চট্টগ্রাম শনিবার, ১৩ জুলাই, ২০২৪

সব দেশের মানুষের মাঝেই কিছু কুৎসিত মানুষ থাকে!

যানা

৩ আগস্ট, ২০২৩ | ৯:০৮ অপরাহ্ণ

কানাডিয়ান প্রাইম মিনিস্টার জাস্টিন ট্রুডো আর তার ওয়াইফ সোফি সেপারেশনে যাবার ডিসিশন নিয়েছেন। গতকাল থেকে এই খবরের ভিড়ে অন্য কিছু দেখা মুশকিল। ১৮ বছর একসাথে সংসার করার পর এরকম একটা সিদ্ধান্ত নেয়া খুব সহজ না। তাদের তিন সন্তানের জন্যেও এই সময়টা বেশ কঠিনই হবার কথা।
তো কানাডিয়ানদের দুনিয়াজুড়ে একটা পরিচিতি আছে। সেটা হচ্ছে তারা ‘Nice’. সে হিসেবে এ নিউজ জানার পর তাদের কাছ থেকে সম্মান আর সহমর্মিতা আসার কথা, পলিটিক্যাল কারণে ট্রুডোকে যতই হেইট করুক না কেন।
অথচ ট্রুডো তার ইন্সটাগ্রামে সেপারেশনের এই ব্যাপারটা শেয়ার করে তাদের এবং তাদের সন্তানদের প্রাইভেসিকে সম্মান করতে অনুরোধ করার পর সেখানকার কমেন্ট থ্রেড দেখে আমার মনে হল, দিনশেষে সব দেশের মানুষের মাঝেই কিছু কুৎসিত মানুষ থাকে। তারা অন্যের কোন ধরনের কষ্ট, দুর্দশা দেখে পৈশাচিক আনন্দ পায়।
তারা নিজেকে ছাড়া বাকি সবাইকে ভাবে অনুভূতিশূন্য রোবট। তাদের ভালোবাসা এবং ঘৃণা দুটোই খুব কন্ডিশনাল।
বাংলাদেশের কোন সেলিব্রিটি, ক্রিকেট টিমের কোন ভালো প্লেয়ার বা রাজনৈতিক দলের কারো কারো পোস্টেও ঠিক একইভাবে ঘৃণা ছড়াতে দেখেছি এ ধরনের মানুষদের। অনেকে সহ্য করতে না পেরে নিজের পোস্টটাই সরিয়ে ফেলেছেন।
প্রাসঙ্গিক পোস্টে নিজের মতামত জানানো এক জিনিস আর ব্যক্তিগত কিছু শেয়ার করলে কারো ওপর হামলে পড়া অন্য। ট্রুডোর ওপর অনেক কারণে অনেক লোক ক্ষ্যাপা। কিন্তু তার সবই পলিটিক্যাল কারণ। তার কোন পলিসি লোকের পছন্দ হয়নি বলে ক্ষোভ। সেটা থাকতেই পারে। না থাকাই বরং অস্বাভাবিক।
কিন্তু এরকম একটা সেনসিটিভ সময়ে দেয়া এমন একটা পোস্টে ট্রুডোকে ব্যক্তি আক্রমণ করা দেখে মনে হচ্ছিল এই লোকগুলোর কারো কখনও রিলেশনশিপে সমস্যা হয় না। ব্রেকআপ, সেপারেশন, ডিভোর্স তো পরের কথা।
এরকম কমেন্টগুলো পড়ে যতটা সিক লাগছিলো সেটা খানিকটা কমেছে এই কমেন্টগুলোর নিচে কিছু মানবিক মানুষের কমেন্ট পড়ে। ঝগড়ুটে লোকগুলোকে দেখলাম তখন ট্রুডোকে ছেড়ে তার জন্যে সহানুভূতি জানানো লোকগুলোকে অ্যাটাক করতে। এই মানুষগুলো কি রিয়েল লাইফেও সব জায়গাকে রণক্ষেত্র বানিয়ে ফেলে?
নাকি সোশ্যাল মিডিয়া আমাদের ভেতরের monster গুলোকে বের করে আনছে? কারণ একটা অ্যাভাটারের আড়ালে লুকিয়ে যা খুশি বলাটা সহজ।
I wish আমরা আরেকটু মানবিক হতাম…অনলাইনে, অফলাইনে মানুষকে আরেকটু কাইন্ডনেস নিয়ে ডিল করতাম…সবসময় মুখে যা আসে তা বলার নাম স্পষ্টভাষী হওয়া না!
ক্ষেত্রবিশেষে মুখে আসা বাজে কথা গিলে ফেলাটা গিলে ফেলতে জানা প্রতিবাদী হওয়া শেখার চেয়েও জরুরি…
কানাডিয়ানদের যারা ফেরেশতা ভাবে, আমি কখনই তাদের দলে ছিলাম না। তাদের সাথে আমার ব্যক্তিগত ইন্টার‍্যাকশনের অভিজ্ঞতাও মিশ্র। কেউ কেউ যতটা নাইস, বাকিরা ততটাই ঠাণ্ডা।
পৃথিবীর সব দেশের মানুষরাই তো তাই। আমরা কেবল ইতিহাস ভুলে গিয়ে নিজের দেশের লোকদের গালাগাল দিই। সুযোগ পেলে সবারই সযত্নে লুকিয়ে রাখা শ্বদন্ত বেরিয়ে আসে।

লেখক: যানা, টরেন্টো, কানাডা

পূর্বকোণ/এএইচ

শেয়ার করুন

সম্পর্কিত পোস্ট