চট্টগ্রাম মঙ্গলবার, ১৮ ফেব্রুয়ারী, ২০২০

সর্বশেষ:

২৬ জানুয়ারী, ২০২০ | ৩:৫৯ পূর্বাহ্ন

হুমায়ুন কবির কিরণ

পাকিস্তানে টি-টোয়েন্টি সিরিজ

পরিকল্পনাহীন একাদশে ভরাডুবি

প্রথম টি-টোয়েন্টিতে তাও একটু লড়াই করেছিল বাংলাদেশ, পরেরটিতে তাও হলো না। এবার তিন বিভাগেই চূড়ান্ত ব্যর্থ মাহমুদউল্লাহরা, চার ওভার হাতে রেখেই তাই ম্যাচটা শেষ করে দিলেন বাবর-হাফিজরা। তিন ম্যাচের সিরিজে জয়ও নিশ্চিত হয়ে গেল পাকিস্তানের, বাংলাদেশ যেন এখন পালিয়ে দেশে ফিরতে পারলে বাঁচে, না নিরাপত্তার কোন ইস্যু দাঁড়িয়েছে বলে শোনা যায়নি। কাল ম্যাচে ধবল ধোলাই’র হাত থেকে রক্ষা পেতে এখন পালানো ছাড়া বিকল্প আর কিইবা আছে! পাকিস্তানের কাছে প্রথম ম্যাচের হারের পর ব্যর্থতার দায় হিসেবে মন্থর উইকেটকে দাঁড় করান বাংলাদেশ অধিনায়ক মাহমুদউল্লাহ। কিন্তু আসলেই কি এমন ব্যর্থতার দায় শুধু উইকেটের? কারণ প্রথম ম্যাচের পর দ্বিতীয় ম্যাচেও যে একই পরিণতি বাংলাদেশের। কোন হোমওয়ার্ক নেই, নেই কোন প্লান ‘বি’। কাছাকাছি দেশ বলে পাকিস্তানের উইকেট বাংলাদেশের মতোই। মন্থর ও নিচু বাউন্সের। পরশু যাও ১৪১ হলো, গতকাল আরও ৫ রান কম-১৩৬। কিন্তু চেনা এই উইকেটে এতটা ব্যর্থতা? অথচ বিপিএলে দুর্দান্ত ছিলেন বাংলাদেশি তারকারা। কদিন আগে শেষ হওয়া টুর্নামেন্টে ব্যাটে-বলে বাংলাদেশি তারকাদেরই জয়জয়কার ছিল। ব্যাট হাতে ধারাবাহিক ছিলেন লিটন দাস, সৌম্য সরকার, আফিফ হোসেন, মোহাম্মদ নাঈম, মেহেদী হাসানরা। কিন্তু জাতীয় দলে ফিরতেই পরিস্থিতি পাল্টেছে। বিপিএলে আলো ছড়ানো কেউই পারছেন না ছন্দশীল ব্যাট চালাতে বা দেশের দায়িত্ব নিতে। তাতে ব্যর্থতায় ছেয়ে আছে বাংলাদেশের ব্যাটিং। ধুন্দুমার একটি বিপিএল কাটানোর পর এমনটা কিংবা এতটা অসহায় বাংলাদেশকে দেখার প্রত্যাশা করেনি কেউই। সমালোচকরা বলছেন, বাংলাদেশ দল পাকিস্তানে গিয়েছে আসলে কোনো পরিকল্পনা ছাড়াই। কোচিং প্যানেল বা টিম ম্যানেজমেন্টের কোনো হোমওয়ার্ক নেই। একগাদা ওপেনার নিয়ে এসে বেশির ভাগ খেলছেন ভুল পজিশনে। স্লথ পিচ দেখে প্রথম দিন অবাক হয়েছিলেন মাহমুদউল্লাহ, তবে বোঝা গেল দ্বিতীয় দিনেও আলাদা করে কিছু ভাবেননি। কম রান নিয়ে ফিল্ড সেট আপ কেমন হওয়া প্রয়োজন, সেটা নিয়েও খুব একটা ভাবনা মাহমুদউল্লাহদের ছিল না। আগের দিন তাও পাকিস্তানি ব্যাটসম্যানরা একটু চাপে ছিলেন, গতকাল সেরকম কিছুই টের পাননি। টসে জিতে কেন আগের দিনের মতো বাংলাদেশ গত ব্যাটিং নিয়েছেন, প্রশ্ন উঠবে সেটি নিয়েও। আগের দিন সৌম্য নেমেছিলেন ছয় নম্বরে, ব্যাটিং সামর্থ্য কাজে লাগানোর কোনো সুযোগ পাননি। গতকাল নেমে গেলেন সাতে, যখন ম্যাচের বাকি মাত্র দুই ওভারের কিছু বেশি। মেহেদী হাসান দলে এসেই নেমে গেলেন তিনি, কিন্তু প্রতিটা শটেই বুঝিয়ে দিচ্ছিলেন বিপিএলের সাথে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের ব্যবধান। ব্যাটিং অর্ডারটা গতকালও ঠিকঠাক হলো না বাংলাদেশের। প্রথম টি-টোয়েন্টির উইকেট নিয়ে শোয়েব আখতার, ইনজামাম প্রকাশ্যে সমালোচনা করেছিলেন। দুই দলের অধিনায়ক যদিও খোলাখুলি কিছু বলেননি। পরের ম্যাচে উইকেটে একটু ঘাস ছিল, কিন্তু শেষ পর্যন্ত সেই মন্থর উইকেটই। বল ব্যাটে আসছিল না। পুরনো বলে ব্যাট করা যেন আরও কঠিন হয়ে যাচ্ছিল। তবে আগেরদিনের চেয়ে কিছুটা হলেও ভালো ছিল কাল, পরে যেটি চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিয়েছেন বাবর ও হাফিজ। কিন্তু শুধু উইকেটের দোষ দিয়ে হারের ব্যাখ্যা দেওয়া সম্ভব! যে উইকেটে বাংলাদেশ পারছে না সেই উইকেটে কিন্তু দেখেশুনে কিংবা বলা যায় পরিস্থিতির বিচার অনুযায়ী ব্যাটিং করে সফল স্বাগতিক পাকিস্তান। অনেকে হয়তো বলবেন, স্বাগতিকের ফায়দা নিচ্ছে তারা, না নেওয়াটাই কি অস্বাভাবিক নয়? পাকিস্তান নিজেদের উইকেটে নিজেদের মতো করেই বানাবে। প্রশ্ন হচ্ছে, মন্থর উইকেটে বাংলাদেশ একেবারে অনভিজ্ঞ নয়-তাহলে লাহোরের উইকেটে টাইগার ব্যাটসম্যানরা রানের জন্য এতটা হাপিত্তেশ করছেন কেন? জবাব একটাই, পাকিস্তানে চলমান টি- টোয়েন্টি সিরিজে সেরা একাদশ মাঠে নামাতে পারেনি বাংলাদেশ। মজার ব্যাপার হলো, গত দুটি ম্যাচের একাদশে ৫ জন স্বীকৃত ওপেনার, ভাবা যায়। পরিকল্পনাহীনতার চূড়ান্ত নিদর্শন।

The Post Viewed By: 51 People

সম্পর্কিত পোস্ট