চট্টগ্রাম রবিবার, ১৭ নভেম্বর, ২০১৯

সর্বশেষ:

২০ অক্টোবর, ২০১৯ | ২:৪৬ am

দেবাশীষ বড়–য়া দেবু

শেখ কামাল আন্তর্জাতিক ক্লাব কাপ ফুটবল শুরু

চট্টগ্রাম আবাহনীতে বিধ্বস্ত মালদ্বীপ টিসি স্পোর্টস

মুলত: লড়াইটা ছিল গত দু-আসরের দু-চ্যাম্পিয়নের। তৃতীয় আসরের উদ্বোধনীতে এমনই সমীকরণের এক ম্যাচে রীতিমতো উৎরে গেল প্রথম আসরের চ্যাম্পিয়ন স্বাগতিক চট্টগ্রাম আবাহনী। এম এ আজিজ স্টেডিয়ামের সবুজ চত্বরে একেবারে নিরঙ্কুস প্রাধান্য বজায় রেখে সহজেই ৪-১ গোলে বিধ্বস্ত করলো গেল আসরের চ্যাম্পিয়ন মালদ্বীপের টিসি স্পোটস’কে। জয়ী দলের হয়ে জোড়া গোল করেন চিনিদু ম্যাথিউ, এছাড়া ইয়াসিন আরাফাত ও লুকা রতকোভিচ ১টি করে গোল করেন। অন্যদিকে আসরের বর্তমান চ্যাম্পিয়ন টিসি স্পোর্টস নামের প্রতি মোটেও সুবিচার করতে পারেনি। ছোট ছোট পাসে এবং প্রয়োজনে লম্বায় খেলার চেষ্টা করলেও কখনোই তারা বিপদজনক হয়ে উঠতে পারেনি। অবশ্য দলের এ ভরাডুবির মাঝে দলের কিপার ইব্রাহিম অনেকাংশে দায়ী। ২য় গোলের পেছনে তাকে দায়ী করা যায় এবং ৪র্থ গোলটির জন্য কিছুতেই তাকে ক্ষমা করা যায় না। এদিকে নিজেদের মাঠে পুরো গ্যালারির সমর্থনপুষ্ট চট্টগ্রাম আবাহনী, কোচ মারুফুল হক এবং অধিনায়ক জামাল ভুইয়ার চট্টগ্রাম আবাহনী মাঠে অনমনীয় দৃঢ়তা দেখিয়ে প্রথম ম্যাচেই জানান দিয়েছে আমরা কিছু করতে এসেছি। এতে কিছু করা মানেই শিরোপা পুনরুদ্ধার করা। যদিও দলের কোচ বলেছিলেন দলের প্রথম লক্ষ্য সেমিফাইনাল।

এর আগে বর্ণিল আতশবাজির ঝলকানিতে প্রধান অতিথি হিসেবে এ টুর্নামেন্টের উদ্বোধন করেন তথ্য মন্ত্রী ড. হাসান মাহমুদ এমপি। বিশেষ অতিথি ছিলেন যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী জাহিদ আহসান রাসেল এমপি এবং শিক্ষা উপমন্ত্রী ব্যরিস্টার মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল এম পি। টুর্নামেন্টের প্রধান সমন্বয়কারী ও সাইফ পাওয়ারটেকের চেয়ারম্যান তরফদার রুহুল আমিনের উপস্থাপনায় এ সময় অন্যান্যের মধ্যে

আয়োজক কমিটির সম্পাদক ও চট্টগ্রাম আবাহনীর মহাসচিব হুইপ সামশুল হক চৌধুরী এম পি এবং সংসদ সদস্য ও চট্টগ্রাম আবাহনীর সভাপতি এম এ লতিফ, চট্টগ্রামের মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দিন, যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের সংসদীয় কমিটির সভাপতি আবদুল্লাহ আল ইসলাম জেকব, চট্টগ্রামের জিওসি মেজর জেনারেল এস এম মতিউর রহমান, চট্টগ্রামের বিভাগীয় কমিশনার মো. আবদুল মান্নান, পুলিশ কমিশনার মো. মাহাবুবর রহমান, জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ ইলিয়াস হোসেন ও চট্টগ্রাম চেম্বার সভাপতি মাহবুবুল আলম উপস্থিত ছিলেন।

খেলার ৫ মিনিটেই এগিয়ে যেতে পারতো চট্টগ্রাম আবাহনী। সংঘবদ্ধ এক আক্রমণে আরিফুল ইসলামের শট ক্রসবারে যেন চুমু খেয়েই বাইরে চলে যায়। তবে ১০ মিনিটেই স্বাগতিক দলকে এগিয়ে নেন বিদেশি নাইজেরিয়ার ফরোয়ার্ড চিনিদু ম্যাথিউ। বলটি একেবারে রসগোল্লার মতো করে তৈরি করে দিয়েছিলেন আরিফুল ইসলাম। বক্সের ভেতরে নিখুত শটে টিসি স্পোর্টস’র জাল কাঁপিয়ে দেন চিনিদু ম্যাথিউ (১-০)। এর তিন মিনিট পর অনেক দূর থেকে দুর্দান্ত এক বাঁকানো শটে গোল করেন ইয়াসিন আরাফাত। এ গোলের জন্য টিসি স্পোর্টস দলের কিপার ইব্রাহীম অনেকাংশে দায়ী। কেননা তিনি এ সময় পোস্ট ছেড়ে অনেকটা বেড়িয়ে এসেছিলেন। ৩০ মিনিটে টিসি’র সমীরের শট অল্পের জন্য লক্ষ্যভ্রষ্ট হলে বর্তমান চ্যাম্পিয়নরা খেলায় ফিরতে পারেনি। ৩৫ মিনিটে আবাহনী লুকা রতকোভিচের হেড সাইড বারে লাগে। অবশেষে ৪০ মিনিটে আবারো চিনিদু ম্যাথিউ গোল করলে ৩-০ গোলের লিড নিয়ে বিরতিতে যায় স্বাগতিকরা।

বিরতির পর আবাহনীকে তেমন একটা গোলের দিকে ছুটতে দেখা যায়নি। কিন্তু কিপারের অমার্জনীয় ব্যর্থতায় ৪র্থ গোলের দেখা পেয়ে যায় চট্টগ্রাম আবাহনী। এ সময় ডানদিকে আরিফের ক্রস সহজেই গ্রিপ করতে গিয়ে কিপার ইব্রাহিমের হাত থেকে বল ফসকে যায়। এতে একেবারে কাছে দাঁড়ানো চট্টগ্রাম আবাহনীর মন্ট্রেনেগ্রিয়ান রিক্রট লুকা রতকোভিচ বল জালে জড়াতে মোটেও ভুল করেননি (৪-০)। শেষ দিকে মালদ্বীপের দলটির হয়ে একমাত্র সান্তনাা সূচক গোলটি করেন ইসমাইল ইশা। বা দিকে সমীরের ক্রসে নিখুত হেডে বল জালে বল জড়ান (৪-১)। খেলা শেষে সেরা খেলোয়াড় চট্টগ্রাম আবাহনী অধিনায়ক জামাল ভুইয়ার হাতে পুরস্কার তুলে দেন যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী জাহিদ আহসান রাসেল এমপি।

এদিকে সেরা পুরস্কারের ঘোষণায় জামাল ভুইয়ার নামটি অনেকেই মেনে নিতে পারেন নি। এদিকে যারা ম্যাচ সেরা’র জুড়ি বোর্ড ছিলেন, তাদের নির্বাচনে ছিলেন জোড়া গোল করা চিনিদু ম্যাথিউ’র নাম। জুড়ি বোর্ড উপ কমিটির আহ্বায়ক সিজেকেএস সহ-সভাপতি মো. হাফিজুর রহমান এ তথ্য জানিয়েছেন। তিনি বলেন, ৫ সদস্য বিশিষ্ট কমিটি যে সিদ্ধান্ত দিয়েছে, তার সাথে পুরস্কার প্রাপ্ত ম্যাচ সেরার নামের সাথে মিল নাই।

The Post Viewed By: 190 People

সম্পর্কিত পোস্ট