চট্টগ্রাম মঙ্গলবার, ২৩ জুলাই, ২০২৪

সর্বশেষ:

আমাদের কয়লা লিস্ট

বাদল সৈয়দ

৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৩ | ১২:৪৮ অপরাহ্ণ

১. একজন শিক্ষার্থী- খুবই নামকরা প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ে ২০১৭ সালের দিকে সুযোগ পেয়েছিল। ক্ষুদ্র নৃতাত্ত্বিক জনগোষ্ঠীর সদস্য। চান্স পেয়েও সে ভর্তি হতে পারছিল না। টাকা নেই। পে ইট ফরোয়ার্ড তাকে ভর্তি করালো। তারপর সে জানালো তার কম্পিউটার লাগবে। ডোনার তাকে কম্পিউটার কিনে দিতে নিয়ে গেলেন। শিক্ষার্থীটি পছন্দ করল খুব পাওয়ারফুল কম্পিউটার- সে আমলেই প্রায় দু’লাখ টাকা দাম। ডোনার মধ্যবিত্ত মানুষ, একটু থমকে গেলেন। এত বাজেট তার নেই। তারপরও বন্ধু-বান্ধবদের ফোন করে টাকা জোগাড় করে চাহিদামতো কম্পিউটার কিনে দিলেন। পরের এক বছর তার সমস্ত পড়ার খরচও দিলেন। এরপর শিক্ষার্থীটি ডোনার ও পে ইট ফরোয়ার্ড-এর সাথে সমস্ত যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন করে দিলো। আমরা যোগাযোগ করার চেষ্টা করলে লাইন কেটে দিতো, খুব বিরক্তও হতো। তাই আমরাও চুপ মেরে গেলাম। (খবর পেয়েছিলাম সে টিউশনি করে ভালো আয় করত, তাই আমাদের পাত্তা দেওয়ার দরকার ছিল না।

২. কিছুদিন আগে সে নিজ বিষয়ে একটি আন্তর্জাতিক পুরস্কার পেলো। খুব নামি পুরস্কার। পত্রিকায় তার ইন্টারভিউ বের হলো। অবাক হয়ে দেখলাম, সে সেখানে জীবনসংগ্রামের কথা বললেও, একবারও তার সবচে দুঃসময়ের সঙ্গী পে ইট ফরোয়ার্ড বা ডোনারের নাম নেয়নি। আমরা বুঝলাম, সে হয়ত সফল হয়েছে, কিন্তু আমরা ব্যর্থ- কারণ আমরা ভালো মানুষ বানাতে ব্যর্থ হয়েছি। অকৃতজ্ঞ মানুষ আর যাই হোক ভালো মানুষ নয়। অথচ আমাদের লক্ষ্য ভালো মানুষ বানানো, সফল মানুষ নয়।

৩. আমি খুব শিগগির পে ইট ফরোয়ার্ড-এর সম্মানিত পরিচালনা বোর্ডের কাছে প্রস্তাব তুলব অফিসের দেওয়ালে কয়লা দিয়ে কিছু নাম লেখার। তার মধ্যে এর নামও থাকবে। কারণ সেটি হবে অকৃতজ্ঞদের ‘কয়লা লিস্ট’।
বোর্ড আশা করি এপ্রুভ করবে।

আমি প্রার্থনা করি কয়লা লিস্টে আর কোন নাম যোগ না হোক। তবে আশার কথা, এদের সংখ্যা খুব কম।

(পে ইট ফরোয়ার্ড-এর আনন্দের গল্প সবসময় বলি, ভাবলাম ব্যর্থতার কথাটাও বলি। আবার বলি, এ ব্যাপারে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে পে ইট ফরোয়ার্ড বোর্ড। তাছাড়া এখন পে ইট ফরোয়ার্ড অনেক প্রক্রিয়া ফলো করে স্টুডেন্ট নেয়, তাই ভুল হওয়ার সম্ভাবনা কম।)

#আসুনমায়াছড়াই

লেখক: কথাসাহিত্যিক

পূর্বকোণ/এএইচ

শেয়ার করুন

সম্পর্কিত পোস্ট