চট্টগ্রাম সোমবার, ২৬ সেপ্টেম্বর, ২০২২

সর্বশেষ:

৯ আগস্ট, ২০২২ | ১০:৫৮ পূর্বাহ্ণ

রায়হান আজাদ

পবিত্র আশুরা আজ

ইসলামে বরকতময় ও ঐতিহাসিক যে কয়েকটি দিবস রয়েছে পবিত্র মহররম আশুরা তার অন্যতম। আশুরা শব্দের অর্থ দশম। ইসলামী শরীয়তের পরিভাষায় হিজরি সনের প্রথম মাস মহররমের ১০ম তারিখকে পবিত্র আশুরা বলা হয়ে থাকে। ইসলামী ক্যালেন্ডারে মহররম মর্যাদাবান মাস।

মহররম, রজব, জিলকদ ও জিলহজ- এ চারটি মাসকে আল্লাহতায়ালা পরম সম্মানিত ও পবিত্র বলে আল কুরআনে উল্লেখ করেছেন। ইরশাদ হয়েছে, “তোমরা জেনে রেখ, এই চারটি মাস বড় ফজিলত ও বরকতপূর্ণ। তোমরা এই মাসগুলোতে পাপাচার করে নিজেদের উপর জুলুম করো না।” স্বাভাবিকভাবে বুঝা যায়, এসব মাসে নেক আমল করলে সাওয়াবও বেশি হবে।

উল্লেখিত চার মাসের মধ্যে মহররমের ঐতিহাসিক গুরুত্ব রয়েছে। প্রাচীন আরবরা মহররমের ১০ তারিখ দর্শনার্থীদের জন্য কাবা ঘরের দরজা খোলা রেখে দিতো। আশুরার দিন রোজা রাখার ফজিলত সম্পর্কে মহানবী (সা.) বলেছেন, “আশুরার দিনের রোজার ব্যাপারে আমি আল্লাহর নিকট আশাবাদী যে, তিনি একবছর পূর্বের গুনাহ ক্ষমা করে দেবেন ( মসনাদে আহমদ)।” তবে ১০ মহররমের আগে বা পরে একটি রোজা বাড়িয়ে দুটি রোজা রাখতে বললেন তিনি। কারণ কিছু অন্য ধর্মাবলম্বী শুধু আশুরার দিন রোজা রাখে। রমজানের রোজার পর আশুরার রোজার মর্যাদা সর্বাধিক।

পবিত্র আশুরা মুসলিম ঐতিহ্যে বড়ই বরকতপূর্ণ ও নানাভাবে অবিস্মরণীয়। ইসলামপূর্ব যুগেও এ দিনকে খুব মর্যাদা সহকারে পালন করা হত। সৃষ্টির শুরু থেকে এ দিনে অনেক গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা সংঘটিত হয়েছে। পবিত্র আশুরার দিনে মহান আল্লাহতায়ালা সাগর, পাহাড়, প্রাণিক‚ল, আসমান-জমিন ও লওহ-কলম সৃষ্টি করেছেন। আবার এদিনেই আরশে আজিমে সমাসীন হয়েছেন। তামাম মাখলুকাত ধ্বংসও হবে মহররমের দশ তারিখে। আল্লাহ পরওয়ারদেগার এ দিনে আদি পিতা হজরত আদমকে (আ.) তার খলিফা নিযুক্ত করেছেন, জান্নাতে দাখিল করেছেন, পৃথিবীতে নির্বাসনের পর আরাফাত ময়দানে মা হাওয়ার সাথে মিলিত করেছেন এবং দু’জনের তাওবা কবুল করেছেন।

পৃথিবীর প্রথম হত্যাকাণ্ড কাবিলের হাতে হাবিলের মৃত্যু এদিনে সংগঠিত হয়। হজরত নূহ (আ.) সদলবলে মহাপ্লাবন শেষে যুদী পাহাড়ে অবতরণ করে পৃথিবীকে নতুনভাবে সাজিয়ে তুলেন এ দিনে। হজরত ইব্রাহীমকে (আ.) ক্ষমতাশালী মূর্তিপূজারী নমরুদের অগ্নিকুণ্ড থেকে উদ্ধার, হজরত আইয়ুবের (আ.) কুষ্ঠ রোগমুক্তি, হজরত ইউনুসের (আ.) মাছের পেট থেকে পরিত্রাণ এবং ফেরাউনের স্ত্রী হজরত আছিয়া (আ.) শিশুপুত্র মুসাকে (আ.) এদিনই ফেরত পান। আল্লাহ পাক এ দিনে হজরত ইদ্রিসকে (আ.) জান্নাত থেকে দুনিয়ায় পাঠানোর পর গুনাহ-অপরাধের জন্য কান্নাকাটি করলে আবার তাকে জান্নাতে ফেরত নেন। এ দিনই হজরত দাউদের (আ.) গুনাহ মাফ হয়, কুমারী মাতা বিবি মরিয়মের (আ.) গর্ভ হতে হজরত ঈসার (আ.) পৃথিবীতে আগমন ঘটে। এদিনই রহমত স্বরূপ আসমান হতে প্রথম বৃষ্টি নামে।

হজরত মুসা (আ.) মিশরের বাদশাহ ফেরাউনের নির্যাতনে অতীষ্ঠ হয়ে পড়লে এ দিনে তিনি বনী ইসরাইলকে সাথে নিয়ে লোহিত সাগর পার হয়ে যান আর সাগরের মাঝপথে ফেরাঊনের সলিল সমাধি ঘটে। হজরত ঈসাকে (আ.) আল্লাহতায়ালা নিজ অনুগ্রহে এদিন আসমানে তুলে নেন। হজরত মুসা ও ঈসা (আ.) এর স্মৃতি বিজড়িত এ দিন ইহুদি-খ্রিস্টানদের মাঝেও খুবই তাৎপর্যপূর্ণ।

৬১ হিজরির ১০ মহররম ফোরাত নদীর তীরে কারবালার প্রান্তরে মহানবীর (সা.) দৌহিত্র ইমাম হোসাইন দামেস্ক অধিপতি কুখ্যাত ইয়াজিদের সেনাবাহিনীর হাতে সপরিবারে শাহাদাত বরণ করলে এ দিনটি ঐতিহাসিক কারবালা দিবস হিসেবেও মুসলিম উম্মাহর ঘরে ঘরে পালিত হয়ে আসছে। নীতি-আদর্শ, সত্য-মানবতার মুক্তির জন্য নিঃসংকোচে এ রকম প্রাণদানের ঘটনা বিরল।

হজরত হোসাইনের দৃঢ়প্রত্যয় ও অতুলনীয় আত্মত্যাগের দীক্ষা আমাদেরকে সত্য ও ন্যায় প্রতিষ্ঠার আন্দোলনে উজ্জীবিত করলে আশুরা উদযাপন সার্থক হবে।

 

পূর্বকোণ/আর

শেয়ার করুন

সম্পর্কিত পোস্ট