চট্টগ্রাম বৃহষ্পতিবার, ১৪ নভেম্বর, ২০১৯

সর্বশেষ:

২২ অক্টোবর, ২০১৯ | ১:১৭ পূর্বাহ্ণ

স্পোর্টস ডেস্ক

যে দাবিতে ক্রিকেটারদের ধর্মঘট

অনেকটাই চাপা ক্ষোভের বিস্ফোরণ। দীর্ঘদিন ধরেই ব্যক্তিগতভাবে এই কথাগুলো বলে আসছিলেন ক্রিকেটাররা। কখনো সাকিব, কখনো তামিম, কখনো বা মাশরাফি। কিংবা জাতীয় দলের বাইরে থাকা মোহাম্মদ শরীফ, মোশাররফ হোসেন রুবেলরা। এবার সব ক্রিকেটার আসলেন এক ছাতার নিচে। এক মঞ্চে দাঁড়িয়ে আঙুল তুললেন দেশের ক্রিকেটের সর্বোচ্চ সংস্থা বিসিবির দিকে। মিরপুরে আজ সাকিব, তামিম, মুশফিকসহ পঞ্চাশের বেশি ক্রিকেটার সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়েছিলেন। ১১ দফা দাবি তুলে ধর্মঘটের ডাক দিয়েছেন ক্রিকেটাররা। এক একটি দাবি তুলে ধরেন এক একজন ক্রিকেটাররা।

১. নাঈম ইসলাম: আমাদের প্রথম দাবি হচ্ছে কোয়াব (ক্রিকেটার্স ওয়েলফেয়ার এসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ) বিলুপ্তি করতে হবে। বর্তমানে এর কোনো কার্যক্রম চোখে পড়ে না। কোয়াব ক্রিকেটারদের প্রতিনিধি হলেও ওইভাবে কখনোই আমরা আমাদের পাশে তাদের পাইনি। আমাদের প্রথম দাবি হচ্ছে কোয়াবের প্রেসিডেন্ট (নাঈমুর রহমান দূর্জয়) এবং সেক্রেটারিকে (দেবব্রত পাল) পদত্যাগ করতে হবে।

২. মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ: গত কয়েক বছর ধরেই আপনারা জানেন প্রিমিয়ার ডিভিশন ক্রিকেট লিগের পরিস্থিতি কেমন। সবগুলো ক্রিকেটারই এ ব্যাপারে অসন্তুষ্টি প্রকাশ করছে- যেভাবে প্রিমিয়ার লিগ হচ্ছে। কারণ এখানে পারিশ্রমিকের একটা মানদ- বেধে দেওয়া হচ্ছে। খেলোয়াড়রা আগে বাছাই করতে পারত, কোন দলে খেলবে, পারিশ্রমিক কেমন হবে। আমাদের দাবি হলো আগের মতো যেন প্রিমিয়ার লিগটা ফিরে পাই।

৩. মুশফিকুর রহিম: আমাদের তৃতীয় দাবি বিপিএল নিয়ে। আমরা জানি, এ বছর বিপিএল অন্যরকম হচ্ছে। সেটা অবশ্যই সম্মান করি। আমাদের প্রধান দাবি হলো, আগের নিয়মের বিপিএল যেন আগামী বছর থেকে চলে আসে। আর মূল দাবি হলো, বিদেশি খেলোয়াড়দের সঙ্গে আমাদের স্থানীয় খেলোয়াড়দের অনেক পার্থক্য থাকে। আগামীতে যেন সামঞ্জস্য থাকে। এটা নিশ্চিত করতে হবে আমাদের স্থানীয় ক্রিকেটাররা যেন সেই পারিশ্রমিক পায়। সবচেয়ে বড় কথা, বিশ্বে অনেক ফ্র্যাঞ্জাইজি লিগ হয়, খেলোয়াড়রা তাদের ড্রাফট বেছে নিতে পারে, কোন গ্রেডে থাকবে।
৪. সাকিব আল হাসান: আমরা সবাই মিলে মনে করেছি এটা (প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটারদের ম্যাচ ফি) এক লাখ টাকা হওয়া উচিত। আমাদের প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটারদের বেতন পঞ্চাশ ভাগ বাড়াতে হবে। খেলোয়াড়দের প্র্যাকটিস ফ্যাসিলিটিজ বাড়াতে হবে, সেটা জিম ইনডোর মাঠ- সব জায়গাতেই। ১২ মাস কোচ, ফিজিও, ট্রেনার রাখতে হবে; তারাই আসলে প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটারদের একটা পরিকল্পনা দেবেন। আমরা বুঝি, এটা হয়তো আজই হবে না। তবে আগামী মৌসুম থেকে যেন হয়, প্রতিটি বিভাগে। আমরা চাই না প্রতিটি ট্রেনিং সেশন যেন ঢাকাতেই হয়। যার যার বিভাগে যেন অনুশীলন করতে পারে।

৫.সাকিব আল হাসান: প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে এখানে অনেকগুলো ছোট ছোট ইস্যু আছে যেগুলো অনেক সময় বলা হয় না। এই জিনিসগুলোর উন্নতি খুব দরকার যদি আমরা ক্রিকেটের সংস্কৃতি ভালো করতে চাই। এখানে প্রথম হচ্ছে বল। আমরা যে বল দিয়ে প্রথম শ্রেণির ক্রিকেট খেলি সেটা মানসম্মত হয় না। এমন বলে খেললে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে আবার নতুন ধরনের বলের সাথে মানাতে কষ্ট হয়। ক্রিকেটারদের দৈনিক ভাতা ১৫০০ টাকা থেকে বাড়াতে হবে। কারণ বিসিবি যে ফিটনেস লেভেল দাবি করছে ১৫০০ টাকায় পুষ্টিকর খাবার সরবরাহ করা হয় না ক্রিকেটারদের। ভেন্যুগুলোতে ক্রিকেটারদের ভ্রমণ খরচ ২৫০০ টাকা থেকে বাড়াতে হবে। বিভাগ ভিত্তিক যাতায়াতের জন্য বিমান ভ্রমণের ব্যবস্থা করতে হবে। যে হোটেলের ব্যবস্থা করা হবে সেখানে কমপক্ষে জিম এবং সুইমিং পুল থাকা বাধ্যতামূলক।

৬. এনামুল হক জুনিয়র: জাতীয় দলের চুক্তিভুক্ত ক্রিকেটারের সংখ্যা বাড়াতে হবে। বিশ্বব্যাপি যদি চিন্তা করেন বাংলাদেশের চুক্তিভুক্ত ক্রিকেটারের সংখ্যা কম। আমাদের কাছে মনে হয় চুক্তিভুক্ত ক্রিকেটারের সংখ্যা ৩০ জন করা উচিত এবং তা করতেই হবে। পাশাপাশি বেতন বাড়াতে হবে।

৭.তামিম ইকবাল: আমরা যে বিষয়গুলো নিয়ে কথা বলছি সবকিছু ক্রিকেট নিয়ে। শুধু ক্রিকেটারদের নিয়েই নয়। আপনি গ্রাউন্ডম্যানদের কথা চিন্তা করেন। সে কী ধরনের বেতন পায় বিসিবি থেকে তার কাজ অনুপাতে। সারাদিন মাঠে কাজ করে মাস শেষে মাত্র ৫ হাজার টাকা বেতন পাচ্ছে। আরেকটা বিষয়, কোচের কথা বলব, আপনি যদি দেখেন আমরা নিজেরাই বাঙালি কোচদের প্রোমোট করতে চাই না। বিদেশি একটা কোচ যে টাকা বেতন পায় আমাদের হয়তো ২০ জন কোচ তা পায় না। এমনও সময় গেছে সম্প্রতি একটা সফরে দেশী কোচের অধীনে দল ভালো খেললেও পরবর্তী সিরিজে তাকে আর দায়িত্ব দেওয়া হয়নি। আম্পায়ারিং নিয়ে একটু বলব, আম্পায়ারিং নিয়ে আমরা সবাই অভিযোগ করি। আম্পায়ারদের জীবনের নিরাপত্তা দিতে হবে টাকা দিয়ে।

৮. এনামুল হক বিজয়: আমরা দুটো চার দিনের আসর খেলি, বিসিএল এবং এনসিএল। কিন্তু প্রিমিয়ার লিগের ওয়ানডে ভার্সনে আমরা মাত্র একটি আসর খেলি (ঢাকা প্রিমিয়ার লিগ)। আমাদের আরেকটি আসর বাড়ানো উচিত। বিপিএলের মাধ্যমে আমরা একটি টি-টোয়েন্টি লিগই খেলি। এছাড়া কোনো টি-টোয়েন্টি আসর হয় না। আমার কাছে মনে হয় বিপিএলের আগ মুহূর্তে একটি টি-টোয়েন্টি আসর হওয়া জরুরি। যাতে আমাদের বিপিএল আরও ভালো যায়। আমরা চাই জাতীয় ক্রিকেট লিগের একটি ওয়ানডে আসর চালু করা হোক।

৯. নুরুল হাসান সোহান: ঘরোয়া আসরের ক্ষেত্রে আমাদের একটি সুনির্দিষ্ট ক্যালেন্ডার থাকতে হবে। তাতে আমরা যেন প্রস্তুতি নিতে পারি সারা বছরের।

১০. জুনায়েদ সিদ্দিক: দশ নম্বর পয়েন্ট হচ্ছে বিপিএল-প্রিমিয়ার লিগের টাকাটা আমরা যেন নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে পাই। যেমন শেষ প্রিমিয়ার লিগে আমরা যারা ব্রাদার্স ইউনিয়নের হয়ে খেলেছি, এখনো ৪০ ভাগ টাকা পাই নাই। বোর্ডে অনেকবার যাওয়া হয়েছে, কোয়াবকেও অনেকবার বলা হয়েছে।

১১. ফরহাদ রেজা: ফ্র্যাঞ্চাইজি লিগের একটি নিয়ম বেঁধে দেওয়া আছে যে দুটির বেশি খেলতে পারব না। এখন জাতীয় দলে খেলার বাইরে যে সময়টা আমরা পাই তখন যদি আমরা ফ্রি থাকি তাহলে যেন বাইরে খেলতে যেতে পারি, তাহলে আমাদের খেলাও হবে, অনেককিছু শেখাও হবে।

The Post Viewed By: 133 People

সম্পর্কিত পোস্ট