চট্টগ্রাম সোমবার, ২৫ জানুয়ারি, ২০২১

সর্বশেষ:

৬ জুন, ২০১৯ | ১২:১৪ অপরাহ্ণ

স্পোর্টস ডেস্ক

‘হার না মানা হার’

বিশ্বকাপের প্রথম ম্যাচে দেখানো বাংলাদেশের অবাক করা খেলাটি মনে রাখবে বিশ্ব। কিন্তু দ্বিতীয় ম্যাচে হারের হাত থেকে বাঁচতে পারেন নি বাংলাদেশ। তবুও যেন ম্যাচটিকে গড়িয়ে নিয়ে গেলেন ‘হার না মানা হারে।’

প্রথম ইনিংসে ব্যাট করতে নেমে ২৪৪ রানের টার্গেট দেয় নিউজল্যান্ডকে। তবে এই রানের স্কোরটা বর্তমান বাংলাদেশের জন্য খুবই সাদামাটা। নিউজিল্যান্ড টিম সে রান তাড়া করতে গিয়ে ৮ উইকেট হারিয়েছেন। বাংলাদেশের সাথে লড়াইটা যে খুব একটা সহজ নয় সেটি প্রমাণ হয়ে গেল ওভালের এই ম্যাচে।

বিজ্ঞাপন

শুরুতে ব্যাট করে ৪৯.২ ওভারে ২৪৪ রান করেছিল বাংলাদেশ। জবাবে ৪৭.১ ওভারে নিউজ়িল্যান্ড আট উইকেট হারিয়ে তোলে ২৪৮। প্রথম ম্যাচে দক্ষিণ আফ্রিকার বিরুদ্ধে যে ছন্দে ব্যাট করেছিলেন, দ্বিতীয় ম্যাচে নিউজ়িল্যান্ডের বিরুদ্ধেও সেই ছন্দেই খেলে গেলেন সাকিব আল হাসান। এ দিন ছিল তার ২০০তম ওয়ান ডে। বুধবার ওভালে নিউজ়িল্যান্ডের বিরুদ্ধে সেই ম্যাচে ৬৮ বলে সাকিব করলেন ৬৪ রান।

বাংলাদেশের টার্গেট অতিক্রম করতে নেমে ম্যাচটাকে নিয়ন্ত্রিত ম্যাচে রুপান্তর করেছিলেন রস টেলর ও কেন উইলিয়ামসন। দু’জনের জুটিতে ১০৫ রান এসে বাংলাদেশের হার অনেকটা নিশ্চিত হয়ে গিয়েছিল। এই জুটিটাই বাংলাদেশের ভাগ্যকে পরিবর্তন করে দিল। যদি এই জুটি আগে ভাঙত তবে দৃশ্যপট অনেরকম হতে পারত।

ব্যাট হাতে ৬৪ রানের পর ম্যাচের ষষ্ঠ ওভারে আক্রমনের দায়িত্বে এসেই মার্টিন গাপটিলকে তামিমের ক্যাচে পরিণত করেন সাকিব। মাত্র ১৪ বলে ২৫ রান করেন এই ওপেনার। নিউজিল্যান্ডের ইংনিসে দ্বিতীয় আঘাতটিও হানেন বিশ্ব সেরা এই অলরাউন্ডার। ভয়ঙ্কর হয়ে উঠার আগেই মুনরোকে ফেরান এই স্পিনার। এই পরেই মুশফিকুর রহিমের ভুলে নিশ্চিত রান আউটের হাত থেকে বেঁচে যান কিউই অধিনায়ক উইলিয়ামসন।

৩২ তম ওভারে আউট হলেন কেন উইলিয়ামসন। তখনো বাংলাদেশের সমর্থকদের মনে কোন আশার সঞ্চার হয়নি। কিন্তু টম ল্যাথাম রানের খাতা ছক্কা দিয়ে খুলতে গিয়ে সাইফউদ্দিনের ডাইভিং ক্যাচে অক্কা পেলেন। আশার পালে একটু হাওয়া লাগল। এরপর বল হাতে ত্রাতার ভূমিকায় অবতীর্ণ হলেন মোসাদ্দেক। ওয়াইডের মত মনে হলেও সে বল গ্লাভসে লাগায় চিৎকার করে উঠলেন মুশফিক। আম্পায়ার আঙুল তোলায় ফিরতে হল রস টেলারকে। যাওয়ার আগে ৮২ রানের স্কোর করে দিয়ে গেলেন। ১৯১ রানে পঞ্চম উইকেট যাওয়ার পর কিছুটা আশা হাওয়া লাগল বাংলাদেশ শিবিরে। প্রাণপণ লড়ে যাওয়ার চেষ্টা চলতে লাগল।

কলিন ডি গ্র্যান্ডহোম ও নিশাম চাপ সামলালেও ৪৩তম ওভারে সাইফউদ্দিন আশা বাড়ালেন। তাঁর স্লো বাউন্সারে আপার কাট করতে গিয়ে আউট হয়ে গ্র্যান্ডহোমকে ফিরতে হল প্যাভিলিয়নে। স্কোরকে ২১৮ থেকে নড়তে না দিয়ে নিশামও ফিরলেন পরের ওভারে।

এর পর মিচেল স্যান্টনার ম্যাট হেনরিকে নিয়ে এনে দিলেন ২০টি মহামূল্যবান রান। হতাশা বাড়িয়ে ম্যাচ জয়ের আশা ক্রমে দূরে চলে যাচ্ছিল বাংলাদেশের।

৪৭তম ওভারে সাইফউদ্দিন সাজঘরে ফেরান হেনরিকে। অবশেষে চার মেরে ১৭ বল বাকি রেখে ২ উইকেটে ম্যাচ হারল বাংলাদেশ। কিন্তু হার না মানা হারের এই লড়াইটা বিশ্ববাসীকে আবারো একটা হুংকার দিয়ে গেল।

পূর্বকোণ/ পলাশ

শেয়ার করুন
The Post Viewed By: 232 People

সম্পর্কিত পোস্ট