চট্টগ্রাম সোমবার, ০৬ ফেব্রুয়ারী, ২০২৩

১৯ মে, ২০১৯ | ১:৪৬ পূর্বাহ্ণ

হাটহাজারী প্রতিবেদক

হাটহাজারীতে উৎপাদিত পাইন্যা কচু

ভাল ফলনে কৃষকের পরিবারে স্বস্তি

হাটহাজারী উপজেলার গুমানমর্দ্দন, মির্জাপুর ইউনিয়নের সাদেকনগর, বালুখালী ও মির্জাপুর গ্রামের দিকে চোখের পলকে তাকালে দেশীয় পাইন্যা কচুর চাষ চারিদিকে সবুজের সমারোহে চোখ জুড়ে যায় এই নয়নাভিরাম দৃশ্য দেখে। ন্যায্যমূল্য পাওয়াতে কৃষকরাও আনন্দিত। বদলে যাচ্ছে গ্রামের দৃশ্যপট। কৃষকদেরকে উৎসাহিত করতে তাদের পাশে এসে দাড়িয়েছে আন্তর্জাতিক বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা ওয়ার্ল্ড ভিশন বাংলাদেশ।
ওয়ার্ল্ড ভিশন’র লাইভলীহুড টেকনিক্যাল প্রোগ্রাম ‘লোকাল ভ্যালু চেইন ডেভেল্পমেন্ট মডেল’ অর্থনৈতিক উন্নয়ন প্রকল্পের মাধ্যমে শিশুকল্যাণের সাথে সম্পর্কযুক্ত-দারিদ্র দূরীকরণ, খাদ্য/পুষ্টি নিরাপত্তাহীনতা এবং জলবায়ু ও দুর্যোগ ঝুঁকির কারণ ও তার প্রতিকারের জন্য সরাসরি কাজ করে। উৎপাদনক্ষম ও টেকসই জীবনমান উন্নয়নে পরিবার ও তাদের সন্তানকে চরম দারিদ্রতা থেকে রক্ষা করে তাদের খাদ্য, যত্ন এবং শিক্ষা দানের মাধ্যমে উৎপাদনক্ষম পরিণত মানুষ গড়াই এই প্রোগ্রামের কাজ।
জানা যায়, ২০১৭ সালের দিকে সাদেকনগর, মির্জাপুর ও বালুখালী গ্রামের বেশ ক’জন উদ্যোগী কৃষক পতিত জমিতে আধুনিক পদ্ধতিতে দেশীয় পাইন্যা কচু চাষ লাভজনক সফলতা দেখে অন্য কৃষকরাও ২০১৮ সাল থেকে পুরোদমে কচু চাষের জন্য জমি লীজ নিয়ে চাষাবাদ শুরু করে। ওয়ার্ল্ড ভিশন বাংলাদেশ কৃষি অধিদপ্তরের সহযোগিতা ও পরামর্শে তাদের অল্প জমিতে কচু চাষের গ্রেডিং পদ্বতি ও বাজারজাতকরণ বিষয়ে প্রশিক্ষণ প্রদানসহ কৃষকদেরকে সংগঠিত করে তাদের উৎপাদিত পণ্যের বাজার ব্যবস্থায় সহজ প্রবেশাধিকার, ব্যবসার সফলতা, উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধির মাধ্যমে ক্ষুদ্রচাষী দলের অর্থনৈতিক উন্নয়ন সফলতার জন্য কাজ করছে।
কৃষকরা জানায়, প্রশিক্ষণের লব্ধ জ্ঞান তাদের অনেক উপকারে এসেছে, তারা প্রায় ৫২৫ একর জমিতে ৫৬ হাজার কচু চারা রোপণ করেছে। বীজতলা থেকে শুরু করে কচু রোপণ ও সঠিক রক্ষণাবেক্ষণে আজ তাদের সাফল্য আসতে শুরু করেছে। বিভিন্ন প্রতিকূলতার মধ্যেও কৃষকদের মুখে হাসি ফুটেছে কিন্তু স্থানীয় বাজারে বিক্রিতে তাদের ন্যায্যমূল্য পাচ্ছে না।
সাদেকনগর গ্রামের কৃষক বাবুল জানান, এপ্রিল থেকে জুন পর্যন্ত পাইন্যা কচুর লতি ও ফোপা সুস্বাদু তরকারির স্থানীয়ভাবে প্রচুর চাহিদা রয়েছে বাজারের চাহিদা মিটিয়ে দেশের বিভিন্ন স্থানে রপ্তানি হচ্ছে। পাশর্^বর্তী ইউনিয়নের কৃষকরাও কচু চাষে আগ্রহী হচ্ছে এবং অন্য গ্রামে ছড়িয়ে যাচ্ছে কিন্তু স্থানীয় দৈনিক শ্রমিকদের মজুরি বেশি হওয়ায় কৃষকরা তাদের আশানুরূপ লাভবান না হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
হাটহাজারী উপজেলার কৃষি অধিদপ্তরের কর্মকর্তা জানান, কচু উৎপাদনকারী দলকে বিভিন্ন পরামর্শ প্রদানের পাশাপাশি পোকামাকড় দমনে বিভিন্ন প্রযুক্তি প্রয়োগ, মাঠ পর্যায়ের কর্মীরা তাদেরকে সার্বিক সহযোগিতা প্রদান করছে।
গুমানমর্দ্দন ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মুজিবুর রহমান জানান, ওয়ার্ল্ড ভিশন বাংলাদেশ হাটহাজারী এরিয়া প্রোগ্রামের মাধ্যমে কৃষকদেরকে সংগঠিত করে আধুনিক পদ্ধতিতে কম পুঁজিতে অধিক লাভে বিভিন্ন বিষয়ের ওপর প্রশিক্ষণ, সরকারের বিভিন্ন দপ্তরের, প্রতিষ্ঠানের সাথে সুসম্পর্ক উন্নয়নে মাধ্যমে কৃষকদের ন্যায্য অধিকার প্রাপ্তিতে বলিষ্ঠ ভূমিকা সত্যিই প্রশংসার দাবি রাখে। পাশাপাশি সহায়ক কৃষকদের উৎপাদিত ফসলের ন্যায্যমূল্য প্রাপ্তিতে রাজধানীসহ জেলা ও বিভাগীয় শহরে পাইকার ও আড়তদারদের সাথে যোগাযোগ সৃষ্টিতে কৃষকদের পাশে সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানসমূহ এগিয়ে আসা জরুরি বলে তিনি মন্তব্য করেন।
উল্লেখ্য, ওয়ার্ল্ড ভিশন বাংলাদেশ দীর্ঘদিন ধরে হাটহাজারী উপজেলার ৬টি ইউনিয়নের লক্ষ্যভুক্ত জনগোষ্ঠী বিশেষত হতদরিদ্র ও ঝুঁকিপূর্ণ শিশু ও পরিবারের সার্বিক উন্নয়ন শিক্ষা, অর্থনৈতিক উন্নয়ন, শিশু অধিকার ও নিরাপত্তা এবং শিশুর ক্ষমতায়নে দীর্ঘদিন যাবত কাজ করে আসছে।

শেয়ার করুন

সম্পর্কিত পোস্ট