চট্টগ্রাম সোমবার, ০৬ ফেব্রুয়ারী, ২০২৩

১৫ মে, ২০১৯ | ১:৪৬ পূর্বাহ্ণ

অপ্রয়োজনীয় হর্ন বাজানোতে ক্ষতির মুখে জনজীবন

বাংলাদেশের যে কোন শহরে বের হলে হর্ন বা ভেঁপুর আওয়াজে মনে হয় গাড়িচালকরা হর্ন বাজানোর প্রতিযোগিতায় নেমেছে। অকারণে হরহামেশাই তারা যত্রতত্র হর্ন বাজাচ্ছে। এমনকি বিশ্ববিদ্যালয়, পাবলিক লাইব্রেরী, স্কুল, মসজিদ, মন্দিরের মতো গুরুত্ববহ স্থানও এ আওয়াজ থেকে মুক্ত নয়। অথচ এ বিকট আওয়াজের হর্ন যে কাউকে বধির করে দিতে পারে। অনেকে আবার অজ্ঞান ও হয়ে যেতে পারে। গাড়িতে হাইড্রোলিক হর্ন বাজানো নিষিদ্ধ কিন্তু এ আইন মানার ধারেকাছেও কোন চালক নেই। তাছাড়া ট্রাফিক পুলিশের কাছে শব্দের মাত্রা পরিমাপের যন্ত্র না থাকায় তারা কার্যকারী ব্যবস্থা নিতে পারছে না।
তবে অতিমাত্রায় হর্ন বাজানোর ফলে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে শিশুরা। তাছাড়া রাস্তার পাশে বসবাসকারীরা, রিক্সা, বাস, মোটরসাইকেলে চলাচলকারীরা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। বিশ্ব স্বাস্থ্য প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, মানুষের শব্দ গ্রহণের স্বাভাবিক মাত্রা ৪০-৫০ ডেসিবেল। তাছাড়া ৬০ ডেসিবেল মানুষকে অস্থায়ী বধির করে দিতে পারে, ১০০ ডেসিবেলের বেশি হলে মানুষ স্থায়ীভাবে বধির হয়ে যেতে পারে। পরিবেশ অধিদফতরের গত বছরের জরিপে দেখা যায়, বিভাগীয় শহরগুলোয় শব্দের মানমাত্রা ১৩০ ডেসিবেলের বেশি। যা স্বাভাবিক মাত্রার চেয়ে আড়াই থেকে তিন গুণ বেশি। যা খুবিই উদ্বেগজনক।
হর্ন বাজানোর কারণ হিসাবে দেখা যায় অধিকাংশই বাজানো হয় অকারণে। তাছাড়া ওভারটেকিং প্রতিযোগিতা, ট্রাফিক জ্যাম ও সামাজিক সচেতনতার অনেক অভাব বিদ্যমান। এমতাবস্থায় আমাদের করণীয় হলো ড্রাইভারদের মধ্যে সচেতনতা বৃদ্ধি করা, অকারণে হর্ন বাজানোর ক্ষতির দিক তুলে ধরা। সর্বোপরি ট্রাফিক পুলিশের কাছে শব্দের মাত্রা পরিমাপের যন্ত্র সরবরাহ করে আইন প্রয়োগের কার্যকারী ব্যবস্থা করা।

আতিকুর রহমান
শিক্ষার্থী।

শেয়ার করুন

সম্পর্কিত পোস্ট