চট্টগ্রাম সোমবার, ২৫ জানুয়ারি, ২০২১

সর্বশেষ:

২ জুন, ২০১৯ | ২:৫৭ পূর্বাহ্ণ

স্পোর্টস ডেস্ক

টাইগারদের বিশ^কাপ মিশন শুরু আজ

বিশ^কাপের স্বপ্নযাত্রায় আজ নিজেদের প্রথম ম্যাচে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে মাঠে নামছে বাংলাদেশ। আয়ারল্যান্ডে প্রথম আন্তর্জাতিক ট্রফি জয়ের প্রেরণা সাথে করে বিশ^ শিরোপার লড়াইয়ে নামছে টাইগাররা। আত্মবিশ^াসে ভরপুর মাশরাফিদের আজ এগিয়ে চলার দিন। তবে আজ বাংলাদেশ সময় বিকাল সাড়ে তিনটায় লন্ডনের ওভালে মাঠে নামার আগে বেশ সর্তক টাইগার দলপতি মাশরাফি। গতকাল ম্যাচ পূর্ববর্তী সংবাদ সম্মেলনে টাইগার দলপতি বলেন, ‘দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে কোনো জায়গা থেকেই আমরা ফেবারিট নই। উইকেট বলেন, সব জায়গায় তারা আমাদের চেয়ে এগিয়ে। এটাও সত্য, ম্যাচে আমরা নিজেদের সেরাটাই খেলব। আমাদের প্রস্তুতি বেশ ভালো।’ ভালো একটি শুরুর প্রত্যাশা টাইগার দলপতির। মাশরাফি বলেন ‘শুরুটা ভালো হলেই অবশ্যই দলের জন্য ভালো। এটা একটা স্বাভাবিক নিয়মই যে শুরুটা ভালো করতে পারলে পুরো টিমের আত্মবিশ্বাসটা বাড়বে।’ কেনিংটন ওভালের যে উইকেটে খেলা হবে, সেখানেই হয়েছে এই বিশ্বকাপের উদ্বোধনী ম্যাচটি। যে ম্যাচে স্বাগতিক ইংল্যান্ডের কাছে ১০৪ রানের বড় ব্যবধানে হেরেছে দক্ষিণ আফ্রিকা। প্রথমে ব্যাট করে ৮ উইকেটে ৩১১ রান তুলেছিল স্বাগতিকরা। জবাবে ৩৯.৫ ওভারেই প্রোটিয়াদের ইনিংস গুটিয়ে যায় ২০৭ রানে। মাশরাফি মনে করছেন, যেহেতু এই উইকেটে আগে খেলা হয়েছে সেখানে স্পিনাররাও সাহায্য পেতে পারেন। তার ভাষায়, ‘আমরা ব্যবহৃত উইকেটে খেলব। প্রথম ম্যাচটা দক্ষিণ আফ্রিকা আর ইংল্যান্ড যেখানে খেলেছে। ওভালের উইকেটে আসলে প্রথম ম্যাচেও ইংল্যান্ড ৩০০ উপরে রান করেছে। আমরা যেটা জানি ব্যাটিং সহায়ক উইকেটই হবে। সেইক্ষেত্রে যেহেতু ব্যবহৃত উইকেট, স্পিনাররা রোল প্লে করতে পারে কিনা এখানে একটা ব্যাপার আছে। কিন্তু এটা নির্ভর করছে উইকেট কেমন আচরণ করবে। আমরা আশা করছি ফ্ল্যাট উইকেটই হবে। যেটা এখানে সাধারণ ব্যাপার। যেটাই হোক, আমাদের মানিয়ে নিতে হবে এবং সেরাটা দিতে হবে স্পিন কিংবা পেস বোলিং দুই দিক থেকেই।’
দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে ব্যাটিং বা বোলিং আগে যা-ই করতে হোক না কেন, রণপরিকল্পনা প্রস্তুত করে রেখেছেন মাশরাফি। এখন পর্যন্ত বিশ্বকাপের ম্যাচগুলোতে কেন তেমনভাবে রান হচ্ছে না, সেটাও মাথায় থাকছে বাংলাদেশ দলের। মাশরাফি বলেন, ‘আমরা আগে ব্যাটিং করলে যেই সংগ্রহই গড়ি না কেন সেটা নিয়ে লড়াই করতে হবে। এখন পর্যন্ত যে ম্যাচগুলো দেখেছি, আমার কাছে মনে হয় যে দ্রুত উইকেট পরে যাওয়ায় রানগুলা বড় হচ্ছে না। কিন্তু ওভালে ইংল্যান্ড প্রথমে ব্যাটিং করার পরও ৩০০ করেছে। হয়তো ব্যাটিংয়ে ওদের কৌশলটা একটু অন্যরকম। দক্ষিণ আফ্রিকার ক্ষেত্রে হাশিম আমলার উইকেটটা খুব গুরুত্বপূর্ণ ছিল। ও চলে যাওয়ার পর দুটো উইকেট পরে যায়, আসলে একটা ঘটনার পরে ছোটখাটো কারণগুলোই একটা দলকে পিছিয়ে দেয়। আবার একটা ছোটখাটো কারণ অনেক সামনে নিয়ে আসে।’
বাংলাদেশ দলের কৌশল নিয়ে টাইগার দলপতি বলেন, ‘আমার কাছে মনে হয় যে সবকিছুর সাথে সবকিছুর সম্পর্ক আছে। এখানে দ্রুত উইকেট পড়ে গেলে হয়তো বা বড় রান করা একটু কঠিন হবে। আমরা যদি ব্যাটিং করি ঐটা মাথায় রাখতে হবে যেন দ্রুত উইকেট না দিই। বোলিং করলে চেষ্টা করতে হবে যেন আমরা দ্রুত কিছু উইকেট নিতে পারি।’
অন্যদিকে ইংল্যান্ডের কাছে বড় ব্যবধানে হেরে বিশ্বকাপের শুরুটা প্রত্যাশা মতো হয়নি দক্ষিণ আফ্রিকার। ওই ম্যাচের ভুলত্রুটি শুধরে নিয়ে পরের পরীক্ষার জন্য প্রস্তুত প্রোটিয়ারা। মাশরাফির দলের বিপক্ষে ম্যাচটাকে তাই ভীষণ গুরুত্বের সঙ্গে নিচ্ছেন প্রোটিয়ারা। তবে প্রথম ম্যাচের ভয় কেটে উঠতে পারেনি তারা। উদ্বোধনী ম্যাচে স্বাগতিক ইংল্যান্ডের কাছে স্রেফ উড়ে গেছে দক্ষিণ আফ্রিকা। সেই বিষয়টিই হয়তো দলটিতে ভীতির সঞ্চার করেছে, যদি বাংলাদেশের বিপক্ষেও এভাবে নাস্তানাবুদ হতে হয়! কেননা পেস স্বর্গ ইংল্যান্ডের উইকেটে স্পিনারদের দাপট এখন আর অলীক কোনো বিষয় নয়। উইকেট একটু ক্লান্ত হলেই পেসারদের ছাপিয়ে স্পিনাররা ব্যাটসম্যানদের দুঃস্বপ্নে বিচরণ করতে শুরু করে দেন। সময়ের পরিক্রমায় সেই স্পিন বিষ প্রয়োগে টিম বাংলাদেশ যে কতটা সিদ্ধহস্ত হয়ে উঠেছে সেটা তার চাইতে ভালো আর জানে? তাই ম্যাচপূর্ব সংবাদ সম্মেলনে বাংলাদেশকে ভয়ঙ্কর আখ্যা না দিয়ে পারেননি তাহির, ‘আমরা সবাই জানি, বাংলাদেশ এমন একটি কন্ডিশনে বেড়ে উঠছে যেখানে তারা স্পিন দারুণ খেলে। আর আপনি এটাও জানেন, যে কোনো দিনেই তারা ভয়ঙ্কর হয়ে উঠতে পারে।’ তাহিরের কথায় স্পষ্ট যে বাংলাদেশের স্পিন আক্রমণকে তিনি সমীহের চোখেই দেখছেন। তবে নিজেদেরকেও পিছিয়ে রাখলেন না। বিশ্বকাপের আসরে যে কোনো দলের সাজানো বাগান তছনছ করে দিতে তাহির এবং তাবরিজ শামসি নিজেদের সেরা শান দিয়ে রেখেছেন, সেই হুঙ্কারও দিয়ে রাখলেন।
তাহির যোগ করেন, আপনারা দেখবেন স্পিনার হিসেবে আমি ও শামসি পুরোপুরি প্রস্তুত। অপেক্ষা শুধু আমরা একাদশে জায়গা পাই কী না। তাহলে কিন্তু ম্যাচ চ্যালেঞ্জিংই হবে। ওয়ানডেতে ৮ বছরের ক্যারিয়ারে ইতোমধ্যেই ৯৯টি ম্যাচ খেলেছেন ইমরান। বাংলাদেশের বিপক্ষে বল হাতে নামলেই ছুঁয়ে ফেলবেন শততম ম্যাচের মাইলফক। তাই অনন্য এই অর্জনকে ক্যারিয়ারের বিশেষ ঘটনা বলে অভিহিত করলেন এই প্রোটিয়া।
এখন পর্যন্ত ২০ ম্যাচে মুখোমুখি হয়েছে বাংলাদেশ ও দক্ষিণ আফ্রিকা। ৩টিতে জয় পেয়েছে বাংলাদেশ। ১৭টি জিতেছে প্রোটিয়ারা। প্রথম জয়টি আসে ২০০৭ সালে বিশ^কাপে সুপার এইটের ম্যাচে। দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে বাংলাদেশের বাকি দু’টি জয় এসেছিলো ২০১৫ সালে। দেশের মাটিতে প্রোটিয়াদের বিপক্ষে ৩ ম্যাচের সিরিজে ২-১ ব্যবধানে জিতেছিলো বাংলাদেশ। তবে বাংলাদেশের প্রেরণা হতে পারে বিশ^কাপের সেই ম্যাচটি। ২০০৭ সালের ৭ এপ্রিল। বিশ্বকাপে দক্ষিণ আফ্রিকার মুখোমুখি হয় বাংলাদেশ। ম্যাচে স্পষ্টভাবেই ফেভারিট ছিলো দক্ষিণ আফ্রিকা। কিন্তু ফেভারিটের তকমা তোয়াক্কা না করে, বিশ্বকে চমকে দেয় টাইগাররা। হাবিবুল বাশারের নেতৃত্বাধীন দলটি দক্ষিণ আফ্রিকাকে ৬৭ রানে হারায়। তাই ১২ বছর হয়ে গেলেও, ঐ ম্যাচের সুখস্মৃতি যে বাংলাদেশকে আত্মবিশ্বাসী করবে এতে কোন সন্দেহ নেই। সাথে আছে দুর্দান্ত ফর্মে থাকা ব্যাটসম্যানরা। তামিম ইকবাল, সৌম্য সরকার, লিটন দাস, মুশফিকুর রহিম, সাকিব আল হাসান, মোসাদ্দেক হোসেন সৈকত সবার ব্যাটেই রান আসছে নিয়মিত। ইনজুরি কাটিয়ে গতকাল নেটে ব্যাটিং করেছেন তামিম ইকবাল। আজ তাঁর মাঠে নামার সম্ভাবনাও প্রবল। ওভালের উইকেটও ব্যাটসম্যানদের জন্য দারুণ। প্রায় প্রতি ম্যাচেই এই মাঠে ৩০০+ স্কোর আশা করা হচ্ছে। ইনজুরির দুশ্চিন্তা কাটিয়ে মানসিক দৃঢ়তা ধরে রাখতে পারলে এটাই বাংলাদেশের জন্য বড় সুযোগ বিশ্বকাপে জয় দিয়ে শুরু করার।

বিজ্ঞাপন

শেয়ার করুন
The Post Viewed By: 325 People

সম্পর্কিত পোস্ট