চট্টগ্রাম সোমবার, ২৬ সেপ্টেম্বর, ২০২২

২৩ সেপ্টেম্বর, ২০২২ | ৪:১৪ অপরাহ্ণ

স্পোর্টস ডেস্ক

শীর্ষ সম্পদ রোহিতের, সাকিব দুই নম্বরে

টি-টোয়েন্টি সংস্করণের খেলোয়াড়রা কেন্দ্রীয় চুক্তি, পৃষ্ঠপোষকদের চুক্তি ও বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তের ফ্র্যাঞ্চাইজি লিগ খেলা বাবদ বড় অঙ্কের অর্থ আয় করেন। ক্রিকেটকে বলা হয় ‘ক্যাপ্টেনস গেম’। নিজের দেশে তো বটেই, ক্রিকেট বিশ্বেও অনেক অধিনায়ক জনপ্রিয়তায় এগিয়ে। কেউ কেউ ঢের এগিয়ে সম্পদ, আয়ের দিক থেকেও। আসন্ন টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে অংশ নিতে যাওয়া ৮ দেশের অধিনায়কদের মধ্যে সম্পদের বিচারে সবচেয়ে এগিয়ে আছেন ভারতের অধিনায়ক রোহিত শর্মা। এরপরই দুইয়ে জায়গা করে নিয়েছেন বাংলাদেশী কাপ্তান সাকিব আল হাসান।

সেলিব্রিটিদের সম্পদের পরিমাণ নিয়ে গবেষণা করা সিএ নলেজ ও বাণিজ্যবিষয়ক ওয়েবসাইট ক্রিকফ্যান অক্টোবরে শুরু অস্ট্রেলিয়া টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের শীর্ষ আট দলের অধিনায়কের সম্পদের হিসাব প্রকাশ করেছে। আট দলের অধিনায়কদের কার কত সম্পদ তা দেখে নেওয়া যাক-

 

রোহিত শর্মা (ভারত)
ভারতের অধিনায়ক রোহিত শর্মা বিশ্বের অন্যতম শ্রেষ্ঠ ও জনপ্রিয় অধিনায়ক। তবে টি-টোয়েন্টি অধিনায়ক হিসেবে জাতীয় দলে এখনও সেরা সাফল্য না পেলেও আইপিএলে মুম্বাই ইন্ডিয়ান্সের হয়ে নিজের সেরাটা দেখিয়েছেন তিনি। দলনেতা ছাড়াও তিনি ওপেনিংয়ে মূল ভরসা। দলের সাফল্যে অনেক অবদান রেখেছেন রোহিত। বিসিসিআই থেকে ‘এ প্লাস’ গ্রেডে বেতন পাওয়া রোহিত শর্মার বার্ষিক আয় ৭ কোটি ভারতীয় রুপি। এছাড়া মুম্বাই ইন্ডিয়ান্সের সঙ্গে চুক্তি থেকে রোহিতের আয় আসর প্রতি ১৬ কোটি ভারতীয় রুপি। এ ছাড়া বিভিন্ন নামিদামি ব্র্যান্ড (নাইকি, ম্যাগি, নিশান) থেকেও আয় আছে ভারতের অধিনায়কের। সব মিলিয়ে বছরে রোহিতের আয় দাঁড়ায় ২৪ মিলিয়ন ইউএস ডলার বা ২৪৩ কোটি টাকা।

 

সাকিব আল হাসান (বাংলাদেশ)
আবারও বাংলাদেশের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে সাকিব আল হাসানের কাঁধে। তার অধীনে এশিয়া কাপে ভালো না করলেও টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে ভালো ফলের আশা করছে বিসিবি। তবে ৩৫ বছর বয়সী এই অলরাউন্ডারের বার্ষিক আয় কত? জাতীয় দল থেকে বার্ষিক আয় বাদেও সাকিব নানা ব্র্যান্ড অ্যাম্বাসেডরের সঙ্গে যুক্ত আছেন। তাদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হচ্ছে, লেনোভো, অপো, পেপসি। এসব ব্র্যান্ডের প্রতিনিধি, জাতীয় দল এবং বিভিন্ন লিগ থেকে সাকিব বছরে আয় করেন আনুমানিক ২২ মিলিয়ন ইউএস ডলার, বাংলাদেশী মুদ্রায় যা ২২২ কোটি টাকা।

অ্যারন ফিঞ্চ (অস্ট্রেলিয়া)
কিছুদিন আগেই ওয়ানডে থেকে অবসর নিয়েছেন অস্ট্রেলিয়া দলের অধিনায়ক অ্যারন ফিঞ্চ। তবে টি-টোয়েন্টি এখনও চালিয়ে যাচ্ছেন ৩৫ বছর বয়সী এই ওপেনার। তার হাত ধরেই ২০২১ সালের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ জিতেছিল অস্ট্রেলিয়া। জাতীয় দলের বেতন এবং নানান ফ্র্যাঞ্চাইজি খেলে বছরে ফিঞ্চের আয় দাঁড়ায় ৮ মিলিয়ন ইউএস ডলার বা ৮১ কোটি টাকা।

 

বাবর আজম (পাকিস্তান)
পাকিস্তানের রান মেশিনখ্যাত ওপেনার এবং দলের অধিনায়ক বাবর আজমের আয়ও চোখধাঁধানো। বছরে বাবর আয় করেন ৪ মিলিয়ন ডলার। জাতীয় দলের সঙ্গে কেন্দ্রীয় চুক্তি ছাড়াও বাবর পিএসএলে খেলেন করাচি কিংসের হয়ে। শুধু করাচি কিংসের হয়েই আসরজুড়ে বাবর আয় করেন ১.২৪ কোটি ভারতীয় রুপি। এ ছাড়া পাকিস্তানের সবচেয়ে প্রখ্যাত ক্রিকেটার হওয়ায়, নানান অ্যাম্বাসেডরসহ সবমিলিয়ে ৪০ কোটি টাকা আয় করেন তিনি।

কেন উইলিয়ামসন (নিউজিল্যান্ড)
কেন উইলিয়ামসন এই মুহূর্তে নিউজিল্যান্ডের সবচেয়ে সফল অধিনায়ক। তার নেতৃত্বে ব্ল্যাকক্যাপসরা ২০২১ সালে আইসিসি বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপ জিতেছিল। এছাড়া গত দুই ওয়ানডে বিশ্বকাপের ফাইনালও খেলেছে নিউজিল্যান্ড। নিউজিল্যান্ডের এই অধিনায়ক বছরে নানান অ্যাম্বাসেডর এবং ফ্র্যাঞ্চাইজি লিগ খেলে বছরে ৬.৫ মিলিয়ন ইউএস ডলার আয় করেন। সানরাইজারস হায়দ্রাবাদ থেকে গত মৌসুমের আইপিএল থেকে উইলিয়ামসনের আয় ছিল ১৪ কোটি ভারতীয় রুপি। এতে সবমিলিয়ে তার আয় দাঁড়ায় ৬৫ কোটি টাকা।

 

জস বাটলার (ইংল্যান্ড)
সংক্ষিপ্ততম ফরম্যাটে সবচেয়ে ধ্বংসাত্মক ব্যাটসম্যানদের একজন জস বাটলার। মরগান থেকে অধিনায়কত্ব পেয়ে দলকে দারুণভাবে নেতৃত্ব দিচ্ছেন তিনি। বাটলার আইপিএলে রাজস্থান রয়্যালসের হয়ে খেলেন। সেখান থেকে তার আয় ১০ কোটি রুপি। ৩২ বছর বয়সী ইংলিশ এই অধিনায়ক এনডোর্সমেন্ট এবং ম্যাচ ফি থেকে আয় করেন বছরে ১০ মিলিয়ন ইউএস ডলার বা ১০১ কোটি টাকা।

মোহাম্মদ নবি (আফগানিস্তান)
২০২১ সালে আফগানদের নেতৃত্ব তুলে দেওয়া হয় নবির হাতে। তারপর থেকে দারুণভাবে দলকে টেনে নিয়ে যাচ্ছেন ৩৭ বছর বয়সী এই অলরাউন্ডার। সারাবছর বিভিন্ন ফ্র্যাঞ্চাইজি ক্রিকেট লিগ খেলেন নবি। পাশাপাশি আফগানিস্তান ক্রিকেট বোর্ডের সঙ্গে কেন্দ্রীয় চুক্তি ছাড়াও অভিজ্ঞ অলরাউন্ডার প্রচুর অর্থ আয় করে থাকেন। প্রাইমস ওয়ার্ল্ডের একটি প্রতিবেদন অনুসারে, নবির মোট মূল্য ১.২ মিলিয়ন ইউএস ডলার বা ১২ কোটি টাকা।

টেম্বা বাভুমা (দক্ষিণ আফ্রিকা)
দক্ষিণ আফ্রিকার অধিনায়ক ঘরোয়া চুক্তি থেকে তার আয়ের সিংহভাগ উপার্জন করেন। এছাড়া তিনি স্পোর্টস ফুট ওয়্যার ব্র্যান্ড নিউ ব্যালেন্সের ব্র্যান্ড অ্যাম্বাসেডর। নিউজপ্রেস অনুসারে, বাভুমার বার্ষিক আয় ৫ মিলিয়ন ইউএস ডলার বা ৫০ কোটি টাকা।

 

পূর্বকোণ/এএস

শেয়ার করুন

সম্পর্কিত পোস্ট