চট্টগ্রাম সোমবার, ২২ জুলাই, ২০২৪

সর্বশেষ:

হারাচ্ছে নিউমার্কেটের জৌলুস, সংশ্লিষ্টরা কি পারে না ফিরিয়ে দিতে?

মুনিজা বশির

১১ আগস্ট, ২০২৩ | ৫:৩৯ অপরাহ্ণ

আজ নিউ মার্কেটের পাশ দিয়ে যাওয়ার সময় একসময়কার বর্ণাঢ্য নিউমার্কেটের জৌলুসহীন শ্রী দেখে মনটা খুব খারাপ হলো। এদিকে খুব বেশি আসা হয় না। জমকালো মিমি সুপার মার্কেট, স্যানমার ওশান সিটি, ইউনেস্কো সেন্টার, খুলশী টাউন সেন্টারের পাশে চিটাগং নিউমার্কেট যেন বয়সের ভারে ন্যুব্জ। জায়গায়-জায়গায় পলেস্তারা খসে গেছে, রংহীন, বর্ণহীন নিউমার্কেট যেন কালের সাক্ষী হয়ে রয়ে গিয়েছে।

সে সময়ে একমাত্র চিটাগং নিউ মার্কেটে এস্কেলেটর ছিল। প্রথম প্রথম খুব ভয় লাগতো। আম্মা উঠতো না। আব্বু আমদের নিয়ে উঠে যেতো। আম্মা সিঁড়ি দিয়ে উঠতো। এস্কেলেটরটা এখন আর নেই। নিউমার্কেটের ভেতরে একটা ঘুরানো সিঁড়ি ছিল, আজও আছে, জরাজীর্ণ, শ্যাওলা পড়া। বৃষ্টিতে পিছলে হয়ে যায়। যেটা দিয়ে নামতে খুব মজা লাগতো।

আমাদের শৈশবে চিটাগং নিউ মার্কেট বা বিপণী বিতানই ছিল কেনাকাটা করার একমাত্র স্থান। মিমি সুপার মার্কেট তখনও হয়নি। আব্বু আর আম্মু সবসময় নিউমার্কেট যেতেন। আম্মার পছন্দ ছিল ক্রোকারিজ। কখনও কখনও আমি, দিদি, যামি সঙ্গী হতাম। নিউ মার্কেট গেলেই লিবার্টির ফালুদা বা ভ্যানিলা আইসক্রিম কিংবা ডায়মন্ডের চিকেন কাটলেট না খেলে মনে হতো কি জানি বাদ গেল। বিয়ের পর কায়েস আর আমি বেশ কয়েকবার গিয়েছি, তখনও লিবার্টির ফালুদা খেয়েছি, ডায়মন্ডের কাটলেটও চলেছে সাথে। এখন তো ডায়মন্ড ই নেই, কাটলেট তো দূরের কথা। কাটলেট অর্ডার করা মাত্র একটা প্লেটে গরম-গরম কাটলেট আরেকটা প্লেটে শসা, পেঁয়াজের কুচি সালাদ। কি মজা, কি মজা! আহা, কোথায় হারিয়ে গেল ডায়মন্ড? লিবার্টি র আইসক্রিম ও আর আগের মতো নেই।

নিউ মার্কেটে শপিং প্রসঙ্গে একটা মজার কাহিনী মনে পড়ছে। আমি তখন ক্লাস সিক্সে পড়ি। আব্বু সবসময় ঈদের শপিংয়ে আমাদের সাথে নিয়ে যেতেন। নিজে পছন্দ করে আমাদের ঈদের পোষাক, জুতা কিনে দিতেন। একবার, আমি আর দিদি গিয়েছি আব্বুর সাথে চিটাগং নিউ মার্কেটে ঈদের জুতা কিনতে।দোকানদার জোরজবস্তী আমার পায়ে জুতা পড়াচ্ছে। আমি ব্যথায় উ.. আ করছি। কিন্ত দোকানদার নাছোড়বান্দা। আব্বু বললো, আমার মেয়ে ব্যথা পাচ্ছে, আপনি আরেকটা দেখান এক সাইজ বড়।
দোকানদার হাল ছাড়লো না, সে ঐ জুতা জোড়াই আমার পায়ে আটানোর জন্য ব্যতিব্যস্ত হয়ে পড়লো। হঠাৎ আব্বুর মেজাজ উঠে গেল। উনি আমাকে এক টানে উঠিয়ে নিলেন, বললেন- লাগবে না তোর জুতা কেনা। এক্ষুনি উঠ। তারপর দেখা গেল আমার এক পায়ে জুতা, আরেক পা খালি, এক হাতে জুতা ধরা, আমি কাদঁতে কাদঁতে দিদি আর আব্বুর সাথে নিউ মার্কেট ছাড়ছি। এই ঘটনার পর আমি বা দিদি আমরা খুব কমই আব্বু সাথে শপিংয়ে যেতে চাইতাম।
আরেকবার নিউমার্কেট আব্বু দর্জির দোকানে আমাকে আর দিদিকে নিয়ে গিয়েছে। আব্বু নিজে ডিজাইন এঁকে দিলো। দর্জি বললো- স্যার আপনার কোন বোনের জন্য কোন ডিজাইন দিবো? আব্বু বললো- দুর মিয়া, তুমি কি চোখে দেখো না? আমার মেয়েদের কি আমার বোন লাগে নাকি?

নিউ মার্কেটজুড়ে এমন অনেক স্মৃতি আছে। এখন তো আম্মুও নেই, আব্বুও নেই, আছে শুধু নিউমার্কেট ঘিরে সোনালী স্মৃতি।

যা হোক, উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ, নগরপিতা কি পারেন না- নিউমার্কেটের আগের সেই জৌলুস ফিরিয়ে দিতে?

ব্যাংক কর্মকর্তা মুনিজা বশিরের ফেসবুক থেকে নেওয়া

পূর্বকোণ/এএইচ

শেয়ার করুন

সম্পর্কিত পোস্ট