চট্টগ্রাম শুক্রবার, ০৯ ডিসেম্বর, ২০২২

সর্বশেষ:

২৮ সেপ্টেম্বর, ২০২২ | ১১:০৮ পূর্বাহ্ণ

হুমায়ুন কবির কিরণ

৫ তারকা বাড়ি ফিরছেন আজ

জাতিকে গৌরবান্বিত করা বাংলাদেশ নারী ফুটবলাররা ছুটি পেয়ে আজ নিজ নিজ বাড়িতে ফিরছেন। সাফ নারী চ্যাম্পিয়নশিপে অংশ নিতে ৩ সেপ্টেম্বর সাবিনা খাতুনের নেতৃত্বে নেপাল যায় বাংলাদেশ দল। সেখানে ৬ সেপ্টেম্বর শুরু হওয়া আসরে পরের দিনই মাঠে নামে বাংলাদেশ। গ্রুপ পর্ব পেরিয়ে দ্বিতীয়বারের মতো ফাইনালে নাম লিখিয়ে স্বাগতিক নেপালকে ৩-১ গোলে উড়িয়ে প্রথমবারের মতো দক্ষিণ এশিয়ার শ্রেষ্ঠত্ব লাভ করে বাংলাদেশ নারী ফুটবল দল। গর্বের এই যাত্রায় ২০১৬ সালে যে ভারতের কাছে হেরে শিরোপা স্বপ্ন চুরমার হয়ে গিয়েছিল তাদেরই গ্রুপ পর্বে হারের স্বাদ দেয় বাংলাদেশ।

দলটির অন্যতম ৫ সদস্য হলেন বৃহত্তর চট্টগ্রামের। তারা হলেন খাগড়াছড়ি সাতভাইয়ার পাড়ার জমজ বোন আনাই মগিনী ও আনুচিং মগিনী, লক্ষীছড়ির মনিকা চাকমা এবং রাঙামাটির ঋতুপর্ণা চাকমা ও রূপনা চাকমা। কোচ হিসেবে ছিলেন খাগড়াছড়ি সদরের আপার পেরাছড়ার বাসিন্দা তৃষ্ণা চাকমা। পুরো দলকে আগলে রেখেছিলেন তিনি। ২১ সেপ্টেম্বর গৌরবের ট্রফি নিয়ে দেশে ফেরার পর ছাদখোলা বাসে সংবর্ধনা পায় ফুটবলাররা। বিভিন্ন পুরস্কারের সাথে সংবর্ধনার জোয়ারেও ভাসতে থাকেন তারা, যা চলবে আরও কিছুদিন।

দীর্ঘ প্রায় এক মাস পরিবার থেকে বিচ্ছিন্ন ফুটবলাররা আজ ফিরছেন নীড়ে। নাড়ীর টানে চট্টগ্রামের পাঁচ তারকাও আজ নিজ নিজ বাড়িতে ফিরবেন। প্রধানমন্ত্রীর সাথে বিভিন্ন সংগঠনের উপহার, সর্বত্র প্রশংসার বানে সিক্ত সকলেই আজ বাবা-মা, ভাই বোনের সাথে অর্জন ভাগভাগির সাথে উপভোগ করবেন তাদের নিয়ে জেলা জুড়ে মাতামাতি।

কারণ তাদের ফেরা নিয়ে চট্টগ্রাম যেমন উৎসবমুখর, তেমনি আনন্দের জোয়ার বইছে খাগড়াছড়ি ও রাঙামাটিতে, থাকছে বেশ কিছু সংবর্ধনাও। আসরে গোলকিপিংয়ে দারুণ দক্ষতার স্বাক্ষর রাখেন রুপনা চাকমা। জন্মের আগেই বাবাকে হারানোর পর মায়ের অনুপ্রেরণায় হাজারো সামাজিক প্রতিকূলতা এবং পারিবারিক অসচ্ছলতা অতিক্রম করে ফুটবলে নিবেদিত থাকার ফল পেলেন রুপনা। মাত্র ১৬ বছর বয়সেই তিনি এখন দক্ষিণ এশিয়ার সেরা নারী গোলরক্ষক। আসরে পাঁচ ম্যাচে মাত্র একটি গোল হজম করেন, সেটাও ফাইনালে।

তারই একই জেলার সতীর্থ মিডফিল্ডার ঋতুপর্ণা চাকমা, জার্সি নম্বর ১৭। টুর্নামেন্টে ঋতুপর্ণার পা থেকে আসে দুটি গোল। তারচেয়েও বড় কথা সুপার সাব পরিচিতি তার, বদলি খেলোয়াড় হিসেবে নিয়মিত গোল করেন এবং অন্যদের গোল করার সুযোগ তৈরি করে দেন।

অন্যদিকে, খাগড়াছড়ির দুই বোন আনাই মগিনী ও আনুচিং মগিনীর পজিশন যথাক্রমে রক্ষণ ও আক্রমণভাগে। খাগড়াছড়ির আরেক ফুটবলার মনিকা চাকমার (জার্সি ৬) পজিশন মধ্যমাঠ। ফাইনালে প্রথম গোলে সহায়তা করেন মনিকা। আসরজুড়ে ভালো ফুটবল খেলে মোস্ট ভ্যালুয়েবল প্লেয়ার নির্বাচিত হন তিনি। দুর্দান্ত ড্রিবলিং, অসাধারণ ক্ষিপ্রতায় প্রতিপক্ষের রক্ষণ দুর্গ ভেদ এবং অতুলনীয় সব থ্রো দিয়ে এই মিডফিল্ডার সবার নজর কেড়েছেন। ২০১৯ সালে বঙ্গমাতা অনূর্ধ্ব-১৯ নারী আন্তর্জাতিক টুর্নামেন্টে মঙ্গোলিয়ার বিপক্ষে যে গোলটি করেছিলেন, ফিফা সেই গোলটিকে ‘জাদুকরী গোল’ হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছিল।

চট্টগ্রামের ক্রীড়া সংগঠকরা প্রায়ই তৃপ্তির ঢেকুর তোলেন, খেলা আয়োজনের সংখ্যায়। বিস্তর সুযোগ সুবিধা থাকা সত্তে¡ও চট্টগ্রামে এমন কোন নারী ফুটবলার নেই যারা জাতীয় দলে জায়গা করে নিতে পারে। অবশ্য চট্টগ্রামের নারী ফুটবলতো স্রেফ অস্তিত্বহীন একটি ইভেন্ট! অথচ দূর পাহাড়ের সুবিধা বঞ্চিত মেয়েরা আজ বিশ্বমঞ্চে আলো ছড়াচ্ছে। হতদরিদ্র পরিবার থেকে উঠে আসা মেয়েরা সামাজিক প্রতিবন্ধকতার সাথে পাহাড়ের অজস্র ‘পাহাড়’ ডিঙ্গিয়ে জাতিকে উপহার দিচ্ছেন অনন্য গৌরব।

বাফুফে মহিলা উইংয়ের প্রধান মাহফুজা আক্তার কিরণ, কোচ গোলাম রাব্বানী ছোটন’রা যেভাবে এই দলটিকে পরিচালনা করেছেন সেটাও প্রশংসনীয়। সাথে আসবে বাফুফে’র সঠিক পরিকল্পনা প্রণয়ন ও তার বাস্তবায়ন। তবে শেষ কথা হলো, আনাই মগিনী ও আনুচিং মগিনী, মনিকা চাকমা, ঋতুপর্ণা চাকমা ও রূপনা চাকমা, এই পঞ্চপান্ডব যেভাবে জাতিকে গর্বিত করেছেন, তাদের স্যালুট জানাতেই হয়।

পূর্বকোণ/আর

শেয়ার করুন

সম্পর্কিত পোস্ট