চট্টগ্রাম বুধবার, ১৬ অক্টোবর, ২০১৯

১৮ মে, ২০১৯ | ৩:০৯ এএম

রোজা : জানা-অজানা কাদের ওপর রোজা ফরজ

যে সব প্রাপ্তবয়স্ক, সক্ষম, জ্ঞানবান, মুকীম মুসলমান রমজান মাস পাবে তাদের ওপর রোজা ফরজ। মহান আল্লাহ এ সম্পর্কে বলেন, “রমজান মাসে পবিত্র কুরআন অবতীর্ণ হয়েছে, যা মানবতার জন্য পথ প্রদর্শক, হেদায়েতের সুস্পষ্ট নির্দেশিকা ও সত্য-মিথ্যার পার্থক্যকারী, অতএব তোমাদের মধ্যে যে ব্যক্তি এ মাস পাবে সে যেন রোজা পালন করে।” (সূরা আল-বাকারাহ: ১৮৫) তথাপি শরীয়ত যেহেতু মানুষের ওপর সাধ্যাতীত কোন কিছু চাপিয়ে দেয় না এজন্য কয়েক শ্রেণির মানুষের ক্ষেত্রে রোজার আবশ্যিকতার শিথিলতা দেয়া হয়েছে। কেননা আল্লাহ তাঁর বান্দাদের জন্য সহজতা চান কঠোরতা নয়। যাদের ক্ষেত্রে এ শিথিলতা দেয়া হয়েছে তাদের মধ্যে রয়েছে:
১. মুসাফির: নিজ আবাস থেকে যে ব্যক্তি ৪৮ মাইলের দূরে কোথাও ১৫ দিন বা তার চেয়ে কম সময়ের জন্য ভ্রমণে বের হয় সে ইচ্ছা করলে রোজা রাখতে পারে আবার ইচ্ছা করলে রোজা ছেড়েও দিতে পারে, তবে রোজা ছেড়ে দিলে ক্বাযা আদায় করতে হবে। এ হুকুম বিশেষ ভ্রমণ বা স্থায়ী ভ্রমণ যেমন- বিভিন্ন যানবহনের ড্রাইভার উভয় ক্ষেত্রে সমান তারা ইচ্ছা করলে তাদের এলাকা ছাড়া অন্য এলাকায় রোজা ছেড়ে দিয়ে পরবর্তীতে ক্বাযা আদায় করতে পারবে। তবে মুসাফিরের রোজার ব্যাপারে আলিমগণের অগ্রগণ্য মত হলো, তার জন্য রোজা রাখা সহজ হলে রাখবে; আর রোজা রাখা কঠিন হলে ছেড়ে দিয়ে পরবর্তীতে আদায় করবে।
২. অসুস্থ ব্যক্তি: এমন অসুস্থ যার জন্য রোজা রাখা কষ্টকর এবং চিকিৎসকের মতে, রোজা ভঙ্গ করা ছাড়া অন্য কোন উপায় নেই তার জন্য রোযা না রাখার শিথিলতা আছে। তবে সুস্থ হওয়া পর ক্বাযা আদায় করে দিতে হবে।
৩. অক্ষম ব্যক্তি: যদি কেউ কোন স্থায়ী কারণে রোজা রাখতে অপারগ হয় যেমন- অতিশয় বৃদ্ধ, কঠিন ও স্থায়ীরোগী যার রোগমুক্তির কোন আশা নেই; এ শ্রেণির অক্ষম ব্যক্তির ওপর ক্বাযা আদায়ও আবশ্যক নয়, বরং ফিদয়া প্রদান করতে হবে।
৪. গর্ভবতী ও স্তন্যদানকারী: যদি রোজার কারণে গর্ভস্থ সন্তান বা দুগ্ধপোষ্য শিশুর ব্যাপারে ভয় পায় তথা তার সন্তানের কোন ক্ষতির আশংকা থাকে তবে সে রোজা না রেখে সুযোগ ও সুবিধা মত পরে ক্বাযা আদায় করে নিতে পারবে।
৫. হায়েজ (মাসিক রক্তস্রাব) ও নেফাস (প্রসবোত্তর রক্তস্রাব বা প্রসূতি অবস্থা) : এ দুই অবস্থায় রোজা রাখা বৈধ নয় বিধায় এ দু’অবস্থায় রোজা ছেড়ে দিয়ে পরবর্তীতে এর ক্বাযা আদায় করতে হবে। দিনের যে কোন অংশে এমন কি সূর্যাস্তের সামান্য পূর্বেও যদি কারো এ দুয়ের কোন প্রকার রক্তস্রাব শুরু হয় তবে তার ওই দিনের রোজা ভঙ্গ হয়ে যাবে এবং পরে এর ক্বাযা আদায় করতে হবে। যদি কোন নারী ফজরের পূর্বে রক্তস্রাব থেকে পবিত্র হয়, রোজার নিয়ত করে এবং ফজরের পরে গোসল করে তাতে তার ওই দিনের রোজা শুদ্ধ হবে।
৬. জরুরি অবস্থা: কেউ যদি এমন জরুরি অবস্থায় পতিত হয় যাতে সে রোজা ত্যাগ করতে বাধ্য হয়, যেমন-কেউ পানিতে ডুবন্ত ব্যক্তি বা আগুনে জ্বলন্ত ব্যক্তিকে বাঁচানোর জন্য রোজা ছেড়ে দেয় তবে সে পরবর্তীতে অবশ্যই ক্বাযা আদায় করে দেবে।
উপরে বর্ণিত ব্যক্তিবর্গ যদি একেবারে নিরুপায় হয়ে পড়ে এবং কোন ভাবে রোজা আদায় করতে না পারে এমন কি ক্বাযা আদায়ও করতে না পারে তার জন্য শরীয়তের নির্ধারিত ফিদয়া প্রদান করতে হবে। এ সম্পর্কে আল্লাহ বলেছেন, “যারা নিরুপায় হয়ে পড়বে তারা মিসকিনকে খাদ্য প্রদানের মাধ্যমে ফিদয়া দিবে।”

The Post Viewed By: 145 People

সম্পর্কিত পোস্ট