চট্টগ্রাম শনিবার, ১৬ জানুয়ারি, ২০২১

১৩ জানুয়ারি, ২০২১ | ১১:৪০ পূর্বাহ্ণ

মিটু বিভাস

আর্থিক দৈন্যতা ঘুচাতে পারে স্থানীয় শিল্প গ্রুপগুলো

সীতাকুণ্ড: দৈন্যতা ভর করেছে ক্রীড়াঙ্গনে

বঙ্গোপসাগরের তীরঘেঁষে পাহাড়ঘেরা অপরূপ সৌন্দর্যের লীলাভূমি সীতাকুণ্ড। এখানকার ক্রীড়াঙ্গনের প্রতিচ্ছবিটাও প্রকৃতির মতোই অপরূপ। সাগরের পাড় অথবা পাহাড়ের পাদদেশে নির্মল পরিবেশে খোলা মাঠে খেলে জাতীয় ও আঞ্চলিক পর্যায়ে প্রতিনিধিত্ব করছেন এখানকার এথলেটরা। আছে জাতীয় পর্যায়ে দক্ষ আম্পায়ার ও রেফারি।

স্থানীয় ক্রীড়া সংগঠকদের আয়োজনে উপজেলার বিভিন্ন প্রান্তে বছরজুড়ে আয়োজিত হয়ে থাকে বিভিন্ন টুর্নামেন্ট। এসব টুর্নামেন্ট থেকে উঠে আসছে অনেক প্রতিভাবান এথলেট। এদেরকে প্রশিক্ষণের মাধ্যমে গড়ে তোলার দায়িত্বটা স্থানীয় ক্রীড়া সংস্থার। কিন্তু সঠিক পরিকল্পনা, দীর্ঘমেয়াদি প্রশিক্ষণ ও বিভিন্ন ইভেন্টে নিয়মিত টুর্নামেন্ট আয়োজনের মধ্যে দিয়ে এসব প্রতিভাবান এথলেটদের স্বপ্নের পাহাড়ে উঠার সঠিক পথটা দেখিয়ে দিতে পারছে না উপজেলা ক্রীড়া সংস্থা।

উপজেলায় সংস্থার কিছু কার্যক্রম থাকলেও পৃষ্ঠপোষকতা ও আর্থিক দৈন্যতার কারণে এসব কর্মসূচিতে নেই ধারাবাহিকতা। সুযোগ সুবিধার অভাবে পথের মাঝেই হারিয়ে যাচ্ছে তৃণমূল থেকে উঠে আসা অনেক এথলেট। ধীরে ধীরে ক্রীড়ায় মেধাশূন্য হয়ে যাওয়ার শঙ্কায় রয়েছে সীতাকুণ্ড। স্বাধীনতা পূর্ববর্তী সময়ে সীতাকুণ্ডের একমাত্র কৃতী ফুটবলার ছিলেন মরহুম বদিউল আলম। ইস্ট পাকিস্তান ফায়ার সার্ভিস দলের হয়ে খেলা এ ফুটবলারের দেখানো পথ ধরে পরবর্তীতে জাতীয় ও আঞ্চলিক পর্যায়ে মাঠ মাতিয়েছেন উপজেলার অনেক এথলেট।

ঢাকা ও চট্টগ্রামে লিগ পর্যায়ে এখনো নিয়মিত অংশগ্রহণ রয়েছে এখানকার ফুটবলারদের। তবে পুরো দেশের মতো বর্তমানে ফুটবলকে ছাপিয়ে ক্রিকেটই এখানে ব্যাপক জনপ্রিয়। গত কয়েকবছর ধরে ক্রীড়া সংস্থার অধীনে কনফিডেন্স সিমেন্ট লিমিটেডের আর্থিক পৃষ্ঠপোষকতায় নিয়মিত অনুষ্ঠিত হচ্ছে উপজেলা ক্রিকেট লিগ। যার সুফলও পাচ্ছে ক্রীড়া সংস্থা। চট্টগ্রাম প্রথম বিভাগ ক্রিকেট লিগে এখন নিয়মিত মুখ সীতাকুণ্ড।

টুর্নামেন্ট থেকে খেলোয়াড় বাছাই করে প্রশিক্ষণের মাধ্যমে চট্টগ্রাম লিগে অংশ নিচ্ছে সীতাকুণ্ড। যারই ধারাবাহিকতায় জাতীয় ‘এ’ দলের হয়ে খেলছে সীতাকু-ের ইরফান হোসেন। গড়ে উঠেছে বাঁশবাড়িয়া, ইমামনগর, সীতাকুণ্ড ক্রিকেট একাডেমিসহ বেশ কয়েকটি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র। পিছিয়ে নেই মেয়েরাও। বিকেএসপিতে দুই বছরব্যাপী মহিলাদের বিশেষ ও উন্নতর প্রশিক্ষণ ক্যাম্পে সুযোগ পেয়েছেন উপজেলার চার ক্রিকেটার শারমিন আক্তার, চিত্রিতা অধিকারী, মেহেরুন্নেছা এবং প্রীতি দাশ। তবে ফুটবলে অনেকটা পিছিয়ে সীতাকুণ্ড। ঘরোয়া ফুটবল টুর্নামেন্টের সংখ্যা অনেক কম। একসময় সিজেকেএস দ্বিতীয় বিভাগে খেললেও এখন লিগে নিয়মিত নয় দলটি।

উপজেলা ক্রীড়া সংস্থার সাধারণ সম্পাদক প্রদীপ ভট্টাচার্য বলেন, মূলত অর্থাভাবে ফুটবল লিগে অংশ নিতে পারছে না উপজেলা দল। তিনি বলেন, গত নভেম্বরে ৩২টি দল নিয়ে অনুষ্ঠিত বদিউল আলম স্মৃতি ফুটবল টুর্নামেন্ট থেকে ৫০ জন খেলোয়াড় বাছাই করা হয়েছে। তাদেরকে প্রশিক্ষণ প্রদান করে সিজেকেএস লিগে অংশ নেয়া সম্ভব। কিন্তু আর্থিক পৃষ্ঠপোষকতার অভাবে কোন পদক্ষেপ নেয়া সম্ভব হচ্ছে না।

তিনি জানান, শুধু ক্রিকেট-ফুটবল নয়, এথলেটিক্সে ভাল সম্ভাবনা রয়েছে এখানে। ২০১৪-১৫ সালে সিজেকেএস আয়োজিত এথলেটিক্স প্রতিযোগিতায় বাড়বকুণ্ড মাহমুদাবাদ উচ্চ বিদ্যালয় চ্যাম্পিয়ন ও সিনিয়র পর্যায়ে সীতাকুণ্ড তৃতীয় স্থান অর্জন করেছে। কিন্তু পৃষ্ঠপোষকতার অভাবে সে ধারাবাহিকতা ধরে রাখা সম্ভব হয়নি। শুধু মাত্র উপজেলা পরিষদ থেকে পাওয়া বরাদ্দে সিজেকেএস প্রথম বিভাগের দলটি তিনি নিয়মিত চালু রাখতে পেরেছেন।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মিল্টন রায় বলেন, এখানকার মানুষ ক্রীড়াপ্রেমী। বছরজুড়ে উপজেলায় বিভিন্ন টুর্নামেন্ট চালু থাকে। সীমিত সামর্থের মধ্যে থেকে উপজেলা পরিষদ থেকে যতটুকু সম্ভব সহায়তা করা হয়। প্রতিটি ইভেন্টে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা ও প্রশিক্ষণ কর্মসূচি চালু রাখতে হলে স্থানীয় ক্রীড়া সংগঠক ও আর্থিক পৃষ্ঠপোষক প্রতিষ্ঠানগুলোকে আরো বেশি ভূমিকা রাখতে হবে। চট্টগ্রামে অর্থনৈতিকভাবে সমৃদ্ধ অঞ্চল সীতাকুণ্ড। দেশের অনেক বৃহৎ শিল্প কারখানার অবস্থান এ উপজেলায়। ক্রীড়া সংস্থার সহযোগিতায় তারা যদি এগিয়ে আসে তাহলে আবারো হাসি ফুটবে উপজেলার ক্রীড়াঙ্গনে।

 

পূর্বকোণ/পি-আরপি

শেয়ার করুন
The Post Viewed By: 135 People

সম্পর্কিত পোস্ট