চট্টগ্রাম সোমবার, ২২ জুলাই, ২০২৪

সর্বশেষ:

স্বাস্থ্যসেবায় গ্রাম-শহরের বৈষম্য কমাতে হবে

অনলাইন ডেস্ক

৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৩ | ১০:৪৪ অপরাহ্ণ

বাংলাদেশের গ্রামাঞ্চলে চিকিৎসা ব্যবস্থা শহরের মতো উন্নত নয়। অথচ গ্রামীণ অর্থনীতি শহরের বেঁচে থাকার খোরাক জোগায়। দেশের মোট জনসংখ্যার ৬৮ দশমিক ৩৪ শতাংশ গ্রামে থাকে। আধুনিক জীবনযাত্রার সব উপকরণ ও সেবা বাকি ৩১ দশমিক ৬৬ শতাংশের জন্য নিয়োজিত।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মতে, একটি স্বাস্থ্য ব্যবস্থা ঠিকভাবে কাজ করার জন্য ছয়টি বিষয় নিশ্চিত করা প্রয়োজন। এগুলো হলো– প্রয়োজনীয় অর্থায়ন, জনবল, চিকিৎসা সরঞ্জাম, তথ্য-উপাত্ত, সেবাদানের সঠিক নির্দেশিকা ও যথাযথ ব্যবস্থাপনা। এর যে কোনো একটির অনুপস্থিতিতে অন্যটি ঠিকভাবে কাজ করতে পারে না। কিন্তু গ্রামীণ চিকিৎসা ব্যবস্থার দুর্বলতার প্রসঙ্গ এলে শুধু চিকিৎসকের অনুপস্থিতিকে তুলে ধরা হয়।

‘স্বাস্থ্যসেবা’ বাংলাদেশের সব নাগরিকের সাংবিধানিক অধিকার– এটা মেনে সঠিক বরাদ্দ ও ব্যবহার নিশ্চিত করতে পারলে বিদ্যমান বৈষম্য কমবে। শুধু চিকিৎসক নন; দক্ষ পেশাজীবীর অধিকাংশই গ্রামে থাকতে অনিচ্ছুক। এর পরও যারা নানা প্রতিকূলতা মেনে নিয়ে গ্রামে আছেন, তাদের সাধুবাদ জানাতে হয়। ভালো বাসস্থান, নিরাপত্তা ও অন্যান্য নাগরিক সুবিধা শহুরে সাহেবরা যেভাবে নিজেদের জন্য সাজিয়ে রেখেছেন, গ্রামে তার কিছুমাত্র নেই।

মানবসম্পদ ব্যবস্থাপনার নীতি অনুসারে, যদি কোনো কর্মচারীর জীবনের উন্নতির সঙ্গে পেশাকে সমান্তরালে রাখা যায়, তাহলে তিনি স্বাচ্ছন্দ্যে কাজ করতে পারেন। যেমন ২৫ থেকে ৩০ বছর বয়স পর্যন্ত সন্তানের পড়ালেখা নিয়ে ভাবনা কম। এই সময়টাতে একজন চিকিৎসককে চাকরি দিয়ে গ্রামে পদায়ন করলে তাঁর পক্ষে সেবা দেওয়া সহজতর হয়। এর সঙ্গে গ্রামে থাকাকালে যদি পেশাগত উন্নতির ব্যবস্থা করা যায় তাহলে ব্যাপারটি আরও আকর্ষণীয় হয়ে উঠবে। যেমন অনেক দেশেই গ্রামে কাজ করার সময়কে স্নাতকোত্তরের জন্য প্রশিক্ষণকালীন হিসেবে বিবেচনা করা হয়। ক্ষেত্রবিশেষে উচ্চতর স্কেল বা পদে উন্নতির ব্যবস্থা থাকে। আমাদের দেশেও সেটি করা যেতে পারে।

মানসম্মত স্বাস্থ্যসেবার জন্য চিকিৎসক যেমন প্রয়োজন; নার্স ও অন্যান্য জনবলের গুরুত্বও কিছুমাত্র কম নয়। কীভাবে সব পেশার দক্ষ ও তারুণ্যদীপ্ত জনবলকে গ্রামের মানুষের সার্বক্ষণিক সেবায় নিয়োজিত করা যায়, তা নিশ্চিত করতে হবে। আরেকটি কাজ করলে এই তারুণ্যের সঙ্গে অভিজ্ঞ বয়োজ্যেষ্ঠ চিকিৎসকদের দক্ষতা যোগ করা যেতে পারে। সেটা হচ্ছে, স্বাস্থ্য খাতে তথ্যপ্রযুক্তির ব্যবহার।

ধরা যাক একটি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নবজাতক বিশেষজ্ঞ নেই। কিন্তু যে চিকিৎসক আছেন, তিনি শহরে নবজাতক বিশেষজ্ঞের সঙ্গে টেলি-কনফারেন্সের মাধ্যমে রোগের খুঁটিনাটি আলাপ করে আধুনিক চিকিৎসা দিতে পারেন। আইসিইউ এবং কিছু অত্যাধুনিক সুবিধা ছাড়া অন্যান্য স্বাস্থ্যসেবা এভাবে তথ্যপ্রযুক্তি ব্যবহার করে দেওয়া সম্ভব। এসব বিকল্প ব্যবস্থায় কীভাবে শহরের সুবিধা গ্রামে পৌঁছে দেওয়া যায়, সেগুলো খতিয়ে দেখতে হবে। দেশে অতীতের তুলনায় পর্যাপ্ত ডাক্তার ও অন্যান্য জনবল আছে, কিন্তু সঠিক আয়োজনটি নেই। সৌজন্য: সমকাল

 

পূর্বকোণ/সাফা/পারভেজ

শেয়ার করুন

সম্পর্কিত পোস্ট