চট্টগ্রাম শুক্রবার, ০৬ ডিসেম্বর, ২০১৯

১২ নভেম্বর, ২০১৯ | ১:২৯ পূর্বাহ্ন

ফিজ হঠাৎ কেন ‘ফিউজ’?

মুস্তাফিজের বোলিংয়ের সামনে ব্যাটসম্যানদের উড়ে যাওয়া বা উইকেট উপড়ে পড়ার দৃশ্য শুরুতে প্রায় নিয়মিত থাকায় ভক্ত-সমর্থকরা আদর করে মুস্তাফিজকে ডাকতেন- দ্যা ফিজ!

২০১৬ সালের আইপিএলে দুর্দান্ত সাফল্যের প্রেক্ষিতে মুস্তাফিজুর রহমানের নামের পাশে এই পদবীটা বসে যায়। কাটার, ফুললেন্থ, কোনাকুনি বোলিংয়ের দক্ষতা, স্লোয়ার ডেলিভারি, স্পিনের ভঙ্গিতে শেষ মুহূর্তে গ্রিপ বদলে ফেলা, স্লোয়ার বাউন্সার, ফাস্টার ইয়র্কার- পেস বোলিংয়ের এসব বৈচিত্র্যময় গুণাবলী তাকে বিশ্ব ক্রিকেটে বিস্ময়কর বোলারের মর্যাদা দিয়েছিল। সেই গল্প এখন পুরনো। ফিজ যে এখন প্রায় ‘ফিউজ’ হওয়ার পথে! সর্বশেষ সাতটি আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টিতে মুস্তাফিজুর রহমানের বোলিং পারফরম্যান্স পরিষ্কার জানান দিচ্ছে-সামথিং ইজ রং। চলতি বছর সবমিলিয়ে ৭টি আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টি খেলা মুস্তাফিজের উইকেট শিকারের সংখ্যা মাত্র ৪টি। আর ভারতের বিপক্ষে শেষ হওয়া তিন ম্যাচের সিরিজে কোনো উইকেটই পাননি। তিন ম্যাচেই কখনোই বল হাতে প্রভাবী ভূমিকা রাখা তো দূরের কথা, বরং সঙ্কট আরো বাড়িয়েছেন। অথচ এই সিরিজে তিনিই ছিলেন দলের বোলিং বিভাগে সবচেয়ে অভিজ্ঞ এবং সিনিয়রদের একজন।

আন্তর্জাতিক অঙ্গনে একজন ক্রিকেটারের মন্দ সময় যেতেই পারে। সম্ভবত টি-টোয়েন্টিতে মুস্তাফিজেরও সেই গ্রহণকাল চলছে। কিন্তু তাই বলে একজন ম্যাচ উইনার বোলার হঠাৎ করে তার বোলিংয়ের বেসিক কেন ভুলে যাবেন? নাগপুরের শেষ ম্যাচে ৪ ওভারের বোলিংয়ের শতকরা ৭৫ ভাগ বল শর্ট পিচে ফেলেছেন মুস্তাফিজ। অথচ স্লো এবং গ্রিপিং এই উইকেট ছিল তার বোলিংয়ের জন্য আদর্শ ক্ষেত্র। ফুললেন্থে বল ফেলার মতো সাহস না দেখালে কাটার কোনো কাজে লাগবে না, নাগপুরে লাগেওনি। ২২ গজের লড়াইয়ে কৌশল, দক্ষতা, উৎকর্ষতার সঙ্গে মানসিক দৃঢ়তাই সবচেয়ে বড় অস্ত্র। সেই দৃঢ়তার বড় বেশি ঘাটতি দেখা যাচ্ছে মুস্তাফিজের বোলিংয়ে। এক সময়ের চ্যাম্পিয়ন বোলারকে হঠাৎই এখন অনেক বেশি মামুলি দেখাচ্ছে। অসাধারণ হয়ে উঠা একজন আকস্মিকভাবে যেন এখন অতিশয় সাধারণ! ভারতের বিপক্ষে তিন ম্যাচের এই সিরিজে বাংলাদেশ অনেক দিন মনে রাখলেও মুস্তাফিজ কিন্তু দ্রুতই ভুলে যেতে চাইবেন। এই সিরিজ তার জন্য এরকম-‘ঐ যে, আমি যে সিরিজে উইকেট শূন্য ছিলাম!’

The Post Viewed By: 39 People

সম্পর্কিত পোস্ট