চট্টগ্রাম শুক্রবার, ২২ নভেম্বর, ২০১৯

সর্বশেষ:

২৩ অক্টোবর, ২০১৯ | ২:১২ পূর্বাহ্ন

দেবাশীষ বড়–য়া দেবু

শেখ কামাল ক্লাব ফুটবলে হারে শুরু বসুন্ধরার

কৃতিত্বপূর্ণ জয় কেরালা এফ সি’র

বাংলাদেশের সেরা দলকে হারিয়ে শেখ কামাল আন্তর্জাতিক ক্লাব কাপ ফুটবলে যাত্রা শুরু করেছে সবশেষে আমন্ত্রণ পেয়ে সবশেষে খেলতে আসা ভারতের শ্রী গকুলাম কেরালা এফ সি। গতকাল এম এ আজিজ স্টেডিয়ামে ফ্লাড লাইটে অনুষ্ঠিত ম্যাচে কেরালা এফ সি সহজেই ৩-১ গোলে বসুন্ধরা কিংসকে হারিয়েছে। এখন সকলের ধারণা এটাই যে, সবশেষে ট্রফিটাও কি কেরালা এফ সি ঘরে তুলছে নাকি। দর্শকদের ধারণাটা খুব একটা অমূলক নহে। ফুটবল খেলা দেখতে দেখতে অভিজ্ঞতার ঝুলিটা এতোটাই পরিপূর্ণ হয়েছে যে, সেটা তারা বলতেই পারে। কেরালা দলের শক্তি সম্পর্কে কারো খুব একটা ধারণা ছিল না। কিন্তু যখন জানা যায়, অতিসম্প্রতি দলটি ভারতের শতবর্ষীয় ডুরান্ড কাপে চ্যাম্পিয়ন হয়েছে এবং এতে দলটি সেমিতে ইস্টবেঙ্গল এবং ফাইনালে ৫ স্পেনিশ এবং ১ জন ত্রিনিদাদ টোবাগো

সমৃদ্ধ মোহনবাগানকে হারায়। তখন দলটির প্রতি কিছুটা অনেকেরই আস্থা বেড়ে যায়। এরপর গতকাল কেরালা এফ সি যখন দেশ সেরা বসুন্ধরা কিংসকে হতাশায় ডোবায় তখন ভারতের দলটি’র প্রতি প্রত্যাশা অনেক উঁচুতে ওঠে যায়।
অন্যদিকে নামের প্রতি মোটেও সুবিধে করতে পারেনি বসুন্ধরা কিংস। দেশ সেরা ৮ তারকা ফুটবলারের সাথে ৩ বিদেশি’র সংযোগে শুরুতে দাপটে খেলার চেষ্টা করলেও শেষ পর্যন্ত কেরালা এফ সি’র শক্তি আর গতির সাথে তাল মিলিয়ে চলতে পারেনি বসুন্ধরা কিংস। ৬ জন বিদেশিকে নিয়ে কেরালা এফ সি দৈহিক গঠন, ফিজিক্যাল ফিটনেস, গতি ও শারীরিক সক্ষমতার যে নমুনা দেখিয়েছে, মূলত সেটাই ম্যাচের পার্থক্য গড়ে দেয়। গতকালের ম্যাচ সেরা জয়ী দলের ত্রিনিদাদ অ্যান্ড টোবাগোর তারকা ফুটবলার নেথানেইল গার্সিয়া মাঠে অনবদ্য নৈপুণ্য প্রদর্শণ করেছেন। ২টি গোলে এসিস্ট করার পাশাপাশি বিদ্যুৎ গতির শটে যে গোলটি করেছেন, তাকে অনেকেই এ টুর্নামেন্টের এখনো পর্যন্ত সেরা গোল হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন। খেলা শেষে সিডিএ চেয়ারম্যান জানে আলম দোভাষ ডলফিন ট্রফি এবং চট্টগ্রামের মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দীন প্রাইজমানি তুলে দেন। এ সময় টুর্নামেন্ট কমিটির প্রধান সমন্বয়কারী তরফদার রুহুল আমিন এবং চট্টগ্রামের প্রবীণ ক্রীড়া সংগঠক শাহাবুদ্দিন বাবর আলী উপস্থিত ছিলেন। খেলার ৬ মিনিটেই গোল পেয়ে যেতো কেরালা। এ সময়ে কেরেলার নেথানেইল গার্সিয়ার প্রায় ৩৫ গজ থেকে মারা বিপজ্জনক ফ্রি-কিক প্রাচীর ভেদ করে সরাসরি কিপার জিকুর আয়ত্বে চলে যায়। এরপর খেলায় আক্রমণে কুশলী মনোভাব দেখায় বসুন্ধরা কিংস। এতে দুটো সুযোগ থেকে অন্তত একটিও কাজে আসলে খেলার চিত্র পালটে যেতে পারতো। সেটাতো হয়-ই-নি, উল্টো ধারার বিরুদ্ধে গোল হজম করে পিছিয়ে যায়। যা পরে আরকোনভাবেই কাটিয়ে ওঠা সম্ভব হয়নি। উপরন্তু আরো ২টি গোল খেয়ে সেমিফাইনালে খেলার পথে বেশ কিছুটা পিছিয়ে পড়লো। এখন বাকি দু ম্যাচে জয় না পেলে শেষ চারে খেলাটা বসুন্ধরা কিংস’র কাছে অত্যন্ত কঠিন হয়ে ওঠবে।

খেলার ৮ম মিনিটে গোলের প্রথম সুযোগ পায় বসুন্ধরা। কিন্তু ডি-বক্সের ভেতর থেকে বিপলুর শট অল্পের জন্য বাইরে দিয়ে যায়। ১৪ মিনিটে আবারো সুযোগ আসে বসুন্ধরার। রবিউলের কর্নার থেকে অধিনায়ক কলিংড্রেসের হেড দ্বিতীয় পোস্ট ঘেঁষে গেলে তাদের হতাশায় পুড়তে হয়েছে। ২৫ মিনিটে এগিয়ে যায় কেরালা। এ গোলের উৎস ছিলেন ম্যাচ সেরা গার্সিয়া। বা দিক থেকে হাওয়া বল ভাসিয়ে দিয়েছিলেন। এতে উগান্ডার দীর্ঘদেহী স্ট্রাইকার হেনরি কিসেকা বসুন্ধরার দুই দেশ সেরা ডিফেন্ডার ডিফেন্ডার ইয়াসিন খান ও ইব্রাহিম’কে শারীরিক সক্ষমতায় ঘায়েল করে মাটিঘেঁষা কোনাকুনি শটে গোল করেন (১-০)। ৩১ মিনিটে দ্বিতীয় গোল পেয়ে যায় কেরেলা। ডানপ্রান্তে বক্সের বাইরে থেকে নেথানেইল গার্সিয়ার ফ্রি কিক থেকে দুর্দান্ত শট বসুন্ধরা ডিফেন্ডার ও কিপারকে বোকা বানিয়ে জালে আশ্রয় খুঁজে নেয় (২-০)। ৪৪ মিনিটে কলিংড্রেসের সেন্টার থেকে রবিউলের শট বাইরে গেলে প্রথমার্ধে ২-০ গোলে পিছিয়ে থেকে বিরতিতে যায় বসুন্ধরা কিংস।

দ্বিতীয়ার্ধে ভাল একটা শুরুর প্রত্যয়ে মাঠে নামা বসুন্ধরা কিংস। কিন্তু শুরুতে আবারো গোল খেয়ে ম্যাচ থেকে অনেকটাই ছিটকে যায় বাংলাদেশের চ্যাম্পিয়নরা। ডানপ্রান্ত থেকে আবারো নেথানেইল গার্সিয়ার সেন্টারে বক্সে ফাঁকায় পেয়ে দর্শনীয় শটে জালের ঠিকানা খুঁজে পান হেনরি (৩-০)। পরের মিনিটে বিশ^নাথের সুন্দর লবে রবিউলের হেড লক্ষ্যভ্রষ্ট হলে হতাশা বাড়ে বসুন্ধরার। ২৮ মিনিটে বদলি মতিন মিয়া ব্যবধান কমালে ম্যাচে কিছুটা গতি আসে। বিশ^নাথের ক্রসে কেরালা বক্সে সৃষ্ট জটলায় প্রথমে জালালের হেড ও পরে কিংসলের শট ডিফেন্সের গায়ে লেগে ফিরে আসার পর বাঁ পায়ের শটে গোল করেন মতিন (৩-১)। পরপরই খুদোর জোরালো শট সাইডবারে লেগে প্রতিহত হলে গোল বঞ্চিত হয় বসুন্ধরা। ৩৫ মিনিটে ইমনের প্লেসিং শট কেরালা কিপার ওবাইও কর্নারের বিনিময়ে নিশ্চিত গোল রক্ষা করেন। শেষ দিকে বদলী রানা’র শট আবারো সেই ওবাইও ধরে ফেললে পরাজয়ে গ্লানি নিয়ে মাঠ ছাড়ে বসুন্ধরা কিংস।

The Post Viewed By: 115 People

সম্পর্কিত পোস্ট