চট্টগ্রাম বুধবার, ১৬ অক্টোবর, ২০১৯

সর্বশেষ:

১৯ সেপ্টেম্বর, ২০১৯ | ২:২৮ এএম

দেবাশীষ বড়–য়া দেবু

ফাইনালে বাংলাদেশ

বাংলাদেশ: ১৭৫/৭/২০ ওভার জিম্বাবুয়ে: ১৩৬/১০/২০ ওভার বাংলাদেশ ৩৬ রানে জয়ী

কিছুই করতে পারলো না জিম্বাবুয়ে। তবে বাংলাদেশকে একটু বাজিয়ে দেখার চেষ্টা করেছিলো। কিন্তু বাজনার আওয়াজটা জহুর আহমেদ চৌধুরী স্টেডিয়ামের ভেতরেই সীমাবদ্ধ ছিল। বাইরে এসে পৌঁছুতেই পারেনি। চাপা পড়ে যায় বাংলাদেশীদের হুংকারে। সেই হুংকারে কুপোকাত জিম্বাবুয়ে টানা ৩ পরাজয়ে বিদায় নিয়েছে ত্রিদেশীয় টুর্নামেন্ট থেকে। পাশাপাশি রানের জয় পেয়ে কাঙ্খিত ফাইনালে পৌঁছে যায় বাংলাদেশ। একই সাথে টুর্নামেন্টের অপর দল আফগানিস্তানও ফাইনালের টিকিট পেয়ে যায়। এর ফলে চট্টগ্রামের বাকি ২টি ম্যাচ আনুষ্ঠানিকতায় পরিণত হয়েছে। ঐ ২টি ম্যাচের যে কোন ফলাফলে বাংলাদেশ ও আফগানিস্তান ফাইনালের কোন হের ফের হবে না। যা হবে, তা দলীয় বা ব্যক্তিগত রেকর্ডের খেলা।

গতকাল বাংলাদেশ একাদশে তিন পরিবর্তনে খেলতে নামে। একাদশে এসেছেন অভিষিক্ত নাজমুল হোসেন শান্ত ও আমিনুল ইসলাম এবং শফিউল ইসলাম। বাদ পড়েছেন সৌম্য সরকার, সাব্বির রহমান এবং তাইজুল ইসলাম। মাহামুদউল্লাহ রিয়াদকে নিয়েও এটা সেটা শোনা গিয়েছিলো। কিন্তু শেষ পর্যন্ত তিনিই কিনা জয়ের নায়ক। ৪১ বলে ৬২ রানের ইনিংস খেলে টি- ২০-তে বাংলাদেশের হয়ে ৫ নম্বরে ব্যাট করে সর্বোচ্চ ব্যক্তিগত ইনিংস উপহার দেন। আগের রেকর্ডটি ছিল সাকিব আল হাসানের। গত বছর ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে ফ্লোরিডায় ৩৮ বলে ৬০ রান করেছিলেন সাকিব আল হাসান। এ দুজন বাদে বাংলাদেশের হয়ে ৫ নম্বরে নেমে ফিফটি করেন পাকিস্তানের বিপক্ষে সাব্বির রহমান (৩২ বলে ৫২ রান)।
খেলায় টসে হেরে ব্যাট করতে নামে বাংলাদেশ।

নির্ধারিত ২০ ওভারে ৭ উইকেট হারিয়ে বাংলাদেশ তুলেছে ১৭৫ রান। বাংলাদেশের ইনিংসের ৫ম ওভারে সাজঘরে ফেরেন অভিষিক্ত ওপেনার নাজমুল হোসেন শান্ত। ৪৯ রানে দলটি যখন মোটামুটিভাবে একটা ভিত তৈরি করতে যাচ্ছিলো তখনই তিনি জারভিসের বলে কট এন্ড বোল্ড হন। ৯ বলে একটি বাউন্ডারিতে করেন ১১ রান করেছিলেন শান্ত। পরবর্তী ১৬ রানের মধ্যে অপর ওপেনার লিটন দাস ও অধিনায়ক সাকিব আল হাসান সাজঘরমুখী হলে ৬৫ রানে ৩ উইকেট হারিয়ে প্রাথমিক বিপর্যয়ের মুখে পড়ে বাংলাদেশ। দলীয় ৫৫ রানে ২২ বলে ৪টি চার ও ২টি ছক্কার মাধ্যমে ৩৮ রান আউট হন লিটন দাস। এরপর উইকেটে মানিয়ে নেয়ার আগেই ফিরে আসেন দলপতি সাকিব আল হাসান। রায়ান বার্লের বলে উইলিয়ামসের হাতে ধরা পড়ার আগে সাকিব ৯ বলে এক বাউন্ডারিতে করেন মাত্র ১০ রান করেছিলেন। এবারের টুর্নামেন্টে সাকিব আল হাসান এখনো নামের প্রতি সুবিচার করতে পারেন নি। প্রথম ম্যাচে জিম্বাবুয়ের বিরুদ্ধে ১ রান এবং দ্বিতীয় ম্যাচে আফগানদের বিপক্ষে সাকিব ১৫ রান করেছিলেন।

এরপর বাংলাদেশকে নির্ভরতা দেন মি. ডিপেন্ডেবেল মুশফিকুর রহিম ও ক্রাইসিস ম্যান মাহামুদউল্লাহ রিয়াদ। এ দুজন দৃঢ়তার সাথে ৪র্থ উইকেট জুটিতে মুল্যবার ৭৮ রান যোগ করেন। এতেই বাংলাদেশ চ্যালেঞ্জিং স্কোরের দিকে এগুতে থাকে। ইনিংসের ১৭তম ওভারে কিপারকে ক্যাচ দেয়ার আগে মুশফিক ২৬ বলে ৩টি চার এবং ১ ছক্কায় ৩২ রান করেন। এর ফলে দলীয় ১৪৩ রানের মাথায় বাংলাদেশ ৪র্থ উইকেট হারায় বাংলাদেশ। এরপর আফিফ এলেও, জিম্বাবুয়ের বিরুদ্ধে প্রথম ম্যাচের সেই আফিফকে গতকাল কিন্তু খ্ুঁজে পাওয়া যায়নি। ৮ বলে মাত্র ৭ রান করে ফিরে যান কোন চার-ছক্কা ছাড়াই। অন্যদিকে ব্যাট চালিয়েই যাচ্ছিলেন মাহামুদউল্লাহ। ১৯তম ওভারে ছক্কা হাঁকিয়ে টি- টোয়েন্টি ক্যারিয়ারে ৪র্থ ফিফটি তিনি আদায় করে নেন। তবে জারভিসের শেষ ওভারে ছক্কা হাঁকাতে গিয়ে বাউন্ডারি সীমানায় তিনি উইলিয়ামসের হাতে ধরা পড়েন। তার আগে ৪১ বলে তিনি ১টি ও ৫টি বিশাল ছক্কার মাধ্যমে ৬২ রান করেছিলেন। পরের বলেই মোসাদ্দেক (২)- কে ফিরিয়ে দিয়ে হ্যাটট্রিকের সম্ভাবনায় নিজেকে দাঁড় করান জারভিস। সাইফউদ্দিন তাতে বাধা হয়ে দাঁড়ান এবং শেষ পর্যন্ত ৬ রানে অপরাজিত ছিলেন। এতে অপর অভিষিক্ত আমিনুল ইসলাম ০ রানে অপরাজিত থাকেন। জিম্বাবুয়ের সফল বোলার জারভিস ৩২ রানে ৩টি, এমপফু ৪২ রানে ২ উইকেট নেন।

১টি করে উইকেট পান মুতুমবোদজি (১৭ রানে) ও রায়ান বার্ল (১৩ রানে)।
জয়ের জন্য ১৭৬ রানের লক্ষ্যে খেলতে নামা জিম্বাবুয়ে মাত্র ৮ রানের মধ্যে প্রথম সারির টেইলর (০), চাকাভা (০) এবং উইলিয়ামসন (২)- কে হারিয়ে ব্যাকফুটে চলে যায়। জিম্বাবুয়ে শিবিরে ইনিংসের ৫ম বলেই প্রথম আঘাতটা হানেন শফিউদ্দিন। সাকিবের সহায়তায় তিনি টেইলরকে ফিরিয়ে দেন। ২য় ওভারের ৩য় বলেই চাকাভাকে বোল্ড করেন দলনায়ক সাকিব আল হাসান। দলে ফেরা শফিউলের চমক শুরু হয় উইলিয়ামসকে ফেরানোর মাধ্যমে। এরপর ২৭ রান পর্যন্ত ছিলো ৪র্থ উইকেটের আয়ু। অভিষিক্ত আমিনুল ইসলাম ভাঙ্গেন এই জুটি। দলীয় ৩৫ রানে তিনি ১১ রান করা মুতুমবোদজি সাজঘরে ফেরান। এরপর ৪৪ রানের মধ্যে ৬ষ্ঠ এবং ৬৬ রানে ৭ম উইকেট হারিয়ে খাদের কিনারায় গিয়ে পৌঁছে জিম্বাবুয়ের ইনিংস। এই বুঝি শেষ হলো তাদের ইনিংস। কিন্তু সেটা বেশ কিছুটা দেরি হলো মুতোমবামি ও জারভিসের দৃঢ়তার কারণে। ৭ম উইকেটে এ দুজন সীমাহীন সাহসিকতার সাথে ইনিংসে অবিশ^াস্যভাবে ৫৮ রান যোগ করেন। দলীয় ১২৪ রানে এ জুটির ফাটল ধরান শফিউল।

শফিউদ্দিনের সহায়তায় তিনি ৩২ বলে ৪টি চার ও ৩টি ছক্কায় ৫২ রান করা মুতোমবামি’কে আউট করেন। ১৩৬ রানে রানে ২০ বলে ১ চার ও ২ছক্কায় ২৭ রান করা জারভিস আউট হলে সেখানেই পরের উইকেটটি হারিয়ে অল-আউট হয়ে যায় জিম্বাবুয়ে। বাংলাদেশের সফল বোলার শফিউল ৩৮ রানে ৩টি, মোস্তাফিজ ৩৮ রানে ২টি, অভিষিক্ত আমিনুল ইসলাম ১৮ রানে ২টি এবং সাকিব আল হাসান ২৮ ও শফিউদ্দিন ১৪ রানে ১টি করে উইকেট নেন।

The Post Viewed By: 241 People

সম্পর্কিত পোস্ট