চট্টগ্রাম বৃহষ্পতিবার, ১৭ অক্টোবর, ২০১৯

সর্বশেষ:

২০ সেপ্টেম্বর, ২০১৯ | ১:৩৬ এএম

স্পোর্টস ডেস্ক

‘বিসিবিতে এখন অনেক নির্বাচক’

বিসিবির নির্বাচক কমিটি চলছে দুই সদস্য দিয়ে। একজন হাবিবুল বাশার। অন্যজন কমিটির প্রধান মিনহাজুল আবেদীন। নির্বাচক প্যানেল নামে আরেকটি কমিটিতে আছেন তিন সদস্য। হেড কোচ, ম্যানেজার ও ক্রিকেট পরিচালনা বিভাগের প্রধান। চন্ডিকা হাথুরুসিংহে যখন বাংলাদেশের কোচ তখন কার্যকর হওয়া এই প্রক্রিয়া বহাল আছে এখনো। খেলোয়াড় নির্বাচনের কাজে এত মানুষের হস্তক্ষেপ ভালো ফল বয়ে আনবে না, এমন মনোভাব থেকেই ২০১৬ সালের জুনে প্রধান নির্বাচকের পদ ছেড়েছিলেন ফারুক আহমেদ। গতকাল বৃহস্পতিবার চট্টগ্রাম রেডিসন ব্লু হোটেলে সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হন ফারুক। সম্প্রতি নির্বাচন প্রক্রিয়া নিয়ে যে অস্থিরতা সৃষ্টি হয়েছে সেটিও নিয়েও কথা বলেন সাবেক এই নির্বাচক। ‘নির্বাচক তো অনেকেই আছে এখন। এখানে বোর্ড পরিচালক নির্বাচক, ম্যানেজার নির্বাচক, ক্রিকেট পরিচালনা বিভাগ থেকেও নির্বাচক আছে। আমরা মনে হয় পাঁচ-সাত জন নির্বাচক। আমি যখন ইস্তফা দিয়েছি তখন নির্বাচক ছিল দুইজন, সাথে খালেদ মাহমুদ সুজন ছিল ম্যানেজার হিসেবে নির্বাচক। তারপর সমন্বয়ের জন্য পরিচালনা বিভাগের প্রধান থাকবেন নির্বাচক। নির্বাচক তো আসলেই অনেকজন, একজন তো না। বিষয়টা ইতিবাচক হলে আমি থাকতাম। তবে এই নিয়ম কাজ করবে না আসলে। কেননা যখন ভালো করবে তখন কেউ কৃতিত্ব নেয়ার চেষ্টা করবে। আবার যখন খারাপ করবে তখন একে অপরের দিকে আঙুল তুলবে।’ ‘একটা দলের পারফরম্যান্স ভালো বা খারাপ যাবে এটা খুব স্বাভাবিক একটা প্রক্রিয়া।’ তাঁর মতে, অনেক কিছুই এখন ঠিক মতো হচ্ছে না। নির্বাচকদের দায়িত্ব নিয়ে কাজ না করা বা জবাবদিহিতা না করার প্রবণতা আছে বলে মনে করছেন জাতীয় দলের সাবেক এই অধিনায়ক। ফারুক বলেন, ‘আমার কাছে মনে হয় নির্বাচকের দায়িত্ব এমন কাউকে দিতে হবে যে জবাবদিহিতা করতে পারবে, দায়িত্ব নিতে পারবে। মানে কেউ যখন সুযোগ পেল তাহলে কেন সুযোগ পেল বা কেউ বাদ পড়লে কেন বাদ পড়ল- এই ব্যাখা কিন্তু সাম্প্রতিক সময়ে আমরা খুব একটা দেখতে পাই না। আর দল হারলে যে অস্থিরতা তৈরি হয় সেটাও কাম্য না। যেহেতু নির্বাচকের কাজ ভালোমতো হচ্ছে না, তাই অস্থিরতা খুব সহজেই হয়ে যায়। একটা-দুইটা ম্যাচ খারাপ করলে মনে হয় কিছুই ঠিক হচ্ছে না। আবার অনেক ধরণের পরিবর্তন দেখা যায়।’ জাতীয় দলে বেশ কয়েকজন নীতি নির্ধারক নির্বাচকের কাজ করে থাকেন বলেও বিশ্বাস ফারুকের। এক্ষেত্রে নির্বাচক অল্প হলেই গঠনমূলক ফলাফল পাওয়ার আশা করছেন তিনি। ফারুক আরও বলেন, ‘এখন মনে হয় দলে অনেক নির্বাচক। ২-৩ জনের যদি একটা নির্বাচক প্যানেল থাকে, ওরা কোনো ক্রিকেটারকে বুঝে শুনে দলে নিতে পারবে। ওই তরুণ ক্রিকেটার ভালো খেলে কিনা সেটা সময়ই বলে দিবে। কিন্তু ওকে সমর্থন করার জন্য অন্তত নির্বাচক থাকবে। যে বলবে, ওকে এই কারণে নিয়েছি বা নেইনি। ইদানিং দেখা যায় একটা ক্রিকেটারকে এক ম্যাচ খেলিয়ে বাদ দিয়ে দেয়া হয়। এতে পুরো দলের ভারসাম্য নষ্ট হয়।’

এভাবে চলতে থাকলে ফলাফল বেশ খারাপ হবে, মনে করিয়ে দিলেন ফারুক। তিনি বলেন, ‘কিছু সিনিয়র ক্রিকেটারের কারণে এখনও আমরা সেভাবে ভুগছি না। কিন্তু আমার মনে হয় এভাবে চলতে থাকলে ভালো হবে না। এখান থেকে বের হয়ে আসতে হবে।’ বর্তমানে বিসিবির প্রধান নির্বাচক মিনহাজুল আবেদীন নান্নু। তাঁকে সঙ্গ দিচ্ছেন হাবিবুল বাশার। এ ছাড়া কয়েক বছর ধরে ম্যানেজার হিসেবে খালেদ মাহমুদ সুজন, ক্রিকেট অপারেশন্স থেকে আকরাম খান, জাতীয় দলের কোচিং প্যানেল বা নির্দিষ্ট ফরম্যাটের অধিনায়ক, এমনকি বিসিবি সভাপতি নাজমুল হাসান পাপনও দল নির্বাচনে সরাসরি হস্তক্ষেপ করে আসছেন।

The Post Viewed By: 81 People

সম্পর্কিত পোস্ট