চট্টগ্রাম রবিবার, ২৭ নভেম্বর, ২০২২

৩১ আগস্ট, ২০২২ | ১২:২৬ অপরাহ্ণ

বাংলাদেশ-আফগানিস্তান ম্যাচের একটি নাতিদীর্ঘ পোস্টমর্টেম…

১২৭ রানের পুঁজি নিয়ে জেতার আশা এখনকার জমানায় দুরাশা। তবু ১৬ ওভার পর্যন্ত বাংলাদেশ খুব ভালোভাবেই ম্যাচে ছিলো। এজন্য অবশ্যই বাংলাদেশ দলকে কৃতিত্ব দিতে হবে। এরপর নজিবুল্লাহ জাদরান ছক্কার ফুলঝরি ছাড়িয়ে ম্যাচটাকে নিজেদের করে নেন। এপর্যায়ে সাকিব আল হাসানরা হয়তো রেশনাল আক্ষেপ করতে পারেন “ইস আর যদি ১৫/২০টি রান স্কোরে যোগ হতো!”

ভারতের বিপক্ষে ১৪৭ রান করা পাকিস্তানী কাপ্তান বাবর আজমও এরকম আক্ষেপে পুড়েছেন। কিন্ত আজকাল টি২০ ক্রিকেট এমন ধুন্ধুমার মারকাটারি পর্যায়ে চলে গেছে যে সেখানে ‘ইফ’ ‘বাট’ ইত্যাদি একেবারে অচল। যাপিত জীবনের মতো, সুযোগ সীমিত; মিরাকল কিছু হলেই কেবল দ্বিতীয় জীবন তথা সেকন্ড চান্স মিলতে পারে — আগের ভুলটাকে শোধরানোর।

পাওয়ার হিটিংয়ের সাবলীল শক্তি বনাম ঐতিহ্যবাহী দুর্বলতা এই ম্যাচে আফগানিস্তান ও বাংলাদেশের জয়-পরাজয়ের অন্যতম নিয়ামক। কাকে কখন বোলিং করাবেন, এই দ্বিধা কিংবা ট্যাকটিকাল ঘাটতি টাইগার্সদের এক ক্রনিক ডিজিজ। দলের মূল পেসার মুস্তাফিজুর রহমানকে তাঁর প্রথম স্পেলে মাত্র একটি ওভারের পর সরিয়ে নেয়া হলো। দু’টো ওভার কি দেয়া যেত না? এই কৌশলটা সম্ভবত: আইপিএল থেকে নেয়া, ফিজকে তাঁর আইপিএল দলগুলো বেশ কয়েক বছর যাবত এভাবেই (এক ওভারের পর সরিয়ে নেয়া) ব্যবহার করেছে। কিন্ত টিম ম্যানেজমেন্টকে কে বোঝাবে যে কাটার মাস্টারের আগের সেই তন্ত্র, মন্ত্র আগের মতো ফলদায়ী হচ্ছেনা ! ফলে “ডেথ ওভার বোলার” তকমাও অনেকদিন হলো কাজ করছে না।

ম্যাচ রিডিংয়ে দুর্বলতাও একটি ফ্যাক্টর। ১৬ ওভার শেষে আফগানদের ‘আরআরআর’ (Required Run Rate) ছিলো ওভার প্রতি প্রায় ১১ রান। এই সময়ে তাঁদের ব্যাকফুটে ঠেলে দেয়া যেত, দরকার ছিলো সঠিক ও কার্যকর পরিকল্পনা। ফিজের পরিবর্তে মোসাদ্দেককে বল দেয়া যেত। তা হয়নি। ভালো কথা, দায়িত্ব যখন দেয়াই হলো তখন ঐ ক্রিটিক্যাল ও ভাইটাল সময়ে ফিজের উচিত ছিলো তাঁর সানরাইজার্স-জমানার বিখ্যাত ঝলক প্রদর্শন করা। কোথায় গেল ব্যাটসম্যানকে বিহ্বল করে দেয়া তাঁর সেই তীব্র গতির সর্পিল কাটার? আর কই গেল ফিজ কিংবা সাইফুদ্দিনের ফুল লেংথ ইয়র্কার?

ছক্কার মার খেলে ফিজ এলোমেলো হয়ে পড়েন। সাইফুদ্দিনও সেরকম। নজিবুল্লাহ জাদরান একজন ডাকাবুকো ব্যাটসম্যান, তিনি ফিজ ও সাইফুর এই ভঙ্গুরতা সম্পর্কে সম্যক জ্ঞান রাখেন। বিপরীতে রশিদ খানকে দেখুন। তাঁকে ওভারে একটা ছক্কা মেরে আরেকটা মারতে পারবেন? পারবেন না। কেন পারবেন না, জানেন? রশিদের ইন্টেলিজেন্স, ঐ একটা ছক্কা খাওয়ার পর পরই রশিদ আপনাকে পড়ে ফেলেছেন।

নিজেদের যে কিছু স্টক বল থাকে, তা বিশ্বের বেশিরভাগ বোলার সময়মতো কিছু না কিছু কাজে লাগান। পাকিস্তানের সঙ্গে ভারতের ভূবনেশ্বরের বোলিং মনে পড়ছে? ব্যাক অফ লেংথে শর্ট বল করে কি দুর্দান্তভাবেই না ভূবি সেদিন পাকিস্তানকে ছত্রখান করে দিলেন! আর কি নিখুঁত লাইন ও লেংথ — চোখের আরাম।

আমি আশাবাদী মানুষ। এই ম্যাচে আফগানিস্তান অবশ্যই ফেভারিট ছিলো। ম্যাচটা শ্রীলংকার সঙ্গে আফগানদের ম্যাচের মতো একতরফা হয়নি, এটা একটি ইতিবাচক ও আশা জাগানিয়া দিক। পরের ম্যাচে বাংলাদেশ ভালো করবে, সেই প্রত্যাশা।

 

পূর্বকোণ/আর

শেয়ার করুন