চট্টগ্রাম রবিবার, ২২ সেপ্টেম্বর, ২০১৯

সর্বশেষ:

১৯ আগস্ট, ২০১৯ | ১:১৪ এএম

দেবাশীষ বড়–য়া দেবু

এম এ আজিজে আফগানিস্তানের প্রস্তুতি ম্যাচ

ড্রেসিং রুমসহ মাঠের অনেক কাজ বাকি

বিশে^ নতুন ক্রিকেট উদীয়মান শক্তি যুদ্ধ বিধ্বস্থ দেশ আফগানিস্তান। বাংলাদেশের বিরুদ্ধে একমাত্র টেস্ট খেলতে দলটি আগামী ৩০ আগস্ট চট্টগ্রামে এসে পৌঁছুবে। দু- দেশের টেস্ট ম্যাচটি আগামী ৫ সেপ্টেম্বর থেকে চট্টগ্রামের জহুর আহমেদ স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত হবে। এর আগে আফগানিস্তান দল বিবিসি ইলেভেনের বিরুদ্ধে একটি দু-দিনের ম্যাচে অংশ নেবে। ম্যাচটি আগামী ২ ও ৩ সেপ্টেম্বর এম এ আজিজ স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত হবে। এ কারণে গতকাল এম এ আজিজ স্টেডিয়ামের বিভিন্ন সুযোগ সুবিধা পরখ করার জন্য আসেন বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের ভারতীয় কিউরেটর মি. প্রবীণ এবং জহুর আহমেদ চৌধুরী স্টেডিয়ামের ভেন্যু ম্যানেজার সাবেক জাতীয় ক্রিকেটার ফজলে বারী খান রুবেল। এ সময় তাদের সাথে ছিলেন বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের দেশীয় কিউরেটর জাহেদ রেজা বাবু এবং জহুর আহমেদ চৌধুরী স্টেডিয়ামের ফেসিলিটিজ এক্সিকিউটিভ সাইফুল আলম বাবু। এদেরকে এম এ আজিজ স্টেডিয়ামের বিভিন্ন স্থান ঘুরিয়ে দেখান সাবেক ক্রিকেটার ও চট্টগ্রাম জেলা ক্রীড়া সংস্থার নির্বাহী সদস্য ও ক্রিকেট কমিটির যুগ্ম সম্পাদক জি এম হাসান। সবকিছু দেখে মি. রুবেল যা বললেন, তাতে বোঝা যাচ্ছে বেশ কিছু কাজ করাতে হবে। তবে এসব কোন কাজই নতুন করে নয়। কেবল পরিবর্তন ও পরিবর্ধন করতে হবে। এই যেমন ২টি ড্রেসিং রুমের ১০টি এসি’র মধ্যে ৭টিই নষ্ট। ফলস সিলিং, পেইন্টিং, সেনিটারি এবং ইলেকট্রিক্যালের অনেক কাজ করতে হবে। তিনি আরো বলেন, মাঠের অবস্থাও ভাল নয়। উইকেটে বালু চলে এসেছে। পীচেরও অনেক কাজ করতে হবে। আউটফিল্ডের লেবেলিংও নষ্ট হয়ে গেছে। এসব ব্যাপারে চট্টগ্রাম জেলা ক্রীড়া সংস্থার নজর দেয়ায় অনুরোধ করেন ভেন্যু ম্যানেজার মি. রুবেল। এতোসব কাজ করতে অনেক টাকার প্রয়োজন। এই খরচটা কে বহন করবে, এমনই প্রশ্নের জবাবে রুবেল বললেন জেলা ক্রীড়া সংস্থা না করলে ক্রিকেট বোর্ডকেই করতে হবে। তিনি আরো বলেন, এসব কাজ এতোদিন ধরে অবশ্য ক্রিকেট বোর্ডই করে আসছে। এদিকে যা যা কাজ করতে হবে, তা আফগানিস্তানের ম্যাচের আগেই শেষ করা সম্ভব বলে জানান মি. রুবেল। ওয়ান ডে এবং টি-২০ ক্রিকেটে আফগানিস্তান বেশ ধাতস্থ ও পরিচিত হলেও টেস্ট পরিবারে বলতে গেলে একেবারে নতুন সদস্য। এ পর্যন্ত দেশটি মাত্র ২টি টেস্টে অংশ নেয়। বাংলাদেশের বিরুদ্ধে তাদের ম্যাচটি হবে ৩ নম্বরের। ২০১৮ সালের ১৪ জুন আফগানিস্তানের টেস্ট অভিষেক হয়েছিলো ভারতে বিরুদ্ধে ব্যাঙ্গালোরের চিন্নাস্বামী স্টেডিয়ামে। ঐ ম্যাচে ভারতের ১ম ইনিংসে করা ৪৭৪ রানের জবাবে ১ম ইনিংসে ১০৯ ও ২য় ইনিংসে ১০৩ রানে অল-আউট হয়। তাদের পরাজয়টা ছিল এক ইনিংস ও ২৬২ রানে। অবশ্য এ বছরের ১৫ মার্চ আয়ারল্যান্ডের বিরুদ্ধে তাদের ২য় টেস্টে ৭ উইকেটের জয় পায় আফগানিস্তান। দেরাদুনের রাজীব গান্ধী স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত এ ম্যাচে আয়ারল্যান্ডের ১ম ইনিংসে ১৭২ ও ২য় ইনিংসে ২৮৮ রানের বিরুদ্ধে ১ম ইনিংসে করা ৩১৪ রানের পর ২য় ইনিংসে ৩ উইকেট হারিয়ে জয়ের লক্ষ্যে (১৪৯) পৌঁছে আফগানিস্তান। তবে এবারের বিশ^কাপে টানা ১০টি ম্যাচে হেরে রেকর্ড গড়লেও ওয়ানডেতে বেশ উজ্জ্বল আফগানিস্তানভ ২০০৯ সালে স্কটল্যান্ডের বিরুদ্ধে অভিষেক ম্যাচে ৮৯ রানের জয়ের পর এ পর্যন্ত দেশটি ১২৩টি ওয়ানডে ম্যাচে অংশ নেয়। তার মধ্যে ৫৯টিতে জিতে ৬০টিতে পরাজিত হয়। একটি ম্যাচ টাই হয় এবং ৩টি ম্যাচে কোন ফলাফল আসেনি। টি-২০ ক্রিকেটে আরো উজ্জ্বল আফগানিস্তান। ২০০৯ সালে অভিষেক ম্যাচে ৫ উইকেটে হারায় আয়ারল্যান্ডকে। তারপর থেকে রীতিমতো উড়তে থাকে আফগানিস্তান। এ পর্যন্ত ৭১ টি ম্যাচে অংশ নিয়ে ৪৯টি জয়ের বিপরীতে ২২টিতে হার মানে।

The Post Viewed By: 410 People

সম্পর্কিত পোস্ট