চট্টগ্রাম মঙ্গলবার, ১৫ অক্টোবর, ২০১৯

সর্বশেষ:

১৬ সেপ্টেম্বর, ২০১৯ | ২:২১ এএম

স্পোর্টস ডেস্ক

আফগানিস্তানের টানা জয় আবার হারলো বাংলাদেশ

ভাগ্য বদল করতে পারল না বাংলাদেশ। টি-টোয়েন্টিতে আফগানিস্তানের কাছে টানা চার ম্যাচ হারল টাইগাররা। গতকাল মিরপুর শেরেবাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে ত্রিদেশীয় সিরিজের ম্যাচে স্বাগতিকদের ২৫ রানে হারিয়ে টানা দ্বিতীয় জয় তুলে নিয়েছে আফগানরা। ক্রিকেটের নবীন শক্তির কাছে ¯্রফে পাত্তাই পায়নি বাংলাদেশ। এর আগে একমাত্র টেস্টেও টাইগাররা হেরেছে ঘরের মাঠে। অন্যদিকে রশিদ খানদের দুর্দান্ত এ জয়ে টি-টোয়েন্টিতে নতুন ইতিহাস গড়ল আফগানিস্তান। টি-টোয়েন্টির সংক্ষিপ্ত ফরম্যাটে প্রথম দল হিসেবে টানা ১২টি ম্যাচে জয় পেল আফগানরা। এর আগে ২০১৬-১৭ মৌসুমে ওয়েস্ট ইন্ডিজ, ওমান, আরব আমিরাত ও আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে খেলেছিল আফগানিস্তান। টি-টোয়েন্টির সংক্ষিপ্ত ফরম্যাটে বরাবরই অসাধারণ তারা। এ পর্যন্ত ৭৩ ম্যাচ খেলে ৫১টিতে জয় পেয়েছে আফগানিস্তান।

প্রথমে ব্যাট করে মোহাম্মদ নবীর ৫৪ বলে ৮৪ রানের বিধ্বংসী এক ইনিংসে ৬ উইকেটে ১৬৪ রান তুলে আফগানিস্তান। জবাবে ইনিংসের এক বল আগেই ১৩৯ রানে অলআউট হয়ে যায় বাংলাদেশ। লক্ষ্য ছিল ১৬৫ রানের। শুরুতেই চমক বাংলাদেশের। ওপেনিংয়ে লিটন দাসের সঙ্গে দেখা গেল মুশফিকুর রহীমকে। তবে মুশফিক স্ট্রাইকিং এন্ড পর্যন্ত যেতে পারলেন না, তার আগেই ধাক্কা টাইগার শিবিরে। ইনিংসের দ্বিতীয় বলেই মুজিব উর রহমানকে তুলে মারতে গিয়ে কভারে ক্যাচ হন লিটন (০)। মুশফিকও নতুন ব্যাটিং অর্ডারে মানিয়ে নিতে পারেননি। ৩ বলে ৫ রান করেই পেসার ফরিদ আহমেদকে স্কুপ করতে গিয়ে বোল্ড হন অভিজ্ঞ এই ব্যাটসম্যান। চাপ কাটিয়ে ওঠার চেষ্টা করছিলেন সাকিব আল হাসান। তবে ১৩ বলে ২ বাউন্ডারিতে ১৫ রান করে তিনিও ধরেন সেই পথ। মুজিব উর রহমানের ওই ওভারেই গোল্ডেন ডাকে ফেরেন সৌম্য সরকার, এলবিডব্লিউ হয়ে। ৩২ রানে ৪ উইকেট হারায় টাইগাররা। দল তখন মহাবিপদে। সেখান থেকে বাংলাদেশকে টেনে নেয়ার চেষ্টা করেছেন মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ আর সাব্বির রহমান। পঞ্চম উইকেটে ৫০ বলে ৫৮ রানের জুটি গড়েন তারা। অবশেষে এই জুটিটি ভেঙে দেন গুলবাদিন নাইব। ১৪তম ওভারে তার স্লোয়ার এক ডেলিভারি বুঝতে না পেরে ব্যাট চালিয়ে দেন মাহমুদউল্লাহ, বাউন্ডারিতে সহজ ক্যাচ ধরেন নাজিব তারাকাই। ৩৯ বলে ৪ বাউন্ডারিতে মাহমুদউল্লাহ তখন ৪৪ রানে। পরের ওভারে আউট সাব্বিরও, ২৭ বলে করেন ২৪।

ম্যাচটা তখন চলে যায় আফগানিস্তানের নিয়ন্ত্রণে। পরের ব্যাটসম্যানরা অলৌকিক কিছু করতে পারেননি। আগের ম্যাচের নায়ক আফিফ হোসেন ধ্রুব ১৪ বলে ২ বাউন্ডারিতে করেন ১৬ রান। মোসাদ্দেক হোসেনের ব্যাট থেকে আসে ১০ বলে ১২। আর শেষদিকে ৭ বলে ১৫ রানের এক ঝড়ো ইনিংস খেলেন মুস্তাফিজুর রহমান। ইনিংসের ২ বল বাকি থাকতেই বাংলাদেশের ইনিংস থেমেছে ১৩৯ রানে। আফগানদের পক্ষে বল হাতে ছড়ি ঘুরিয়েছেন মুজিব উর রহমান। ১৫ রানে তিনি নেন ৪টি উইকেট। এছাড়া গুলবাদিন নাইব আর রশিদ খান নেন ২টি করে উইকেট।

অথচ টস জিতে প্রথমে ব্যাটিংয়ে নেমে শুরুতেই চাপে পড়েছিল আফগানিস্তান। ইনিংসের প্রথম ডেলিভারি, আফগানিস্তানের ওপেনার রহমানউল্লাহ গুরবাজ বলটা ডিফেন্সই করেছিলেন। কিন্তু মোহাম্মদ সাইফউদ্দীন এমনই আনপ্লেয়বল এক ডেলিভারি দিলেন, ডিফেন্ড করেও উইকেটটা ধরে রাখতে পারলেন না আফগান ওপেনার। সাইফউদ্দীনের আউটসুইং ডেলিভারিটি উইকেটে লেগে স্ট্যাম্প কয়েক চক্কর ঘুরতে ঘুরতে বাতাসে ভাসতে থাকে। আসলেই চোখ ধাঁধিয়ে দেয়ার মতো এক ডেলিভারি, বিস্ময়ে তাকিয়ে রইলেন সবাই। শুরুতে উইকেট হারিয়েও অবশ্য থেমে থাকেনি আফগানিস্তান। দ্বিতীয় ওভার চলছিল তখন। সাকিবের চতুর্থ বলটি তুলে মারতে গিয়েছিলেন আরেক ওপেনার হযরতউল্লাহ জাজাই। কিন্তু বল অনেক ওপরে ওঠলেও সীমানা দড়ি পর্যন্ত যায়নি, ১ রানেই লিটন দাসের ক্যাচ হন জাজাই। তৃতীয় ওভারে এসে আরও এক উইকেট তুলে নেন সাইফউদ্দীন। ১৩ বলে ১১ রান করে নাজিব তারাকাই লেগ সাইডের বাউন্ডারিতে হন সাব্বির রহমানের ক্যাচ। তৃতীয় উইকেটে একটু প্রতিরোধ নাজিবুল্লাহ জাদরান আর আসগর আফগানের। তাদের ১৭ বলে ২১ রানের জুটিটি ভাঙেন সাকিব, নাজিবুল্লাহকে (৫) মিডঅফে সৌম্য সরকারের ক্যাচ বানিয়ে। ৪০ রানে ৪ উইকেট হারায় আফগানিস্তান। সেখান থেকে বড় এক জুটি মোহাম্মদ নবী আর আসগরের। ৬২ বলে ৭৮ রান যোগ করেন তারা। কিছুতেই কিছু হচ্ছিল না। ১৭তম ওভারে আবারও সাইফউদ্দীনের হাতে বল তুলে দেন সাকিব। আর বল হাতে নিয়েই আরেকবার ঝলক দেখান এই অলরাউন্ডার। ৩৫ বলে ৪০ রান করা আসগরকে সাব্বিরের ক্যাচ বানান দ্বিতীয় বলে। পঞ্চম বলে দুর্দান্ত এক ইনসুইংগারে বোল্ড করেন গুলবাদিন নাইবকে (০)। তবে নবী ঠিকই হাফসেঞ্চুরি তুলে নেন, ৪১ বলে। পরের সময়টায় তো আরও ভয়ংকর হয়ে উঠেন। আফগানিস্তানের বড় সংগ্রহ গড়ার কারিগর ছিলেন আসলে এই অলরাউন্ডারই। ৫৪ বলে ৮৪ রানে অপরাজিত থাকেন নবী, যে ইনিংসে ৩টি চারের সঙ্গে তিনি হাঁকান ৭টি ছক্কা। বাংলাদেশের পক্ষে বল হাতে সবচেয়ে সফল ছিলেন সাইফউদ্দীন। তবে প্রথম তিন ওভারে ১৬ রান দিয়ে ৪ উইকেট নিলেও শেষ ওভারের ১৭ রান খরচায় মোট দিয়েছেন ৩৩। ৪ ওভারে ১৮ রান দিয়ে ২টি উইকেট নেন সাকিব।

The Post Viewed By: 128 People

সম্পর্কিত পোস্ট