চট্টগ্রাম বুধবার, ১৬ অক্টোবর, ২০১৯

সর্বশেষ:

২৬ সেপ্টেম্বর, ২০১৯ | ১:৩৪ এএম

মোস্তফা মোহাম্মদ এমরান

ক্যাসিনো, জুয়া আইন ও বর্তমান প্রসঙ্গ

সম্প্রতি ঢাকায় কটি ক্যাসিনোতে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর অভিযানে বিপুল পরিমাণ নগদ টাকা ও জুয়ার অত্যাধুনিক সরঞ্জাম জব্দ করা হয়। অভিযানের প্রথম দিনে ১৮২ জন আটক হয়। এ-নিয়ে সারাদেশে তোলপাড় শুরু হয়েছে। এরপর দেশের বিভিন্ন স্থানে ক্যাসিনো বা জুয়ার ঘরে অভিযান চালিয়ে জুয়া খেলায় অবৈধভাবে অর্জিত কোটি কোটি টাকা উদ্ধার করেছে পুলিশ। এ ঘটনার পর পর দেশের সর্বস্তরের মানুষের মধ্যে চলছে নানা গুঞ্জন। দেশের গণমাধ্যমগুলো খবর সংগ্রহে পুরোদমে সরব হয়ে ওঠে। সাধারণ মানুষের আলোচনায় উঠে আসছে যাদের গ্রেপ্তার করা হয়েছে তাদের কোন আইনের বিধানে কতটুকু শাস্তি দেয়া হবে। অবৈধ ক্যাসিনো বন্ধ করে নতুনভাবে ক্যাসিনোর অনুমোদন নিয়ে সরকারি রাজস্ব বাড়ানোর পক্ষে। আবার কেউ কেউ এসব জুয়ার আসর পুরোপুরি বন্ধ করার পক্ষে। তবে, জুয়ার পক্ষে বা বিপক্ষে যে যাই বলুক, বাংলাদেশের সংবিধানে জুয়া খেলা সম্পর্কে স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে। ১৯৭২ সালের সংবিধানের দ্বিতীয় ভাগে রাষ্ট্র পরিচালনার মূলনীতির জনস্বাস্থ্য ও নৈতিকতা প্রসঙ্গে ১৮(২) অনুচ্ছেদে বলা হয়, “গণিকাবৃত্তি ও জুয়াখেলা নিরোধের জন্য রাষ্ট্র কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করিবেন।

সংবিধানে জুয়াকে বৈধতা না দিলেও খোদ চট্টগ্রামের শহরের কয়েকটি স্থানে যুগের পর যুগ ধরে প্রকাশ্যে চলে আসছিল মদ-জুয়ার আসর। সংবিধানে জুয়া বন্ধের ব্যাপারে রাষ্ট্রকে কার্যকরী ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশনা দেয়া থাকলেও এখনো গ্রামে-গঞ্জে প্রকাশ্যে চলে নিরীহ গবাদি পশুর লড়াই বাঁধিয়ে লাখ লাখ টাকা অবৈধভাবে অর্জনের নিষ্ঠুর খেলা। বাংলাদেশে জুয়া খেলা নিয়ে যুগোপযোগী আইন নেই। যে আইনটি রয়েছে তা ১৫২ বছরের পুরোনো। তৎকালীন বঙ্গে সাধারণ মানুষ গৃহপালিত পশু-পাখির মধ্যে ( মোরগ লড়াই, ষাঁড়ের লড়াই) নিষ্ঠুর লড়াই লাগিয়ে বাজি ধরতো। পাড়ায়-পাড়ায়, মহল্লায়-মহল্লায় এসব জুয়ায় সময়ের অপচয় করতো কর্মক্ষম মানুষ। । তাই বাংলার লে. গভর্নর ১৮৬৭ সালে জুয়া নিরোধ করতে আইন প্রণয়ন করেন। যা বাংলাদেশের বলবৎ রয়েছে। বলবৎ এ আইনটি ‘প্রকাশ্য জুয়া আইন-১৮৬৭’ বা ‘পাবলিক গ্যাম্বলিং এক্ট ১৮৬৭’। এ আইনে প্রকাশ্য জুয়া খেলা, কারো গৃহে জুয়া খেলার মাধ্যমে বাজি ধরাকেও নিষিদ্ধ করা হয়েছে। দেড়শ বছরেরও পুরোনো এ আইনে জরিমানার আরোপিত দ- বর্তমান সামাজিক প্রেক্ষাপটে নিতান্তই অপ্রতুল। এ আইনের ৩ ধারায় জুয়ার অপরাধে অনুর্ধ্ব দু’শত টাকা পর্যন্ত জরিমানার বিধান রয়েছে। প্রকাশ্য স্থানে পশু বা পক্ষীর লড়াই নিয়োজিত ব্যক্তিকে পুলিশ বিনা পরোয়ানায় গ্রেপ্তার করতে পারার বিধান রয়েছে।

The Post Viewed By: 209 People

সম্পর্কিত পোস্ট