চট্টগ্রাম রবিবার, ২৯ জানুয়ারি, ২০২৩

সর্বশেষ:

৬ ডিসেম্বর, ২০২২ | ১০:৪০ অপরাহ্ণ

অনলাইন ডেস্ক

ফ্রান্সকে ভয় পায় না ইংল্যান্ড : বুকায়ো সাকা

দুর্বার গতিতে এগিয়ে চলেছে ফ্রান্স। কিলিয়ান এমবাপ্পে, অলিভিয়ের জিরুদের চোখ ধাঁধানো পারফরম্যান্সে দাপটের সাথে কোয়ার্টার ফাইনালে উঠে গেছে ফরাসীরা। তিউনিশিয়ার বিপক্ষে গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচটি বাদ দিলে নিখুঁত ফুটবলই খেলেছে বিশ্বকাপের বর্তমান চ্যাম্পিয়নরা। এবারও শিরোপায় চোখ রাখা ফান্সের সামনে এবার ইংল্যান্ড বাধা।

 

সেমি-ফাইনালে ওঠার লড়াইয়ে আগামী ১০ ডিসেম্বর ইংল্যান্ডের মুখোমুখি হবে ফ্রান্স। হাই-ভোল্টেজ এই ম্যাচ নিয়ে এখনই আলোচনা শুরু হয়ে গেছে। দারুণ ছন্দে থাকার পরও ইংল্যান্ডের চেয়ে ফ্রান্সকে এই ম্যাচে এগিয়ে রাখছেন অনেকে। ইংল্যান্ডও জানে এমবাপ্পের মতো চিতার গতির ফুটবলার আছে যে দলে, সেই দলের বিপক্ষে লড়া কতোটা কঠিন। তবে এসব নিয়ে ভাবছেন না বুকায়ো সাকা। ইংলিশ এই উইঙ্গার বলছেন, ফ্রান্সকে ভয় পাওয়ার কোনো কারণ নেই। 

পাঁচ গোল দিয়ে এখন পর্যন্ত কাতার বিশ্বকাপের সর্বোচ্চ গোলদাতা এমবাপ্পে। এমবাপ্পের এই ফর্মই ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ফ্রান্সকে ফেবারিট করে তুলেছে। এমনকি শেষ ষোলোতে সেনেগালের বিপক্ষে ৩-০ গোলের দাপুটে জয়ের পরও ইংল্যান্ডের কোচ গ্যারেথ সাউথগেট জানান, ফ্রান্সের বিপক্ষ পরীক্ষার মুখে পড়তে যাচ্ছে তারা। থ্রি লায়ন্সের জন্য এটা ‘এসিড টেস্ট।’

 

সেনেগালের বিপক্ষে একটি গোল করা সাকার দাবি, ফ্রান্সের মতো সমান সম্মান ইংল্যান্ডেরও প্রাপ্য। তিনি বলেছেন, ‘আমরা তাদের মান সম্পর্কে জানি। কিন্তু আমরা নিজেদের মান সম্পর্কেও অবগত আছি। এ পর্যন্ত তিনটি ম্যাচে আমরা কোনো গোল হজম করিনি। একইসাথে টুর্নামেন্টে আমরা সবচেয়ে বেশি গোল দিয়েছি। টুর্নামেন্টে আমাদের দারুণ সব অভিজ্ঞতা হয়েছে।’

‘গত কয়েকটি বড় আসরের ফলাফল যাচাই করলেই দেখা যাবে, আমরা কোথায় আছি। আমরা সেমি-ফাইনাল ও ফাইনালে খেলেছি। সে কারণে বড় দলের নাম এলে আমাদের নাম বলতেই হবে। আমাদের দলে এমন কিছু খেলোয়াড় আছে, যারা জানে কোন সময় কী করতে হবে। এই মুহূর্তে আমরা ইতিবাচতক আছি। অবশ্যই বিশ্বকাপের শিরোপা জয়ে আমাদের নিজেদের ওপর আস্থা আছে।’ যোগ করেন তিনি। 

 

তবে এমবাপ্পেকে সামলাতে ইংলিশদের যে দূর্গ গড়ে রাখতে হবে, তা মেনে নিচ্ছেন সাকা, ‘এখানে শুধুমাত্র একজন এমবাপ্পে আছে। বর্তমানে সম্ভবত বিশ্বের সেরা খেলোয়াড় সে। আমরা তার প্রতিভা সম্পর্কে জানি। তাকে আটকানোর জন্য আমরা প্রস্তুত। কিন্তু শুধু তিনি নন, ফ্রান্সের অন্যান্য খেলোয়াড়রাও প্রতিভাবান। ম্যাচটি সত্যিকার অর্থেই দারুণ কঠিন হবে। প্রথম চারটি ম্যাচে আমরা ভালো খেলেছি। আমাদের সেই ক্ষুধা ধরে রাখতে হবে।’

চার ম্যাচে ১২ গোল করা ইংল্যান্ড ইতোমধ্যেই প্রমাণ করেছে বিশ্বকাপে তারা কতটা যোগ্য, এমনটাই মনে করেন সাকা। তাই প্রতিপক্ষ নিয়ে না ভেবে নিজেদের সেরাটা দেওয়ায় নজর ইংলিশদের। সাকা বলেন, ‘নিঃসন্দেহে আমাদের দলের মান অনেক ভাল। অসাধারণ একটি আক্রমণভাগ নিয়ে আমরা গর্ব করতেই পারি। আমি দলের কোচ নই, আমি খেলোয়াড়। গ্যারেথ এবং তার কোচিং স্টাফের উপর আমাদের সবার আস্থা রাখতে হবে। সম্ভাব্য সেরা গেম প্ল্যানই তারা আমাদের জন্য তৈরী করেছে। আমার মনে হয় না এখানে খুব বেশি পরিবর্তনের প্রয়োজন আছে।’

 

ইউরোর ফাইনালে ইতালির বিপক্ষে পেনাল্টি মিস করেছিলেন সাকা। তবে পরিণত হয়ে ওঠা সাকা এবার আত্মবিশ্বাসী, ‘অবশ্যই আমি আরও কিছুটা পরিণত হয়েছি। একইসাথে ওই টুর্নামেন্টের পর আমার অনেক উন্নতি হয়েছে। ইউরোর ফাইনালের ব্যর্থতা আমি কখনই ভুলব না। ওই সময়ের পর থেকে যে পরিমাণ ভালবাসা আমি সমর্থকদের কাছ থেকে পেয়েছি, সেটার জোরেই নিজেকে আরও বেশি পরিণত করে তুলেছি। আর্সেনালে আমি কখনই পেনাল্টি শট নিইনি। এবার যদি সেই মুহূর্ত আসে, আমি অনেক বেশি খুশি হবো।’

বিশ্বকাপের রেকর্ডে চোখ রেখে আরও আত্মবিশ্বাসী হতে পারেন সাকা। বিশ্বকাপে তাদের দল ফ্রান্সের বিপক্ষে ম্যাচে কখনই হারেনি। আগের দুই সাক্ষাতে দুইবারই জয় পায় ইংলিশরা। তৃতীয়বারের মতো বিশ্বকাপে মুখোমুখি হতে যাচ্ছে ইংল্যান্ড-ফ্রান্স। দল দুটির তৃতীয় এই সাক্ষাত হচ্ছে ৪০ বছর পর। সর্বশেষ ১৯৮২ বিশ্বকাপে মুখোমুখি হয়েছিল তারা। প্রথম সাক্ষাত ১৯৬৬ বিশ্বকাপে।  

 

পূর্বকোণ/রাজীব

শেয়ার করুন