম্পর্কিত পোস্ট