চট্টগ্রাম শনিবার, ২০ জুলাই, ২০২৪

সর্বশেষ:

পুলিশ বনাম সাংবাদিক

আনিস আলমগীর

২৪ জুন, ২০২৪ | ১২:১০ পূর্বাহ্ণ

পুলিশ সার্ভিস অ্যাসোসিয়েশন পুলিশের বর্তমান এবং সাবেক বড় বড় কর্তাদের দুর্নীতি নিয়ে যে সংবাদ প্রকাশিত হচ্ছে তার সঙ্গে দ্বিমত করে নিজেদের সদস্যদের পক্ষে যে বিবৃতি দিয়েছে, এই দেওয়াটা স্বাভাবিক। আমি এতে দোষের কিছু দেখি না। অস্বাভাবিক হচ্ছে অ্যাসোসিয়েশন বা পুলিশ কর্তৃপক্ষ সংবাদ মাধ্যমের কাছে তথ্যসূত্র দাবি করাটা।

 

মনে পড়ছে ২০২০ সালে ঠিক এই জুন মাসে ডিএমপি থেকে একটি সংবাদ প্রকাশের কারণে এক ডজন সাংবাদিককে ডিএমপি তলব করেছিল।

 

ঢাকা মহানগর পুলিশ কমিশনার (সম্ভবত আসাদুজ্জামান মিয়া সাহেব তখন দায়িত্বে) তার কথিত এক দুর্নীতিবাজ সহকর্মীকে তার অফিস থেকে অন্যত্র বদলির জন্য আইজিপিকে (বেনজির আহমেদ) একটি চিঠি লিখেছিলেন, সেই সংবাদ মিডিয়ায় প্রকাশ পেয়েছে চিঠির কপিসহ। ঘটনা সত্য ছিল এবং তাকে বদলিও করা হয়েছিল, কিন্তু ডিএমপি সাংবাদিকদের কাছে জানতে চেয়েছিল এর তথ্যসূত্র বা নিউজটা তারা কিভাবে পেল?

 

আমি জানি না সামান্য এই বিষয়টি উপলব্ধি করার জন্য কি পুলিশ প্রশাসনে কোনো মিডিয়া বিশেষজ্ঞ নেই!

 

পুলিশ যদি মনে করে কোনো সংবাদ অসত্য বা পুলিশ প্রশাসনের সুনাম ক্ষুন্ন হয়েছে, তাহলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি প্রতিবাদ করতে পারেন, প্রয়োজনে আদালতে যেতে পারেন। সাংবাদিকরা নিশ্চয়ই আইনের ঊর্ধ্বে নয়। আবার ডিজিটাল আইনের মত কালাকানুন দিয়ে তাদেরকে হয়রানি করাও কাম্য নয়। তা না করে তথ্যসূত্র চাওয়াটা, বা সুযোগ পেলে সাংবাদিককে ধরে নিয়ে চাপ দেওয়া কোনো আইন এবং নীতি-নৈতিকতার মধ্যে পড়ে না।

 

সাংবাদিকরা প্রয়োজনে আদালতকে সূত্র জানাতে বাধ্য। তবে ভরা মজলিসে নয়, সাংবাদিক তার সূত্র প্রকাশ করতে পারেন একান্তে বিচারকের কাছে। আদালত কনভিন্স হলে এখানেই শেষ। না হলে তিনি সেটা চ্যালেঞ্জ- পাল্টা চ্যালেঞ্জ এর জন্য খোলা আদালতে পেশ করতে পারেন। এটা হচ্ছে সোর্স ডিসক্লোজ সংক্রান্ত বিশ্ব স্বীকৃত প্রথা।

 

তা না করে বিবৃতি দিয়ে হুমকি-ধমকি দেওয়াটা সংবাদপত্রের স্বাধীনতার উপর হস্তক্ষেপ (যদিও স্বাধীনতা আদৌ আছে কিনা সেটা নিয়ে অনেকে সন্দিহান)। সত্য উন্মোচনই ন্যায়বিচারের ভিত্তি। পুলিশকে তথ্য গোপন করার পরিবর্তে স্বচ্ছতার সঙ্গে কাজ করা উচিত।

 

যতটুকু দৃশ্যমান পুলিশ এবং সাংবাদিকদের মধ্যে একটা আন্তরিক সম্পর্ক বিরাজ করছে দীর্ঘদিন থেকে, কয়েকজন দুর্নীতিবাজের জন্য বিবৃতি-পাল্টা বিবৃতির মাধ্যমে এই সম্পর্কে তিক্ততা সৃষ্টির দরকার ছিলো না। পুলিশ এবং সাংবাদিকদের মধ্যে পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও সহযোগিতার ভিত্তিতে একটি সুস্থ সম্পর্ক গড়ে তোলা উচিত।

 

লেখক: সাংবাদিক ও কলামিস্ট

 

 

পূর্বকোণ/জেইউ/পারভেজ

শেয়ার করুন

সম্পর্কিত পোস্ট