চট্টগ্রাম সোমবার, ২১ অক্টোবর, ২০১৯

১৫ মে, ২০১৯ | ১:৪৬ পূর্বাহ্ণ

রায়হান আজাদ

রোজাদারকে ইফতার করালে প্রচুর সাওয়াব

দেখা যায়, রমজান মাসে রোজাদারের বেলা যতই গড়িয়ে যায় তার দেহমনে ততই আনন্দের ঢেউ খেলে যায়। কারণ, আল্লাহ তা’আলা রোজাদারের জন্য পুরস্কার স্বরূপ ইফতারির ব্যবস্থা রেখেছেন। মহানবী ইরশাদ করেন, ‘ইফতার মুহূর্তে আল্লাহ তা’আলা রোজাদারের উপর সন্তুষ্ট হন এবং সকল গুনাহ মাফ করে দেন। এজন্যই বান্দাহ ইফতারির সময় অপরিসীম শান্তি অনুভব করে এবং ইফতারির পর শারীরিক ও আধ্যাত্মিক তৃপ্তির অনাবিল সুখানুভূতিতে নিজেকে সৌভাগ্যবান ভাবতে থাকে।
ইফতার নিজে করার সাথে সাথে হাদীস শরীফে অন্য রোজাদার ভাইকেও ইফতার করানোর ফজিলত বর্ণিত হয়েছে। রাসুলে করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এ সম্পর্কে উম্মতকে উৎসাহিত করার জন্য বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি কোন রোজাদারকে ইফতার করাবে আল্লাহ তা’য়ালা তার বিনিময়ে তার অতীত অপরাধ মাফ করে দেবেন এবং দোজখের কঠিন শাস্তি থেকে তার নাজাতের ব্যবস্থা করবেন। রোজাদার ব্যক্তি রোজা রেখে যে পরিমাণ সাওয়াবের ভাগীদার হবে যে ব্যক্তি অপরকে ইফতার করাবে সেও সমপরিমাণ নেকী পাবে। এ জন্য রোজাদারের নিজস্ব সাওয়াবের মাঝে কমতি হবে না। সাহাবায়ে কেরাম আরজ করলেন, ইয়া রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম রোজাদারকে ইফতার করানোর সামর্থ আমাদের সকলের নেই। তদোত্তরে রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ফরমালেন, যে ব্যক্তি একটি খেজুর কিংবা একটু দুধের শরবত বা সামান্য পানি দ্বারা কোন রোজাদারকে ইফতার করাবে আল্লাহ পাক তাকেও এ রোজার সাওয়াবের ভাগীদার করবেন। আর যে ব্যক্তি পেট ভরে রোজাদারকে খাওয়াবে তাকে আল্লাহ তা’য়ালা কিয়ামতের সংকট মুহূর্তে আমার হাউজে কাওসার হতে তাকে পানি পান করাবেন। এ বরকতে সে ব্যক্তি আর পিপাসার্ত হবে না যে পর্যন্ত সে বেহেশতে প্রবেশ করবে না’। ইফতার পেট পুরে খাওয়া ভাল নয়। পরিমিত ভোজনই ইসলামের বিধান। হাদীস শরীফে এসেছে, ‘নিশ্চয় প্রকৃত মোমিন স্বল্পভোজী, পরিমাণমত খায় আর কাফির নাক ডুুবিয়ে খায়’। সুতরাং ইফতার গ্রহণের সময় আমাদেরকে অতিরিক্ত ভোজন পরিহার করতে হবে। ইফতারিতে স্বাস্থ্য সম্মত খাবার গ্রহণ করতে হবে। কোল্ড ড্রিংকস ও অতিরিক্ত ভাজা-পোড়া খাবার বর্জন করতে হবে। প্রচ- গরমের দিনে ইফতারের পর এবং রাত্রিবেলায় পর্যাপ্ত ঠা-া পানীয় গ্রহণ করা উচিত হবে। প্রতিবেশীর ঘরে ও মসজিদে ইফতারি পাঠালে ইসলামের সৌন্দর্য ফুটে উঠবে। অমুসলিমদেরকেও ইফতারির খাবার বিতরণ করা যায়। এতে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি আরো বৃদ্ধি পাবে।
যাদের সামর্থ আছে তারা পথচারী ও বস্তিবাসীদের মাঝে ইফতার বিতরণ করলে প্রচুর সাওয়াবের ভাগীদার হতে পারবেন। মাগরিবের জামায়াত পাওয়া যায় মত সময়ে ইফতারের সমাপ্তি টানতে হবে। এ সম্বন্ধে ইসলামের বিশিষ্ট দার্শনিক ইমাম গাজ্জালী রহমাতুল্লাহি আলাইহি বলেছেন, সকল ছাতুরি শক্তি, কাম প্রবৃত্তিকে নিশ্চল, নিস্তেজ ও নির্মূল করার জন্য আমরা রোজা রেখে থাকি কিন্তু ইফতারির ভুরি ভোজনে হিতে বিপরীত হয়। সারা দিনের পানাহার ও খাবার পরিবর্জন করে ইফতারিতে তা আবার পূর্ণ করে পরিতুষ্ট হই। যা প্রকৃত রোজার শিক্ষার পরিপন্থি। ইসলাম সবসময় মিতব্যয়িতার শিক্ষা দেয়। সুতরাং সারাদিন খাওয়া হয়নি বলে ইফতারিতে নাক ডুবিয়ে খাওয়া হবে-সেটা কিন্তু নয়।
সূর্যাস্তের সাথে সাথে ইফতার করা মোস্তাহাব। মেঘাচ্ছন্ন আকাশ থাকলে দু’চার মিনিট দেরিতে করা উচিত।
রোজা রেখে ইফতার না করা মাকরূহ। ইফতারের সময় হয়ে গেলে দেরি করা সমীচীন নয়। ইফতারের গুরুত্ব, নিয়ম-শ্ঙ্খৃলা ও ফজিলতের প্রতি নজর রেখে আমাদের রোজাকে অর্থবহ করে তুলতে হবে।
অপরকে ইফতার করানোর মূল্যবান পুরস্কার লাভে সচেষ্ট হতে হবে। রহমত, মাগফিরাত ও নাজাতের এ মাসকে অসংখ্য সাওয়াব কুড়ানোর মাস হিসেবে আমরা যেন গ্রহণ করতে পারি মহান আল্লাহ তা’য়ালার নিকট এ তৌফিক কামনা করছি।

The Post Viewed By: 224 People

সম্পর্কিত পোস্ট