চট্টগ্রাম বুধবার, ২৪ জুলাই, ২০২৪

সর্বশেষ:

ঔদ্ধত্য মনোভাব নৈতিকতা বিনষ্ট করে

মিতা পোদ্দার

৩০ জুন, ২০২৪ | ৫:০৭ অপরাহ্ণ

সব মানুষেরই নিজস্ব কিছু দোষ-গুণ আছে। ভালো খারাপ সবকিছু থেকেই শিক্ষা নেয়ার বিষয়টা আত্তীকরণ করা উচিত। কেউ জীবনের জটিলতা আর কষ্টগুলোর মর্ম উপলব্ধি করে, কেউ আবার শুধুই আক্রান্ত হয়। পারিবারিক বা বংশগত বিষয়টা এ দৃষ্টিভঙ্গির ক্ষেত্রে কিছুটা ভূমিকা রাখলেও শিক্ষাদানের বিষয়টা অধিক গুরুত্বপূর্ণ।

 

অহংকার আর উদ্ধত মনোভাব আমাদের নৈতিকতাকে নষ্ট করে দেয়। এটা আমাদের জন্য দুর্ভাগ্যজনক সীমাবদ্ধতা। সুতরাং ক্ষমতার অধিকারীদের বিচার করা সমকক্ষের প্রতি আচরণ দেখে নয়; বরং তাদের থেকে কম শক্তিশালীদের প্রতি তাদের কী আচরণ, তা দেখে।

 

আমাদের আরও একটা সীমাবদ্ধতা হলো, আমরা শুধু সাফল্যই দেখি। অথচ কিছু কিছু সাফল্য বংশ পরম্পরায়ও প্রাপ্ত হয়। সত্যিকার সাফল্য হলো ক্রমাগত ব্যর্থতায় দৃঢ় মনোবল ধরে রাখা। সফলতার পেছনের সেসব ব্যর্থতাগুলো আমরা দেখি না বা ইচ্ছা করেই না দেখার ভান করি। অথচ জীবনের শিক্ষা এখান থেকেই শুরু হয়। অনেক কষ্টে পাওয়া সফলতাগুলো সহজে পাওয়া সফলতার চেয়ে বেশি শিক্ষণীয়। কিন্তু এ ব্যর্থতার গল্পগুলো আমরা শুনতে চাই না। অথচ এগুলোই মূলত দৃঢ় অস্তিত্বের গল্প। এ গল্পগুলো আমাদের জানায়- কীভাবে একজন পিছলে পড়ে, একবার-দু’বার নয়; কয়েকবার পড়েও নিজেকে টেনে তোলে।

 

মানবের মনোজগৎ তথা চরিত্রের ছয়টি শত্রু রয়েছে, যা ষড়রিপু নামে পরিচিত- কাম, ক্রোধ, লোভ, মোহ, মদ, মাৎসর্য। এই ষড়রিপুর পঞ্চমটি হলো ‘মদ’ তথা দম্ভ, গর্ব, গৌরব, অহংকার। আর ষষ্ঠটি হলো ‘মাৎসর্য’ তথা ঈর্ষা, হিংসা, পরশ্রীকাতরতা। অহংকার শয়তানের চরিত্র। আত্মগৌরব করা শুধু উপরওয়ালার ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য। যে ব্যক্তি এ গুণ নিয়ে বিধাতার সঙ্গে টানাটানি করে, বিধাতা তাকে ধ্বংস করে দেন; তার প্রভাব, প্রতাপ, প্রতিপত্তি নস্যাৎ করে দেন এবং তার জীবনকে সংকুচিত করে দেন। অহংকার মানব স্বভাবের একটি নিকৃষ্ট ও ঘৃণ্য অংশ। ‘অহংকার আমার সম্মানের উত্তরীয়, আর সম্মান হচ্ছে আমার গৌরবের পোশাক; যে ব্যক্তি এ দুটির কোন একটি নিয়ে আমার সঙ্গে টানাটানি করে, আল্লাহ/ঈশ্বর তাকে আজাবে নিক্ষেপ করেন।’

 

একটি দেশ ও অঞ্চলের সভ্যজাতিকে অতি অল্পসময়ের মধ্যেই ধ্বংস করে দিতে পারে প্রাকৃতিক বিপর্যয়, যা আমাদের রোধ করা সম্ভব নয়। তবে লোভ, হিংসা, অহংকার রোধ করার ক্ষমতা মানুষের হাতেই বিদ্যামান। মানুষ যদি তার দৃষ্টিভঙ্গি পাল্টাতে পারে, তবে দেশ ও জাতির চেহারা পাল্টে যাবে। উল্লিখিত তিনটি অসৎগুণ জাতির ধ্বংসাত্মক লক্ষণ প্রকাশ করে, যা সভ্যতার কপালে কলঙ্কের তিলক পরিয়ে জাতিকে অসভ্যতায় নিমজ্জিত করে। লোভ, হিংসা, অহংকার বহু পাপের জন্ম দেয়। যেমন- খুন, গুম, মানবপাচার, যৌতুক, মাদক, এমনকি পারিবারিক অশান্তিও।

 

উদ্ধত মনোভাব কখনও জীবনে শান্তি বয়ে আনতে পারে না। এতে যেমন নিজের জীবন ধ্বংসের দিকে পতিত হয়, তেমনি নৈতিকতারও অবক্ষয় হয়। মানুষের মধ্যে দুটি স্বভাব সার্বক্ষণিকভাবে বিরাজ করে- (১) আবেগ, (২) বিবেক। আবেগ দ্বারা পরিচালিত মানুষের শেষ পরিণতি সুখকর হয় না। অপরদিকে, বিবেক দ্বারা পরিচালিত মানুষের শেষ পরিণতি হয় কল্যাণময়।

 

অহংকার এমন এক জিনিস, যা অন্যদের সঙ্গে পরামর্শ করা কিংবা অন্যের সাহায্য চাওয়ার মানসিকতা পর্যন্ত নষ্ট করে দেয়। জ্ঞানীদের কথনে এটাই স্পষ্ট যে, মেধা ও প্রতিভা ধ্বংসের সহজতম উপায় হলো অহমিকা। এই মনোভাব থেকে আমরা বেরিয়ে আসতে পারলেই জীবন সুখকর হবে।

 

পূর্বকোণ/মাহমুদ

শেয়ার করুন

সম্পর্কিত পোস্ট