চট্টগ্রাম রবিবার, ০৪ জুন, ২০২৩

সর্বশেষ:

১২ মে, ২০১৯ | ১:৩৬ পূর্বাহ্ণ

মোহাম্মদ রাফি

‘আমার শাড়ির অভাব আছেনি?

রাতটি ছিল গত রমজানের ২৮তম রাত। আমি আর আমার বন্ধু মিলে গেলাম ঈদের শপিং করতে। মনে অনেক খুশি লাগছে! জীবনের প্রথম ইনকামের টাকা খরচ করবো এইবার ঈদে। টিউশন থেকে পেলাম গুণে গুণে তিন হাজার টাকা। ঠিক করলাম একটি পাঞ্জাবি আর একটা জিন্সের প্যান্ট নিবো ভালো থেকে। অনেকগুলো দোকান ঘুরে ঘুরে দেখলাম। নিজের পছন্দমতো পাঞ্জাবি খুঁজেই পাচ্ছি না। দামে হলে পছন্দ হয় না আর পছন্দ হলে দামে মিলে না। শেষ পর্যন্ত অধৈর্য হয়ে একটা সুপার মলে ঢুকলাম। দোকানদারকে বললাম ভাই ১৫০০ টাকার ভিতর ভালো পাঞ্জাবি দেখান। দোকানদার পাঞ্জাবি দেখানোর সময় হঠাৎ আমার একটি জামদানী শাড়ির উপর চোখ পড়লো। মন বলে উঠলো “ইশ! আম্মার জন্য একটা শাড়ি নিলে ভালো হতো!” তারপর দোকানদারকে জিজ্ঞাসা করলাম দাম কত? দাম বললো ১৭৯০ টাকা! একদর। এতটাকা দাম দেখে তো আমার কপালে ভাঁজ পড়লো। মনের ভিতরটা কাঁপন দিয়ে উঠলো! কি করবো বুঝতে পারছি না। শেষে বন্ধুর কাছ থেকে ১০০০ হাজার টাকা ধার নিয়ে আম্মুর জন্য শাড়িটি আর আব্বুর জন্য একটি লুঙ্গীও নিলাম সাথে আমার জন্য একটা পাঞ্জাবিও। প্যান্ট কেনা হল না। এর পরের দিন বাড়িতে গেলাম। তারপর রাতে যখন ঘুমাতে যাবো এমন সময় আম্মুকে বললাম, “মা ! এই শাড়ি কালকে পরবেন আর আব্বুরে কইবেন লুঙ্গিটা পরতে!” আম্মু শাড়ি দেখে বলে উঠলো, “এই শাড়ি কই থেকে আনলি? আমার শাড়ির অভাব আছেনি?” আমি বললাম, “হু আছে তো! তিন বছর ধরে শাড়ি একটাই তো পরেন।” তারপর মা বললো, “ভাত খাইতে ভাত পাই না শাড়ি দিয়ে কি হইবো?”এই বলে একটি হাসি দিয়ে আমাকে জড়িয়ে ধরলো। আর আমিও মা কে জড়িয়ে ধরলাম। তখন অজান্তেই মা- ছেলের চোখে জল নেমে এলো! কিছুক্ষণ পর হয়তো বুঝতে পারলাম মায়ের চোখের জল বারবার বলছে, “ছেলে আমার বড় হয়েছে, দায়িত্ব নিতে শিখেছে, একমাত্র ছেলের থেকে মায়ের আর কি চাওয়ার থাকে!” আর আমার মনও বলে উঠছে, “এই সামান্য উপহারে মা খুশিতে কাঁদছে, আর সারাজীবন এতো কিছু পেয়েও আমি কিছু পাই নাই বলে আসলাম।
পারবো কি মা-বাবার এই ঋণ কখনো শোধ করতে?”

শেয়ার করুন

সম্পর্কিত পোস্ট