চট্টগ্রাম সোমবার, ২৮ নভেম্বর, ২০২২

সর্বশেষ:

১৮ নভেম্বর, ২০২২ | ১১:৩০ পূর্বাহ্ণ

নিজস্ব ক্রীড়া প্রতিবেদক

উদ্বাস্তু শিবির থেকে বিশ্বকাপে

ফুটবলার হবেন, বিশ্ব পর্যায়ে খেলবেন এমনটা স্বপ্নেও ভাবেননি আলফানসো ডেভিস, এডুয়ার্ড কামাভিনগা ও আওয়ার মাবিল। কারণ উদ্বাস্তু শিবিরে ছোটবেলায় বেড়ে উঠাটাই তাদের ছিল সংগ্রামের। তবে সেই সংগ্রাম এখন অতীত তিনজনই তার দেশের হয়ে পৌঁছেছেন কাতারে। কাঁড়ি কাঁড়ি অর্থে ভাগ্য যেমন বদলেছে তেমনি সেরাদের মঞ্চে নিজেদের মেলে ধরতেও প্রস্তুত তারা।

 

আলফানসো ডেভিস : বায়ার্ন মিউনিখের ডিফেন্ডার আলফনসো ডেভিস বিশ্বকাপে কানাডা দলে সুযোগ পেয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় একটা অনুপ্রেরণা মূলক মেসেজ পোস্ট করেছেন। ২০০০ সালের ২ নভেম্বর ঘানার এক উদ্বাস্তু শিবিরে জন্ম হয় ডেভিসের। গৃহযুদ্ধ চলাকালীন তার বাবা মা লাইবেরিয়া পালিয়ে যান। তার বাবা মা সংসার চালাতে হিমশিম খেতেন। ডেভিসের যখন পাঁচ বছর বয়স তারা কানাডায় চলে আসেন। সেখানেই তার ফুটবলের হাতেখড়ি হয়। ফুটবলের সবচেয়ে বড় আসরে অংশ নিতে পেরে উচ্ছসিত ডেভিস টুইটারে লেখেন, যে শিশু উদ্বাস্তু শিবিরে জন্মেছে, তার এত বড় জায়গায় আসার কথা ছিল না ! কিন্তু আমরা বিশ্বকাপে যাচ্ছি। কাউকে এটা বলার সুযোগ দিও না যে তোমার স্বপ্ন অবাস্তব। স্বপ্ন দেখতে থাক ও স্বপ্ন পূরণ করতে থাক।

 

এডুয়ার্ড কামাভিনগা : উদ্বাস্তু শিবির থেকে উঠে আসা ফ্রান্সের এডুয়ার্ড কামাভিনগা কাতারে তার প্রথম বিশ্বকাপ খেলতে চলেছেন। ২০০৩ সালে অ্যাংগোলার এক উদ্বাস্তু শিবিরে তার জন্ম হয়। ছয় ভাইবোনের তৃতীয়জন কামাভিনগাকে মা জুডোতে মন দিতে বলেন, পরে বাবা তাকে ফুটবল খেলাতে ড্রাপিউ ফৌজেরাসে নিয়ে যান। ২০১৩ সালে বিধ্বংসী আগুনে তার বাড়ি ভস্মীভূত হয়ে যায়। কিন্তু ফুটবলকে ধরেই হারিয়ে যাওয়া সম্পদ ফিরে পান এডুয়ার্ড। মাত্র ১৮ বছর বয়সেই রিয়েল মাদ্রিদে যোগ দেন তিনি। গত ১০০ বছরে তিনিই ফ্রান্সের কনিষ্ঠতম ফুটবলার। বিশ্বকাপে ভালো প্রদর্শন করে উদ্বাস্তুদের উদ্দ্যেশ্যে বার্তা দিতে চান কামাভিগনা।

 

আওয়ার মাবিল : দক্ষিণ সুদানে কেনিয়ার উদ্বাস্তু শিবিরে জন্মগ্রহণকারী অস্ট্রেলিয়ায় উদ্বাস্তু হিসেবে গৃহীত আওয়ার মাবিলের এটি প্রথম বিশ্বকাপ। বিশ্বকাপের যোগ্যতা অর্জনের ম্যাচে পেনাল্টি থেকে গোল করে অস্ট্রেলিয়াকে টানা পঞ্চমবারের জন্য বিশ্বকাপে উঠতে সাহায্য করেন ২৬ বছরের মাবিল। পেরুকে হারিয়ে অস্ট্রেলিয়াকে বিশ্বকাপে তুলে অস্ট্রেলিয়ায় বসবাসকারী উদ্বাস্তুদের জন্য নতুন আশার আলো দেখাবে বলে মমে করছেন তিনি। বিশ্বকাপে নিজেকে উজাড় করে দিতে চান মাবিল।

 

পূর্বকোণ/আর

শেয়ার করুন

সম্পর্কিত পোস্ট