চট্টগ্রাম মঙ্গলবার, ২২ অক্টোবর, ২০১৯

সর্বশেষ:

১১ জুলাই, ২০১৯ | ২:৫১ পূর্বাহ্ণ

স্পোর্টস ডেস্ক

অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে অগ্নি পরীক্ষায় ইংল্যান্ড

বিশ^কাপ ফাইনাল নিশ্চিত করার লড়াইয়ে আজ মাঠের লড়াইয়ে নামছে শিরোপা প্রত্যাশী স্বাগতিক ইংল্যান্ড ও বর্তমান চ্যাম্পিয়ন অস্ট্রেলিয়া। নিজেদের মাঠে প্রথম শিরোপা জয়ের লক্ষ্যে জয় দিয়ে ফাইনালের মঞ্চে পা রাখতে চায় ইংল্যান্ড। অন্যদিকে, শেষ চারের টিকিট যতবারই কেটেছে অস্ট্রেলিয়া, প্রতিবারই উঠেছে ফাইনালে। এরমধ্যে সর্বোচ্চ পাঁচবারই শিরোপা জিতেছে অজিরা। শিরোপা ধরে রাখার মিশনে আজও সে জয়ের ধারা ধরে রাখতে চায় অস্ট্রেলিয়া। অগ্নি পরীক্ষার এ ম্যাচের জন্য দীর্ঘ চার বছরের পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করতে হবে ইংলিশদের। ২০১৫ সালের বিশ্বকাপের প্রথম রাউন্ড থেকে দুর্ভাগ্যজনকভাবে বিদায় নিতে হয়েছিল ইংল্যান্ডকে। এমন হতাশাজনক ঘটনাটি দলের ওয়ানডে ম্যাচের ধরণ নিয়ে নতুন করে চিন্তাভাবনা করতে বাধ্য করেছিল ইংল্যান্ডকে। যাতে তারা সফলও হয়েছে। মূলত এরপর ওয়ানডেতে ‘নিজস্ব ঘরোনার’ ক্রিকেট খেলতে শুরু করে ইংলিশরা। এরপর অস্ট্রেলিয়ার ট্রেভর বেলিস কোচের দায়িত্ব নিয়ে প্রথমবারের মত ইংল্যান্ডকে বিশ্বকাপের শিরোপা এনে দিতে শুরু থেকেই ছক কষা শুরু করেন। এতে দলের পরিবর্তনটাও এসেছে দারুণভাবে। ইয়ান মরগানের দারুণ নেতৃত্বে ওয়ানডে র‌্যাংকিংয়ের শীর্ষস্থান দখল করে ইংল্যান্ড। দুই ওপেনার জেসন রয় ও জনি বেয়ারস্টোর দারুণ নৈপুণ্যে বড় রান সংগ্রহকে আবর্তন করেই ইংলিশরা এগিয়ে গেছে। এখন তাদের চাওয়া সেমিফাইনাল নয় শিরোপা। ইংল্যান্ড ফাইনালে উঠতে পারলে বিনামূল্যে বৃটেনে ম্যাচটি সম্প্রচার করবে বলে ঘোষণা দিয়েছে স্বাগতিক স্যাটেলাইট সম্প্রচারক স্কাই স্পোর্টস। রেকর্ড অনুযায়ী বিশ্বকাপে সর্বশেষ সাত আসরের কোন সেমিফাইনালেই হারেনি অস্ট্রেলিয়া। তবে ২০ বছর আগে এজবাস্টনে দক্ষিণ আফ্রিকার সঙ্গে টাই করেছিল তারা। যদিও রান রেটে এগিয়ে থাকার কারণে ওই ম্যাচ থেকে ফাইনালের টিকিট পায় অস্ট্রেলিয়া।
এবারো মানসিকভাবে এগিয়ে রয়েছে অস্ট্রেলিয়া। কারণ চলমান টুর্নামেন্টের গ্রুপ পর্বে গত মাসে লর্ডসে এশেজ এ প্রতিপক্ষ ইংল্যান্ডকে ৬৪ রানে হারায় অসিরা। দুই পেসার বাঁ-হাতি জেসন বেহরেনডর্ফ ও মিচেল স্টার্কের ভাগাভাগি করে ৯ উইকেট শিকারের পর অধিনায়ক এরন ফিঞ্চ ইংলিশ বোলারদের চোখ রাঙানিকে উপেক্ষা করে ব্যাট হাতে তুলে নিয়েছেন শতক। ম্যাচটিতে অবশ্য ইংলিশ দলের হয়ে খেলতে পারেননি তাদের ‘সৌভাগ্যবান’ ক্রিকেটার জেসন রয়। হ্যামস্ট্রিং ইনজুরির কারণে বিশ্রামে থাকতে হয়েছে তাকে। তবে সুস্থ হয়ে তার ফেরার পরই বদলে যায় ইংল্যান্ড দলের চেহারা। পরের দুই ম্যাচে ভারত ও নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে দুটি গুরুত্বপূর্ণ জয় এনে দিয়েছেন তিনি। যার সুবাদে শেষ চার নিশ্চিত হয় স্বাগতিক দলের। পক্ষান্তওে, ২০০১ এশেজ টেস্টের পর এজবাস্টনে কোন ফরমেটের ক্রিকেটেই জয় নেই অস্ট্রেলিয়ার। শুধু তাই নয়, গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচে দক্ষিণ আফ্রিকার কাছে বিষ্ময়করভাবে ১০ রানে হেরে গেছে তারা। স্টার্ককে মানিয়ে নেয়ার পথ খুঁজতে থাকা ইংল্যান্ডের লক্ষ্য থাকবে অসি টপ অর্ডারের রানের গতিকে প্রতিহত করা। বল টেম্পারিংয়ের অভিযোগে ১২ মাসের নিষেধাজ্ঞা কাটিয়ে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ফিরেই ব্যাটিং তা-ব শুরু করেছেন অসি ওপেনার ডেভিড ওয়ার্নার। টুর্নামেন্টে এ পর্যন্ত সংগ্রহ করেছেন ৬৩৮ রান। তারপরও ইংলিশ পেসার লিয়াম প্লানকেট মনে করেন ম্যাচে তারা আরো উজ্জীবিত থাকবেন। তিনি বলেন,‘ চার বছর ধরে আমরা ভাল ক্রিকেট খেলছি। র‌্যাংকিংয়ের এক নম্বরে উঠে এসেছি। নিজেদের দিনে আমরা যে কোন দলকেই হারাতে পারব বলে মনে করি।’ ১৯৯২ সালের পর বিশ্বকাপের কোনো নকআউট ম্যাচ জিততে পারেনি ইংল্যান্ড। সেখানে অস্ট্রেলিয়া শেষ পাঁচ আসরের চারটিরই চ্যাম্পিয়ন। প্লানকেট অবশ্য এবার নিজেদেরই এগিয়ে রাখছেন, ‘এটা অনেক বড় ম্যাচ। তারা ভালো দল। কঠিন একটা ম্যাচ হবে। তবে আমাদের মনে হচ্ছে, আমরা সম্ভবত ফেবারিট।’
এদিকে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে সর্বশেষ ম্যাচে হ্যামস্ট্রিং ইনজুরিতে পড়েছেন উসমান খাজা। তার পরিবর্তিত হিসেবে পাঁচবারের বিশ্ব চ্যাম্পিয়নদের একাদশে ডাক পেয়েছেন পিটার হ্যান্ডসকম্ব। এর মাধ্যমে বিশ্বকাপে সরাসরি অভিষেক ঘটতে যাচ্ছে তার। মূলত ব্যাটিং লাইন-আপ শক্তিশালী করতেই হ্যান্ডসকম্বকে ডাকা হয়েছে। এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন অস্ট্রেলিয়ান কোচ জাস্টিন ল্যাঙ্গার। গতকাল ল্যাঙ্গার সাংবাদিকদের বলেছেন, ‘আমি তোমাদের কাছে সত্যি কথাই বলতে চাই। অবশ্যই পিটার খেলছে এবং এটা শতভাগ সত্যি। এটা তার প্রাপ্য। প্রাথমিক দলে তার সুযোগ না পাওয়াটা ছিল দুর্ভাগ্য। এই মুহূর্তে দারুণ ছন্দে আছে হ্যান্ডসকম্ব। অস্ট্রেলিয়া-এ’ দলের হয়েও সে ভাল খেলেছে। মিডল অর্ডারে তাকে পেয়ে দলের ভারসাম্য ফিরে এসেছে।’
ল্যাঙ্গার আরো নিশ্চিত করেছেন খাজার বদলি হিসেবে দলে এসেছেন ম্যাথু ওয়েড। তবে তার জন্য আইসিসি’র টেকনিক্যাল কমিটির অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়া। ল্যাঙ্গার বলেন, ঘরোয়া আসরে ওয়েড দারুণভাবে নিজেকে প্রমাণ করে চলেছেন। যদি সে দলে সুযোগ পায় তবে অভিজ্ঞতার নিরিখে বলাই যায় তার ব্যাপারে আমরা সবাই আত্মবিশ্বাসী। এদিকে পিঠের ইনজুরিতে ভোগা মার্কোস স্টয়নিস অস্ট্রেলিয়াকে কিছুটা সুখবর দিয়েছেন। নেটে তিনি নিজেকে ফিট প্রমাণ করেছেন। অনুশীলনে খেলোয়াড়দের খালি পায়ে পুরো মাঠ হাঁটতে দেখা গেছে, ল্যাঙ্গার নিজেও এই সময় খেলোয়াড়দের সাথে হেঁটেছেন। বিষয়টি নিয়ে ব্যাখ্যা দিতে গিয়ে ল্যাঙ্গার বলেছেন, ‘বিষয়টি চমৎকার। ম্যাথু হেইডেন ও আমি প্রতি টেস্ট ম্যাচের আগেই এটা করতাম। অনেকটা কুসংস্কার থেকেই আমরা এটা করতাম। আসলে গত এক বছর আগে অস্ট্রেলিয়ান ক্রিকেটের দিকে তাকালে দেখা যাবে কি ভয়ঙ্কর এক পরিস্থিতির মুখোমুখি আমরা হয়েছিলাম। এটা শুধুমাত্র আমাদের ক্রিকেটকে নয়, পুরো দেশকেই প্রভাবিত করেছিল। তবে কঠোর পরিশ্রম করে আমরা আবারো পুরনো জায়গায় ফিরে এসেছি। ভাল ক্রিকেট উপহার দেয়াই এখন আমাদের মূল লক্ষ্য।’

The Post Viewed By: 152 People

সম্পর্কিত পোস্ট