চট্টগ্রাম বুধবার, ০৩ মার্চ, ২০২১

সর্বশেষ:

২৭ জুলাই, ২০১৯ | ২:০১ পূর্বাহ্ণ

স্পোর্টস ডেস্ক

মালিঙ্গার বিদায়ী ম্যাচে রঙিন শ্রীলংকা

হারে ‘অভিষেক’ দেখলেন তামিম

বিশ্বকাপের পর প্রথমবারের মতো মাঠে নেমেছিল বাংলাদেশ, শ্রীলংকাও। লাসিথ মালিঙ্গার বিদায়ী ম্যাচের সাথে টাইগার ক্রিকেটে ১৪তম অধিনায়ক হিসাবে তামিম ইকবালের অভিষেক ম্যাচ, দু’দলের কাছেই ম্যাচটির গুরুত্ব ছিল দু’রকমের। তাতে শেষ হাসি লংকান পেসার লাসিথ মালিঙ্গার। বিদায়ী ম্যাচে জয় দিয়ে রাঙিয়ে দিলেন তার বর্ণাঢ্য ক্যারিয়ারকে। অন্যদিকে অধিনায়কত্বে যেমন তেমনি ব্যাটিংয়ে বাজে একটি দিনই কাটালেন তামিম ইকবাল খান। প্রেমাদাসায় গতকাল স্বাগতিক শ্রীলঙ্কার ছুঁড়ে দেওয়া ৩১৫ রানের টার্গেটে ব্যাট করতে নেমে অতিথি বাংলাদেশ অলআউট হয় ২২৩ রানে। তাতে টাইগাররা ম্যাচ হারে ৯১ রানের বড় ব্যবধানে। গতকালের জয়ে ৩ ম্যাচ সিরিজে ১-০ তে এগিয়ে গেলো লঙ্কানরা। সিরিজের দ্বিতীয় ওয়ানডে ম্যাচ অনুষ্ঠিত হবে আগামীকাল ২৮ জুলাই, পরের ম্যাচটি ৩১ জুলাই। প্রেমাদাসায় ৩০০ রান চেজ করে জয়ের রেকর্ড ছিল না। তামিমরা ব্যাটিংয়ে নেমেছিলেন সেই রেকর্ড নিজেদের করে নেওয়ার স্বপ্ন নিয়ে। স্বপ্নপূরণের জন্য প্রয়োজন ছিল ৩১৫ রান। কিন্তু ইনিংসের প্রথম ওভারেই দুর্দান্ত এক ইয়র্কারে তামিমকে বোল্ড করেন লাসিথ মালিঙ্গা। দলীয় ৩০ রানের মাথায় নুয়ান প্রদীপের বলে এলবির ফাঁদে পড়েন মোহাম্মদ মিথুন। রিভিউ নিয়ে বাঁচতে পারেননি। সাজঘরে ফেরার আগে তিনি করেন ২১ বলে ১০ রান। ৩০ রানের মাথায় বিদায় নেন আরেক ওপেনার সৌম্য সরকার। মালিঙ্গার অসাধারণ এক ডেলিভারিতে বোল্ড হওয়ার আগে সৌম্য ২২ বলে করেন ১৫ রান। দলীয় ৩৯ রানের মাথায় ৩ রান করা মাহমুদউল্লাহ রিয়াদকে ফিরিয়ে দেন লাহিরু কুমারা। বাংলাদেশ চতুর্থ উইকেট হারায়। স্বপ্নটা দূরের বাতিঘর হয়ে যায় তথনই। এরপর দলকে টেনে নিতে থাকেন সাব্বির-মুশফিক। ইনিংসের ২৯তম ওভারে ধনাঞ্জয়া ডি সিলভাকে উড়িয়ে মারতে গিয়ে ফার্নান্দোর হাতে ধরা পড়েন সাব্বির। তার আগে মুশফিকের সঙ্গে ১১১ রানের জুটি গড়েন। ক্যারিয়ারের ষষ্ঠ ফিফটি হাঁকিয়ে সাজঘরে ফেরার আগে সাব্বির ৫৬ বলে ৭টি চারের সাহায্যে করেন ৬০ রান। দলীয় ১৫০ রানের মাথায় বাংলাদেশ পঞ্চম উইকেট হারায়। মুশফিক ওয়ানডে ক্যারিয়ারের ৩৬তম ফিফটির দেখা পান। মুশফিকের সঙ্গে ভুল বোঝাবুঝি রান আউট হয়ে ফেরেন মোসাদ্দেক হোসেন (১২)। দ্রুতই বিদায় নেন মেহেদী হাসান মিরাজ (২)। ইনিংসের ৩৯তম ওভারে দলীয় ১৯৯ রানের মাথায় বিদায় নেন মুশফিক। তার আগে ৮৬ বলে পাঁচটি বাউন্ডারিতে করেন ৬৭ রান। একই ওভারে নুয়ান প্রদীপ বোল্ড করেন ২ রান করা শফিউল ইসলামকে। মুস্তাফিজ ১৪ বলে তিন বাউন্ডারিতে ১৮ রান করে আউট হন। শেষ ওয়ানডেতে লাসিথ মালিঙ্গা ৯.৪ ওভারে ৩৮ রান দিয়ে পান ৩টি উইকেট। নুয়ান প্রদীপ ৩টি, লাহিরু কুমারা ১টি এবং ডি সিলভা ২টি উইকেট তুলে নেন। এর আগে লাগামছাড়া বোলিং ও দৃষ্টিকটু ফিল্ডিং আর ক্যাচ মিসের সুযোগে।বড়সড় সংগ্রহই দাঁড় করায় শ্রীলঙ্কা। কলম্বোয় স্বাগতিক দল ৮ উইকেটে তুলে ৩১৪ রান। লাসিথ মালিঙ্গার বিদায়ী ওয়ানডেতে টস জিতে আগে ব্যাট করতে নামে শ্রীলঙ্কা। অতিথিদের এলোমেলো বোলিংয়ের সুবিধা সবচেয়ে ভালোভাবে কাজে লাগিয়েছেন কুসল পেরেরা। দাপুটে ব্যাটিংয়ে খেলেছেন ৯৯ বলে ১১১ রানের ইনিংস। এই মাঠে তিনশ রান তাড়ায় জিততে পারেনি কোনো দল। গতকাল বাংলাদেশও ব্যর্থ হয়েছে।
গতকাল ২১ মাস পর দেশের হয়ে খেলতে নামা শফিউল ইসলামের হাত ধরে তৃতীয় ওভারে মেলে প্রথম সাফল্য। বিশ্বকাপে তিন নম্বরে সফল আভিশকা ফার্নান্দো ব্যর্থ ওপেনিংয়ে নেমে। অফ স্টাম্পের অনেক বাইরের বল তাড়া করতে গিয়ে ধরা পড়েন স্লিপে। শুরুর সাফল্য ধরে রাখতে পারেনি বাংলাদেশ। কুসল পেরেরা ক্রিজে গিয়ে শট খেলতে শুরু করতেই বেরিয়ে পড়ে নতুন বলে বাংলাদেশের দৈন্য। প্রথম ৪ ওভারে ১৩ রান নেওয়া লঙ্কানরা পরের ৬ ওভারে যোগ করেন ৬৪। এমনিতে ধীর-স্থির ব্যাটিংয়ের জন্য পরিচিত হলেও গতকাল দিমুথ করুনারতেœ রান তোলেন বলের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে। আক্রমণে ফিরে স্বাগতিক অধিনায়ককে ফিরিয়ে ৯৭ রানের জুটি ভাঙেন মিরাজ। পরে সৌম্য ভাঙেন দুই কুসলের জুটি। ওয়ানডেতে পঞ্চম ও বাংলাদেশের বিপক্ষে দ্বিতীয় সেঞ্চুরির পর শর্ট ফাইন লেগে ক্যাচ দিয়ে ফিরে যান পেরেরা। ২০১৪ সালের পর প্রেমাদাসায় প্রথম লঙ্কান ক্রিকেটার হিসেবে সেঞ্চুরি করা বাঁহাতি এই ব্যাটসম্যানের ১১১ রানের দাপুটে ইনিংস গড়া ১৭ চার ও ১ ছক্কায়। ভাঙে ১০০ রানের জুটি।
পুরান বলে নিয়মিত উইকেট নিয়ে শ্রীলঙ্কার সংগ্রহকে আরও উঁচুতে উঠতে দেননি বাংলাদেশের বোলাররা। লাহিরু থিরিমান্নেকে ফিরিয়ে ৬০ রানের পঞ্চম উইকেট জুটি ভাঙেন মুস্তাফিজুর রহমান। পরে বিদায় করেন এই জুটির আরেক ব্যাটসম্যান অ্যাঞ্জেলো ম্যাথিউসকে। মুস্তাফিজের দুই উইকেটের মাঝে বিপজ্জনক থিসারা পেরেরাকে দ্রুত বিদায় করেন শফিউল। ধনাঞ্জয়া ডি সিলভাকে ফিরিয়ে নেন নিজের তৃতীয় উইকেট। তুমুল করতালির মধ্যে ব্যাটিংয়ে আসেন লাসিথ মালিঙ্গা। নিজের সবশেষ ওয়ানডে ইনিংসে অপরাজিত থাকেন ৬ রানে। ৬২ রানে ৩ উইকেট নেন শফিউল। মুস্তাফিজ ২ উইকেট নেন ৭৫ রানে। মাথা খাটিয়ে বোলিং করা সৌম্য ৫ ওভারে ১৭ রান দিয়ে নেন ১ উইকেট।

শেয়ার করুন
The Post Viewed By: 303 People

সম্পর্কিত পোস্ট