চট্টগ্রাম বৃহষ্পতিবার, ১২ ডিসেম্বর, ২০১৯

১৪ নভেম্বর, ২০১৯ | ১২:৪২ পূর্বাহ্ন

স্পোর্টস ডেস্ক

মুমিনুলের দুঃসাহসিক অভিযানের শুরু আজ

তিনি টেস্টে এখনও পর্যন্ত বাংলাদেশের শীর্ষ রান সংগ্রাহক নন। রান তোলায় তার অবস্থান ৭ নম্বরে। তামিম ইকবাল, মুশফিকুর রহিম, সাকিব আল হাসান, হাবিবুল বাশার সুমন, মোহাম্মদ আশরাফুল ও মাহমুদউল্লাহ রিয়াদের পরে। কিন্তু তারপরও টেস্টে মুমিনুল হক হচ্ছেন টিম বাংলাদেশের বড় এক পারফরমার। সফলতম টেস্ট উইলোবাজ। ম্যাচ হিসেব করলে, তার গড়পড়তা সেঞ্চুরিই বেশি। সবচেয়ে বেশি সেঞ্চুরি যার, সেই তামিম ইকবাল ৯টি সেঞ্চুরি করেছেন ৫৬ টেস্টে। সেখানে মুমিনুল হকের ৩৬ টেস্টেই ৮ সেঞ্চুরি। সেটাই শেষ নয়। আসল কথা হলো, বাংলাদেশের ব্যাসম্যানদের মধ্যে টেস্ট গড় (৪১.৪৭) সবচেয়ে সমৃদ্ধ, ভাল ও বেশি এ বাঁ-হাতি ব্যাটসম্যানের। এছাড়া ধারাবহিকতাও তার সবচেয়ে ভাল। সে কারণেই সেই ২০১৩ সালে অভিষেকের পর থেকে যত সময় গড়িয়েছে ততই নির্ভরতার প্রতীক হয়ে উঠেছে তার ব্যাট। এ ছোট-খাট গড়নের মানুষটিই ব্যাটিংয়ে বাংলাদেশের বড় আস্থার প্রতীক। আজ থেকে ভারতের বিপক্ষে দুই ম্যাচের টেস্ট সিরিজে মাঠে নামছে বাংলাদেশ। দুই পরিণত, অভিজ্ঞ যোদ্ধা থাকার পরও এ কঠিন ও চ্যালেঞ্জিং মিশনে বাংলাদেশের অধিনায়ক সাগর পাড়ের জেলা কক্সবাজারের ২৮ বছরের মুমিনুল। তার টেস্ট ক্যাপ্টেন্সির শুরু কেমন হবে? মুমিনুলের নেতৃত্বে কি করবে টাইগাররা? কৌতুহলি প্রশ্নের শেষ নেই। সন্দেহ নেই তার নতুন পথের যাত্রা সহজ হবে না। ভারত নিজ মাটিতে বরাবরই টেস্টে দারুণ শক্তিশালী। প্রবল এক প্রতিপক্ষ। এখন ভারত মানেই বিরাট কোহলি, রোহিত শর্মা, চেতেশ্বর পুজারা আর আজিঙ্কা রাহানের মত বিশ্বমানের ব্যাটসম্যানের দল। ভারত মানেই ঈশান্ত শর্মা, উমেষ যাদব আর মোহাম্মদ শামির মত সময় সেরা পেসারদের বারুদমাখানো পেস বোলিং আর রবিচন্দ্রন অশ্বিন ও রবীন্দ্র জাদেজা জাদুকরি স্পিন বোলিংয়ের এক দুর্ধষ্য দল। সেই দলটির বিপক্ষে প্রথমবার অধিনায়ক হয়ে দুই ম্যাচের সিরিজ খেলতে যাওয়া। ভয়ে-ডরে কুঁকড়ে যাওয়ার কথা, কিন্তু মুমিনুলের কোনই বিকার নেই।

টাইগার অধিনায়ক বলেন, ‘কোনোরকম নেতিবাচক চিন্তা মাথায় নেই আমার। পজিটিভ ভাবতে চাই। মাঠে ড্র’র জন্য যেতে চাই না। তিনদিন না চারদিন টিকে থাকাও লক্ষ্য নয়। আমি যখন মাঠে নামবো, জেতার জন্যই মাঠে নামবো।’ কিন্তু জিততে চাইলে তো আর হবে না! এ কঠিন ও চ্যালেঞ্জিং মিশনে তিনি পাচ্ছেন না, দুই প্রধান চালিকাশক্তি সাকিব আল হাসান এবং তামিম ইকবালকে। দুই প্রধান চালিকাশক্তি ও নির্ভরযোগ্য পারফরমার ছাড়া টেস্ট জেতা যে, হঠাৎ এভারেস্টের চুড়ায় ওঠার মত কঠিন। আর তারচেয়েও বড় কথা, টেস্ট জিততে ভাল ব্যাটিং, বড় স্কোরের পাশাপাশি সবচেয়ে বেশি দরকার ধারালো বোলিং। যে ডিপার্টমেন্টের মূল পারফরমার হতে পারতেন সাকিব। এতগুলো নেতিবাচক দিক, বাঁধা-বিপত্তি অতিক্রম করা কি চাট্টিখানি কথা? মুমিনুল কি তা পারবেন? দেখা যাক শেষ পর্যন্ত সাহসী মুমিনুলের নতুন যাত্রা কেমন হয়?

The Post Viewed By: 49 People

সম্পর্কিত পোস্ট