চট্টগ্রাম রবিবার, ২২ সেপ্টেম্বর, ২০১৯

সর্বশেষ:

২৬ আগস্ট, ২০১৯ | ১:১৭ এএম

হুমায়ুন কবির কিরণ

বেন স্টোকসের অবিশ্বাস্য ইনিংস

লিডস জিতে ইতিহাস গড়লো ইংল্যান্ড

প্রথম ইনিংসে ৬৭, দ্বিতীয় ইনিংসে ৩৬২

ক্রিকেট যে কতটা অনিশ্চয়তার খেলা হতে পারে সেটা বিশ্ব গতকাল দেখলো ইংল্যান্ডের লিডসে। যে দলটি মাত্র ৬৭ রানে অল-আউট ধুঁকতে থাকে তারাই কিনা শেষ পর্যন্ত বিজয়ী। সেটাও আবার চতুর্থ ইনিংসে রেকর্ড তাড়া করে। অস্ট্রেলিয়ার প্রথম ইনিংসে ১৭৯ রানে জবাবে স্বাগতিকরা অল-আউট হয় ৬৭ রানে। অজিরা দ্বিতীয় ইনিংসে করে ২৪৬, মানে জিততে হলে ইংল্যান্ডকে করতে হবে ৩৫৯ রান। প্রথম ইনিংসে এত কম রানে আউট হয়ে টেস্ট জেতার দ্বিতীয় নজির ছিল না গতকালের পূর্ব পর্যন্ত। ক্রিকেটে অসম্ভব বলে কিছু নেই, ৬৭ রানে আল-আউট হওয়া দলই শেষ পর্যন্ত রেকর্ড গড়েই জিতলো। হ্যাজেলউড-কামিন্স তোপ সামলে এক বেন স্টোকসের অপরাজিত শতকে মাত্র ১ উইকেটে লিডস টেস্ট জিতে সিরিজে সমতায় ফিরেছে ইংল্যান্ড। বিশ্বকাপে নিউজিল্যান্ডের বিরুদ্ধে টাই ম্যাচে ট্রফি জেতাতে অন্যতম ভুমিকা রাখা সেই বেন স্টোকস আবারও নায়ক।

আম্পয়ারদের কয়েকটি সিদ্ধান্ত বিতর্কিত না হলে হয়তো অজিরাই জিততো তবে স্টোকস যা করেছেন তাকে কোনভাবেই খাটো করা যাবে না। উইকেট পতনের মিছিলে এক প্রান্ত আগলে রেখে শুধু সেঞ্চুরিই নয় দলকে জিতিয়েই মাঠ ছেড়েছেন স্টোকস। ২১৯ বলে ১৩৫ রানে অপরাজিত ছিলেন তিনি। তার শেষ সঙ্গী জ্যাক লিচ ১৭ বলে ১ রান করেন। আগেরদিন শিষ্যদের সেরাটা নিংড়ে দিতে বলেছিলেন ইংল্যান্ডের ব্যাটিং কোচ গ্রাহাম থর্প। ব্যাটিং দ্রোণাচার্যের কাছ থেকে অবশ্য এমন উপদেশ না নিলেও চলতো জো রুটদের। কারণ ঘরের মাঠ থেকে অ্যাশেজ হাতছাড়া হওয়ার শঙ্কায় এমনিতেই খোঁচা খাওয়া বাঘ হয়ে উঠেছিল ইংলিশরা। দেয়ালে পিঠ ঠেকে যাওয়ায় একটা লড়াই দিতেই হত। সেটাই যেন ভর করলো স্টোকসের ব্যাটে। ৩৫৯ রানের বিশাল এক লক্ষ্য। আফগানিস্তান, আয়ারল্যান্ড, বাংলাদেশ, জিম্বাবুয়ে, নিউজিল্যান্ড ও ইংল্যান্ড। এ ছয়টি টেস্ট খেলুড়ে দেশ চতুর্থ ইনিংসে কখনো সাড়ে তিন’শর বেশি রান তাড়া করে জিততে পারেনি। লিডস টেস্টে সেই তালিকা থেকে নাম কাটাতে পারলো ইংল্যান্ড। আগেরদিন জয়ের জন্য ৩৫৯ রানের লক্ষ্যে ব্যাটিংয়ে নেমেছিল ইংল্যান্ড। ৩ উইকেটে ১৫৬ রান তুলে তৃতীয় দিন শেষ করেছে স্বাগতিকেরা। ২০৩ রানের দূরত্বে থেকে গতকাল চতুর্থ দিন শুরু করে স্বাগতিকরা। ভরসা বলতে ছিলেন স্টোকস, জনি বেয়ারস্টো ও জস বাটলার। বেয়ারস্টো ৩৬ রান করে কিছুটা সঙ্গ দিতে পারলেও মাত্র ১ রান করে রান আউট হয়ে স্বাগতিকদের হার প্রায় নিশ্চিত করে যান বাটলার। ইংল্যান্ড জয় থেকে তখনও ১০৬ রান দূরে, হাতে ছিল ৪ উইকেট। কিন্তু একমাত্র বেন স্টোকস ছাড়া রান করার মতো যে কেউ নেই। তাই আশা ছেড়ে দিয়েছিলেন ইংল্যান্ড ভক্তরা। কিন্তু হ্যাজলউড-কান্সিদের উপর তা-ব চালিয়েই একাই ম্যাচটি বের করে নেন স্টোকস। তার ১৩৫ রানের ইনিংসে ছিল ১১টি চার ও ৮টি ছয়ের মার। বোঝাই যাচ্ছে কতটা বেপরোয়া ছিল স্টোকসের ব্যাট। হ্যাজেলউড প্রথম ইনিংসের মতো গতকাল সফল হলেও (প্রথম ইনিংসে ৫ উইকেট দ্বিতীয় ইনিংসে ৪ উইকেট) দলকে জেতাতে পারেননি, লিয়ণ নেন জোড়া উইকেট।

ইংল্যান্ডের গতকালের অসামাণ্য দৃঢ়তার কারণেই আলোচনায় উঠে আসে ১৩১ বছর আগের এক টেস্টের কথা। ১৮৮৮ সালে লর্ডস টেস্ট আর সেটিও ছিল এবারের মতো অ্যাশেজ সিরিজ। তারই প্রথম টেস্টে নিজেদের দ্বিতীয় ইনিংসে ৬০ রানে অল আউট হয়েছিল অস্ট্রেলিয়া। আর প্রথম ইনিংসে ১১৬ রান তুলেছিল পার্সি ম্যাকডনেল-অ্যালেক বানারম্যানের অস্ট্রেলিয়া। দুই ইনিংসে এত কম সংগ্রহ নিয়েও অস্ট্রেলিয়া কিন্তু ম্যাচটা জিতেছিল! চার্লি টার্নার ও জে জে ফেরিসের তোপে ইংল্যান্ড প্রথম ইনিংসে তুলেছিল ৫৩ আর দ্বিতীয় ইনিংসে ৬২। প্রায় দেড় শতাব্দী আগের সে ম্যাচের প্রসঙ্গ এখন উঠে আসার কারণ দ্বিতীয় ইনিংসে ইংল্যান্ডের দৃঢ়তা আর প্রথম ইনিংসে ন্যুনতম ৭০ রানের নিচে অল আউট হওয়া। টেস্ট ম্যাচে এক ইনিংসে ৭০ রানের নিচে অলআউট হয়েও কোনো দলের জয়ের সেটাই সবশেষ নজির। লিডসে ইংল্যান্ড সেই নজিরকে দ্বিতীয় বানিয়ে দিলো।

The Post Viewed By: 75 People

সম্পর্কিত পোস্ট