চট্টগ্রাম বৃহষ্পতিবার, ১৭ অক্টোবর, ২০১৯

সর্বশেষ:

১০ অক্টোবর, ২০১৯ | ১:৪১ এএম

স্পোর্টস ডেস্ক

আশাবাদী নন বাফুফে প্রধান

কাতারের বিরুদ্ধে হাইভোল্টেজ ম্যাচে বাংলাদেশের সঙ্গী শুধুই স্বপ্ন

কাতারের বিপক্ষে বিশ্বকাপ বাছাইপর্বের আজকের ম্যাচটি বাংলাদেশের ফুটবলের অন্যতম কঠিন ‘পরীক্ষা’, এতে কোনো সন্দেহ নেই। অনেকেই ‘আতঙ্কিত’ এই ম্যাচে বাংলাদেশের ভাগ্য নিয়ে। অনেকেই আবার রোমাঞ্চিত এই ম্যাচটিকে কেন্দ্র করে।

কাতারের বিপক্ষে এই ম্যাচকে ‘বিশেষ উপলক্ষ’ বলা যেতেই পারে। ২০২২ সালে পরের বিশ্বকাপের আয়োজক যে এই কাতারই।

এশিয়ার বর্তমান চ্যাম্পিয়ন কাতার। ফিফা র‌্যাঙ্কিংয়ে তারা রয়েছে ৬২তম অবস্থানে। বাংলাদেশ বলতে গেলে তলানিতে, ১৮৭তম। র‌্যাঙ্কিংয়ে দুই দলের পার্থক্য স্পষ্ট। বাংলাদেশ তাদের বিশ্বকাপ বাছাইপর্বের প্রথম ম্যাচে আফগানিস্তানের কাছে হেরেছে। আর সেই আফগানিস্তানকে ৬-০ গোলে উড়িয়ে দিয়েছে কাতার। তারা ২০২২ বিশ্বকাপের আয়োজক। সে কারণে নিজেদের অনেকদিন ধরেই প্রস্তুত করছে। অনুমিতভাবেই কাতারের বিপক্ষে কঠিন পরীক্ষা দিতে হবে বাংলাদেশকে।

বাংলাদেশের কোচ জিমি ডেও সে বিষয়ে অবগত। তাইতো তিনি ম্যাচ পূর্ববর্তী সংবাদ সম্মেলনে বলেন, কাতারকে রোখা কঠিন। আর সেটা করতে হলে খুবই ভালো ফুটবল খেলতে হবে। বাফুফে বস অবশ্য অত হাইপ্রোফাইল কথাবার্তায় গেলেন না। কাজী মোহাম্মদ সালাউদ্দিন বলেন, কাতার প্রতিপক্ষ হিসেবে আমাদের জন্য অনেক কঠিন। আমি জানি, তাদের বিপক্ষে হয়তো আমাদের ছেলেরা সে রকম কিছু করতে পারবে না। আমরা ওই মানের নই। আসলে তাদের সঙ্গে লড়াই করার মতো সামর্থ্য নেই আমাদের। তবু ছেলেদের সাহসী ফুটবল খেলতে হবে। লড়াই করার মানসিকতা নিয়ে নামতে হবে। ছেলেদের নিজেদের সেরাটা মেলে ধরতে হবে। আমি চাই তারা সেরাটা দিয়ে খেলুক।

কোচ জেমি ডে অবশ্য তারপরও স্বপ্ন দেখছেন। তিনি বলেন, ‘এই ম্যাচকে সামনে রেখে গেল ১০দিন ধরে নিজেদের প্রস্তুত করেছি। ভুটানের বিপক্ষে ম্যাচ খেলেছি। ছেলেরা বেশ উজ্জীবিত। কাতার কঠিন প্রতিপক্ষ। ম্যাচটি খুবই কঠিন হবে। কাতারের ফুটবল কাঠামো উন্নত। দলে ভালো ভালো ফুটবলার রয়েছে। যারা ব্রাজিল, আর্জেন্টিনা, ইউরোপে খেলে। তাদের রুখে দেওয়া কঠিন হবে। তাদের রুখতে হলে আত্মবিশ্বাসের সাথে খুবই ভালো ফুটবল খেলতে হবে।’ কাতারের বিপক্ষে কেমন ফল প্রত্যাশা করছেন? এমন প্রশ্নের জবাবে জিমি ডে বলেন, ‘অবশ্যই পরাজয় প্রত্যাশা করছি না। সেটা কেউ-ই করে না।’ ২৩ সদস্যের বাংলাদেশ দলে তরুণ খেলোয়াড় আছে বেশ কয়েকজন। যারা রক্ষণভাগ, মিডফিল্ড ও ফরোয়ার্ড পজিশনে খেলে। অধিনায়ক হিসেবে জামাল ভুঁইয়া তাদের কিভাবে উদ্বীপ্ত করবেন, ‘আমি তাদের বলেছি ম্যাচটি উপভোগ করতে। দেশের জন্য খেলতে। তাদের বলেছি এরকম ম্যাচ তোমরা আরো খেলতে পারবা। ম্যাচে ভুল হতে পারে। কিন্তু চাপ নেওয়া যাবে না। স্বাভাবিক খেলাটা খেলতে হবে।’

জেমির কথা ‘স্পর্ধা’ মনে হতে পারে! কিন্তু গত সেপ্টেম্বরে এশিয়ান গেমসেই কাতারকে ১-০ গোলে হারিয়ে চমক দেখিয়েছে বাংলাদেশ। অনূর্ধ্ব -২৩ দল ও মূল জাতীয় দলের মধ্যে পার্থক্য থাকলেও সে জয় থেকে পাওয়া যায় অনুপ্রেরণা। শেষের দিকে একমাত্র গোল করে ম্যাচের মীমাংসা করে দিয়েছিলেন অধিনায়ক জামাল ভূঁইয়া। প্রায় এক বছরের ব্যবধানে তাঁর কণ্ঠেও কাতারকে আবার হারানোর সাহস। নিজেদের জয়ের অভিজ্ঞতার সঙ্গে ভারতকেও অনুপ্রেরণা মানছেন তিনি, ‘তারা এশিয়ার এক নম্বর দল।

আমরা কঠিন একটি ম্যাচ খেলতে যাচ্ছি। সুযোগ পেলে কাজে লাগাতে হবে। ভারত যদি তাদের সঙ্গে ড্র করতে পারে, আমরাও তাদের সঙ্গে ড্র করতে পারি। এমনকি জিতেও যেতে পারি।’ ভারতের বিপক্ষে কাতার ১২৯টি গোলের সুযোগ তৈরি করেছিল। কিন্তু একটি থেকেও গোল আদায় করে নিতে পারেনি। বাংলাদেশের বিপক্ষে তারা কতগুলো গোলের সুযোগ তৈরি করে দেখার বিষয়। কাতার ম্যাচের পরই প্রতিবেশী দেশ ভারতের মুখোমুখি হবে বাংলাদেশ। ১৫ অক্টোবর কলকাতার সল্টলেকে ম্যাচটি অনুষ্ঠিত হবে।

The Post Viewed By: 90 People

সম্পর্কিত পোস্ট