চট্টগ্রাম মঙ্গলবার, ১৫ অক্টোবর, ২০১৯

সর্বশেষ:

২২ সেপ্টেম্বর, ২০১৯ | ২:২১ এএম

দেবাশীষ বড়–য়া দেবু

বাংলাদেশের ভয় কাটানো জয়

আফগানিস্তান : ১৩৮/৭/২০ ওভার বাংলাদেশ : ১৩৯/৬/১৯ ওভার বাংলাদেশ ৪ উইকেটে জয়ী

একমাত্র টেস্টে কঠিনভাবে হারের পর টি-২০’তে সেই পরাজয়ের বৃত্তে। এর ফলে, টি-২০’তে সফরকারিদের বিরুদ্ধে টানা ৪টি ম্যাচে পরাজয়ের স্বাদ পায় বাংলাদেশ। এতে করে,‘আফগান’ নামক একটা ভীতি যেন অক্টোপাশের মত বাংলাদেশকে জাপ্টে ধরেছিলো। অবশেষে সে ভয়টা গতকাল কাটিয়েই ওঠলো নিয়মরক্ষার ম্যাচে। জহুর আহমেদ চৌধুরী স্টেডিয়ামে মাথা থেকে নামলো পরাজয়ের বোঝা এবং এমনই সময় সেটা নামলো, যা বাংলাদেশকে এই ত্রিদেশীয় ক্রিকেট সিরিজের ফাইনালের আগে দারুণভাবে উজ্জ্বীবিত করবে। বাংলাদেশের এই জয়ে অসাধারণ এবং অনবদ্য ভূমিকা রাখেন অধিনায়ক সাকিব আল হাসান।

প্রথমে বল হাতে কারিশমা দেখানোর পর ব্যাটহাতেও রীতিমতো উতরে গেছেন। মোদ্দা কথা, তার হাত ধরেই বাংলাদেশ কাক্সিক্ষত জয়ে ফাইনালের আগে ড্রেস রিয়ার্সালে আত্মবিশ^াসটা বাড়িয়েই নিয়েছে। সাকিব আল হাসান ম্যান অব দ্য ম্যাচ হন। আগামী ২৪ সেপ্টেম্বর ত্রিদেশীয় সিরিজের ফাইনালে ফের আফগানদের মুখোমুখি হবে বাংলাদেশ। ম্যাচটি হবে মিরপুর শেরে বাংলা ক্রিকেট স্টেডিয়ামে। ১৩৯ রানের লক্ষে খেলতে নেমে বাংলাদেশের শুরুটা মোটেও ভাল ছিল না। দলীয় ৯ রানের মাথায় বিদায় নেন ওপেনার লিটন

দাস। মুজিব উর রহমানের বলে আসগর আফগানকে ক্যাচ দেন মাত্র ৪ রান করে। দলের রান তখন মাত্র ৯। এরপর দলীয় ১২ রানে লিটনের পথ ধরেন অপর ওপেনার নাজমুল হোসেন শান্ত। তিনিও ৫ রানের বেশি করতে পারেন নি। এরপর মুশফিককে নিয়ে ইনিংস পুর্নগঠনের কাজে মনোনিবেশ করেন অধিনায়ক সাকিব। কিছুটা ধীরলয়ে এগুলেও আফগান বোলারদের প্রতিরোধের মুখে ৫৮ রান যোগ করেন। এর মধ্যে অবশ্য ভাগ্যও কিছুটা প্রসন্নœ ছিল। কেননা, দলীয় ৫৭ রানে মুশফিক জীবন পান ব্যক্তিগত ১৪ রানে থাকাবস্থায়। অবশেষে মুশফিক দলীয় ৭০ রানে করিম জানাতের বলে ক্যাচ দিয়ে সাজঘরে ফেরেন ব্যক্তিগত ২৬ রানে। এরপর হ্যামস্ট্রিং-এর যন্ত্রনায় ভোগার পর মাঠে ফেরা রশিদ খান প্রথম ওভারেই দলীয় ৯৩ রানে সাজঘরে পাঠান মাহমুদউল্লাহকে। ৮ বলে তিনি মাত্র ৬ রান করেছিলেন। এরপর খুব দ্রুত মাহমুদউল্লাহকে অনুসরণ করেন এক ম্যাচ পর দলে ফেরা সাব্বির। প্রাপ্ত সুযোগটি কোনভাবেই কাজে লাগাতে ব্যর্থ সাব্বির ১ রান করে কিপারকে ক্যাচ দেন। দলের রান তখন ৯৬, উইকেট যায় ৫টি। আফিফ এলেও সেভাবে দাড়াতে পারেনি। মাত্র ২ রান করে রশীদ খানের বলে বোল্ড হয়ে যান। ১০৪ রানে ৬ষ্ঠ উইকেট হারিয়ে কিছুটা চাপের মুখে পড়লেও মাস্টার ব্লাস্টার সাকিব আল হাসানের উইলোতে জয়ের নোঙ্গরে ভীর করে টাইগারদের বিজয় তরী। ১৯তম ওভারে মোসাদ্দেককে নিয়ে ইনিংসে ৩৫ রান যোগ করে জয় নিশ্চিত হওয়ার সময়ে সাকিব আল হাসান ৪২ বলে ৮ চার ও ১ ছক্কায় ৭০ রানে অপরাজিত ছিলেন। ১২ বলে ১ চারে ১৯ রানে অপরাজিত থেকে

মোসাদ্দেক বেশ ভালই সহায়তা দিয়েছিলেন সাকিব আল হাসানকে।

এর আগে টসে হেরে ব্যাটিং-এ আমন্ত্রিত আফগানিস্তানকে এক সময় মনে হয়েছিলো, কোথায় গিয়ে থামতে পারে । ১৬০ বা তারও বেশি। এরপর দলীয় ৭ রানে যখন শফিউদ্দিনের বলে ৪ রানে হযরতের ক্যাচটি ছেড়ে দেন মাহামুদউল্লাহ রিয়াদের মতো খেলোয়াড়, তখন সেই শংকাটা আরো ঘনীভুত হয়েছে। তখন ধারনা করা হয়েছিলো ১৮০ হয়তো করেই ফেলবে রশীদ খান এন্ড কোং। উইকেট হাতে রেখে চালিয়ে খেললে বড় পুঁজি পাওয়া অসম্ভব ছিল না। হাতখুলে ইনিংসকে দারুণ ভাবে সচলও রেখেছিলেন দ্-ুআফগান ওপেনার রহমত উল্লাহ ও হযরতউল্লাহ। কিন্তু দলীয়ভাবে ৭৫ রানে এসে হঠাৎই যেন ছন্দ পতন এবং পতনের নির্মমতা এতোটাই কঠিন ছিল যে, ওখানে প্রথম উইকেট হারানো দলটি ৭ রানের মধ্যে আরো ২টি উইকেট হারিয়ে একরকম ব্যাকফুটে চলে যায়। পরে তারা আর ফ্রন্ট লাইনে আসতে পারেনি এবং নিয়মিত বিরতিতে উইকেট হারিয়ে কোন মতে টেনে টুনে ২০ ওভারে ১৩৫ রান করে ৭ উইকেট খুইয়ে।

ম্যাচের ১০ ওভারে এসে সিংহমূর্তি ধারণ করেন আফিফ। একই ওভারে তার জোড়া আঘাতে বাংলাদেশকে ম্যাচে ফিরিয়ে এনেছেন। আফিফ প্রথমেই

বাংলাদেশী বোলারদের কোনঠাসা করে রাখা ও শুরুর দিকে জীবন পাওয়া ওপেনার হযরতউল্লাহ জাজাইকে সাজঘরে পাঠান। এরপর ওয়ানডাউনে খেলতে নামা আফসার আফগান। মাত্র ৩৫ বলে ৬ চার ও ২ ছক্কায় ৪৭ করে আউট হন হযরতউল্লাহ। আফসার আফগান কোন রান না করেই হয়রতউল্লাহকে অনুসরন করেন আফিফের বলে শান্তকে ক্যাচ দিয়ে। আফগানিস্তানের বিপদের শুরু সেখান থেকেই। পরের ওভারে আঘাত হানেন মোস্তাফিজ। দলীয় ৮০ রানে কট এন্ড বোল্ড করেন রহমতউল্লাহকে। ২৭ বলে তিনি ২৯ রান করেন ২টি ও ২টি ছক্কার সাহায্যে। এরপর দলীয় ৮৮ রানে মোহাম্মদ নবী ফিরে গেলে বাংলাদেশ শিবিরে কিছুটা স্বস্থি আসে। কেননা, লিগ পর্বের প্রথম ম্যাচে ৮৪ রানের এ টর্নেডো ইনিংস খেলে তিনি বাংলাদেশকে একাই হারিয়েছিলেন। বিপজ্জনক এ ব্যাটসম্যানকে এলবিডব্লিউর ফাঁদে ফেলেন অধিনায়ব সাকিব। মোহাম্মদ নবী মাত্র ৪ রান করেন ৬ বলের মোকাবেলায়। এরপর ৯৬ রানে রান আউট হন মাত্র ১ রান করা গুলবাদিন নাইব। তখনই ৫ উইকেট হারানোর ধাক্কা সফরকারিদের মধ্যে আর কেউই সামাল দিতে পারেনি। টাইগার বোলারদের চাপে পরের ব্যাটসম্যানদের মধ্যে শফিকুল্লাহ ১৭ বলে ২৩ রানে অপরাজিত থাকেন। রশিদ করেন ১৩ বলে ১১। বাংলাদেশের সফল আফিফ হোসেন মাত্র ৯ রানে ২টি উইকেট নেন। অন্যান্যের মধ্যে সাকিব আল হাসান (২৪), মোস্তাফিজুর রহমান (৩১), মো. সাইফউদ্দিন (২৩) ও শফিউল ইসলাম (২৪) ১টি করে উইকেট নেন।

সংক্ষিপ্ত স্কোর: আফগানিস্তান: ১৩৮/৭/ ২০ ওভার: রহমানউল্লাহ ২৯, জাজাই ৪৭, আসগর ০, নাজিবউল্লাহ ১৪, নবি ৪, নাইব ১, শফিকউল্লাহ অপ: ২৩, জানাত ৩, রশিদ অপ: ১১, অতিরিক্ত ৬/ বোলিং: সাইফ ৪-০-২৩-১, শফিউল ৪-০-২৪-১, সাকিব ৪-০-২৪-১, মাহমুদউল্লাহ ১-০-১৬-০, মুস্তাফিজ ৩-০-৩১-১, মোসাদ্দেক ১-০-১০-০ ও আফিফ ৩-১-৯-২।
বাংলাদেশ: ১৩৯/৬/১৯ ওভার: লিটন ৪, শান্ত ৫, সাকিব অপ: ৭০, মুশফিক ২৬, মাহমুদউল্লাহ ৬, সাব্বির ১, আফিফ ২, মোসাদ্দেক অপ: ১৯, অতিরিক্ত ৬/ বোলিং: মুজিব ৪-০-১৯-১, নাভিন ৪-০-২০-২, জানাত ৩-০-৩১-১, নাইব ২-০-১৬-০, নবি ৩-০-২৪-০, রশিদ ৩-০-২৭-২।

The Post Viewed By: 294 People

সম্পর্কিত পোস্ট