চট্টগ্রাম শুক্রবার, ২৬ ফেব্রুয়ারী, ২০২১

১৩ অক্টোবর, ২০১৯ | ১:৩৩ পূর্বাহ্ণ

সৌমিত্র চক্রবর্তী হ সীতাকু-

সীতাকু-ে জলে ভাসা সেই ‘পদ্ম ফুল’ বিলুপ্তির পথে

সীতাকু-ে গ্রামীণ প্রকৃতির ঐতিহ্য ‘পদ্ম ফুল’ এখন বিলুপ্তির পথে। জনবসতি ও শিল্প-ব্যবসা প্রতিষ্ঠান নির্মাণের প্রয়োজনে একের পর এক বড় বড় জলাশয় ভরাট হয়ে যাওয়ায় এ অবস্থা সৃষ্টি হয়েছে বলে স্থানীয়দের অভিমত। এভাবে জলাশয়, গ্রামীণ সৌন্দর্য্য শাপলা ও পদ্ম বিলুপ্ত হয়ে যাওয়ায় হতাশ কৃষি বিভাগও।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সীতাকু-কে বলা হয় প্রকৃতির লীলাভূমি। পূর্বে সুদীর্ঘ সবুজ পাহাড় ও ঝর্ণার অপরুপ প্রকৃতি, পশ্চিমে সমুদ্রের সুবিশাল জলরাশিসহ উপকূলীয় বিশাল বনভূমি এবং মাঝে প্রাকৃতিক লেক এ উপজেলার সৌন্দর্য্যকে মোহনীয় করে তুলেছে। এসবের সাথে সুপ্রাচীনকাল থেকেই এখানে বিভিন্ন গ্রামের মাঝে ছিলো বেশ কিছু ঐতিহ্যবাহি দীঘি-পুকুর। যেখানে প্রাকৃতিকভাবে ফুটে থাকত শত শত পদ্ম ও শাপলা ফুল। যা গ্রামীন সৌন্দর্য্যকে আরো বেশি ফুটিয়ে রাখত। কিন্তু বিগত দুই দশকে এ উপজেলায় ক্রমবর্ধমান শিল্পের বিকাশ ও ঘর-বাড়ি-ব্যবসা প্রতিষ্ঠান নির্মাণের কারণে অসংখ্য ছোট-বড় জলাশয় ভরাট হয়ে গেছে। ফলে হারিয়ে যেতে বসেছে পদ্ম ফুলও। এলাকাবাসীর সাথে কথা বলে জানা যায়, সীতাকু-ের ভাটিয়ারী এলাকার ডেনার দিঘি, বাড়বকু-ের রাজার দিঘি, সীতাকু- সদরের ঢেবার দিঘি, লালদিঘি, বড়দারোগার হাটের বড়কমলদহ দিঘি, গোয়ালিয়া পুকুর, সৈয়দপুর ইউনিয়নের মীরেরদিঘি, বাকখালী ও ফকিরহাটস্থ ইকোপার্ক এলাকার পুকুর ও ঝিলে পদ্মফুলের মনমাতানো সৌন্দর্য্য উপভোগ করা যেত। কিন্তু এখন সেসব দৃশ্য ক্রমশ দুর্লভ হয়ে পড়েছে। সীতাকু-ের সৈয়দপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান তাজুল ইসলাম নিজামী বলেন, একসময় আমার এলাকার মীরের দিঘিতে অনেক পদ্মফুল ফুটত। গ্রামের মানুষ সে ফুলের সৌন্দর্য্য দেখে মুগ্ধ হতো। কিন্তু এখন সেখানে মাছ চাষ বেড়ে যাওয়ায় পদ্ম ফুল হারিয়ে গেছে। এলাকার কোথাও আর আগের মত এ ফুল চোখে পড়ে না। সীতাকু-ের বাড়বকু- হাতিলোটা গ্রামের বাসিন্দা সাংবাদিক সবুজ শর্মা শাকিল বলেন, আগে অনেক পুকুরেই পদ্ম ফুল ফুটত। এ ফুল ছিলো গ্রামের ঐতিহ্য।

বর্তমানে ফকিরহাটে অবস্থিত ইকোপার্ক গেইটের একটি পুকুরে অল্প সংখ্যক পদ্ম ফুল চোখে পড়ে। আর কোথাও এর অস্তিত্ব সেই। অথচ এই ফুলটিও গ্রামীণ ঐতিহ্যের সাথে নানাভাবে সম্পৃক্ত। সনাতন ধর্মাবলম্বীরা মনসা পূজার দিনে পদ্মফুল সংগ্রহ করেন। এটি দেবী মনসার পূজার জন্য অবশ্যই প্রয়োজনীয় একটি ফুল। এই ফুল নানা রঙের হয়ে থাকে। তবে প্রত্যেক প্রকার পদ্মর সৌন্দর্য্য আলাদা আলাদা। পুকুর জলাশয়ে পদ্ম ফুলের চাষ ও যত্ন নিলে প্রকৃতি আরো অনেক সৌন্দর্য্যময় থাকত বলে তার অভিমত।

সীতাকু- উপজেলা কৃষি বিভাগের সহকারী কৃষি ও উদ্ভিদ সংরক্ষণ কর্মকর্তা সুভাস চন্দ্র নাথ বলেন, বর্ষায় জলে ভাসা পদ্মগুলো দেখতে অপরূপ লাগত। তার উপর বৃষ্টির ফোটা যেন প্রকৃতিকে ভিন্ন সৌন্দর্য্যে ভরিয়ে তুলত। সীতাকু-ের বড়দারোগারহাটের কমরআলী রাস্তা সংলগ্ন দিঘিতে প্রচুর পরিমাণ পদ্ম ফুল ফুটে থাকত। কিন্তু এখন মাছ চাষ বৃদ্ধি পাওয়ায় পদ্ম ও শাপলা দুই প্রজাতির ফুল হারিয়ে যেতে বসেছে।

মাঝে মধ্যে কোথাও শাপলা দেখলেও পদ্ম একেবারেই বিলুপ্তির পথে। আর এসব ফুল প্রকৃতির সম্পদ ও গ্রামীণ ঐতিহ্য হলেও লাভজনক না হওয়ায় কেউ এর যত্ন নেয় না বলে জানান উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. সাফকাত রিয়াদ।

শেয়ার করুন
The Post Viewed By: 502 People

সম্পর্কিত পোস্ট