চট্টগ্রাম বুধবার, ১৬ অক্টোবর, ২০১৯

২৪ সেপ্টেম্বর, ২০১৯ | ১:৫৯ এএম

স্পোর্টস ডেস্ক

ডোমিঙ্গোর মহারণ ছকে নেই ‘ইনজুরড’ আমিনুল

‘আমরা এখনো সেরাটা খেলতে পারিনি’

ত্রিদেশীয় সিরিজে তিন জয় নিয়ে পয়েন্ট টেবিলের শীর্ষে থেকে টুর্নামেন্টের ফাইনালে উঠেছে বাংলাদেশ। দুইবার জিম্বাবুয়েকে হারানোর পর সব শেষ ম্যাচে হারিয়েছে আফগানদের। সবারই তাতে খুশি হওয়ার কথা। দেশের আপামর ক্রিকেটপ্রেমী থেকে শুরু করে বাংলাদেশ টিম ম্যানেজমেন্টেরও। কিন্তু ব্যতিক্রম থেকে গেলেন কেবল সাকিবদের হেড কোচ রাসেল ডমিঙ্গো। শিষ্যরা ফাইনালে উঠলেও তাদের খেলার ধরণ তার পছন্দ হয়নি। ত্রিদেশীয় সিরিজে মিরপুর শের-ই-বাংলার সেই প্রথম ম্যাচ থেকে শুরু করে জহুর আহমেদের শেষ ম্যাচ পর্যন্ত ব্যাটিংয়ে এক নড়বড়ে বাংলাদেশকে দেখেছে ক্রিকেট বিশ্ব। দারুণ দৃষ্টিকটু ওপেনিং, নড়বড়ে মিডল অর্ডার ও অধারাবাহিক লোয়ার মিডল অর্ডার। বোলিংও আহামরি ভালো ছিল না।

গতকাল ফাইনাল ম্যাচের আগে সংবাদ সম্মেলনে সেই সত্যটি অকপটে বলে গেলেন এই প্রোটিয়া কোচ, ‘আমরা এখনো আমাদের সেরা খেলাটা খেলতে পারিনি। এখনো সময় রয়েছে ভালো করা নির্দিষ্ট কিছু জায়গায় যেটা করতে পারলে ভালো খেলা সম্ভব। বেশ কিছু জায়গায় উন্নতি করতে হবে। প্রথম ৫-৬ ওভারে ২-৩টা উইকেট হারাচ্ছি। প্রথম ১০ ওভারে আমরা বেশি উইকেট হারিয়ে ফেলছি। এই জায়গাটাতে আরও বেশি মনযোগী হতে হবে। ১৫ ওভারের মধ্যে যেন ২টা উইকেটের বেশি হারাতে না হয়, যাতে শেষ ৫ ওভারে বেশি রান তোলায় মনযোগী হতে পারি। এই জায়গাটাতে আমাদের উন্নতি করতে হবে বলে আমি মনে করি। আশা করি আমরা সেটা পারবো।’ পারলে তো কথাই নেই। মে মাসে আয়ারল্যান্ডে ত্রিদেশীয় সিরিজের পর আরও একটি বহুজাতিক টুর্নামেন্টের শিরোপা ঘরে তুলতে পারবে বাংলাদেশ। কিন্তু স্পিন বিষে ভরা আফগানদের বিপক্ষে সেটা কতটা সহজ? রশিদ খান, মুজিব উর রহমান ও মোহাম্মদ নবীদের ঘূর্ণি যাদুর সামনে পুরো টুর্নামেন্টে বাংলাদেশের ব্যাটিং ইউনিটই ছিল থরো থরো। ফাইনালেও যে তার ব্যতিক্রম দেখা যাবে না, তারই বা নিশ্চয়তা কি? না, কোনো নিশ্চয়তা দেননি সাকিবদের গুরু। তবে আশার কথা শুনিয়েছেন, ‘আমরা জানি আফগানিস্তান খুব ভালো দল। কিন্তু আমরা জানি যে আমাদের সামর্থ্য অনুযায়ী খেলতে পারলে যে কোনো দলকে হারাতে পারি আমরা। আমাদের প্রধান চ্যালেঞ্জ হলো আমাদের কৌশল ঠিক রেখে মানসিকভাবে যদি প্রস্তুত থাকি যে আমরা আফগানিস্তানকে হারাতে পারবো তবে বাংলাদেশ জিতলেও অবাক হবো না।’ এদিকে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে অভিষিক্ত ম্যাচে ফলো থ্রু তে বল ধরতে গিয়ে বাঁ হাতে চোট পেয়েছিলেন চমকে দেওয়া টাইগার লেগ স্পিনার আমিনুল ইসলাম বিপ্লব। চোটাক্রান্ত জায়গায় পড়েছে তিনটি সেলাই। হাতের কব্জি মুড়ে দেওয়া হয়েছে ব্যান্ডেজ দিয়ে। পুরোপুরি সেরে উঠতে সময় লাগবে আরও প্রায় ৪-৫দিন। পরিষ্কার বোঝা যাচ্ছে পুরোপুরি ফিট নন তরুণ এই লেগি। আর সে কারণেই ত্রিদেশীয় সিরিজের ফাইনালে আফগান বধের যে ছক এঁকেছেন সেখানে তাকে রাখেননি হেড কোচ রাসেল ডমিঙ্গো।

ফাইনালের মহারণে তিনি চাইছেন, শতভাগ ফিট একটি দল। যাদের দিয়ে অলঅ্যাটাক ক্রিকেট সম্ভব। ডমিঙ্গো বলেন, ‘তার (আমিনুল) বাঁহাতে তিনটি সেলাই পড়েছে। যদিও তার বোলিং হাতে ইনজুরি নয়। তারপরও, কোচ হিসেবে আমি কখনোই এমন কাউকে খেলাতে চাই না, যার কোনো ধরণের চোট আছে। গুরুত্বপূর্ণ কোনো ক্যাচ তার কাছে আসতে পারে। প্রথম বলেই হয়তো ফিল্ডিং করতে গিয়ে হাতে লেগে তার সেলাই খুলে যেতে পারে।‘ ‘আমি সবসময় চাই শতভাগ ফিট ১১ জনকে নিয়ে মাঠে নামতে। আর আমার মতে, আমিনুল বা যে কারও বিকল্প আমাদের দলে আছে। আমার মনে হয় না, হাতে সেলাই নিয়ে ফাইনালে ওকে আমরা খেলতে দেখব।‘ আজ সন্ধ্যা সাড়ে ৬টায় মিরপুর শের-ই-বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত হবে ত্রিদেশীয় সিরিজের ফাইনাল ম্যাচটি।

The Post Viewed By: 38 People

সম্পর্কিত পোস্ট