চট্টগ্রাম শুক্রবার, ১২ আগস্ট, ২০২২

২৭ এপ্রিল, ২০২২ | ১১:৪৯ অপরাহ্ণ

রায়হান আজাদ

লাইলাতুল ক্বদর রমজানের শেষ দশ দিনের বেজোড় রাতেই

মহিমান্বিত লাইলাতুল ক্বদর পবিত্র রমজান মাসের শেষ দশ দিনের বেজোড় রাতেই এসে থাকে। হাদিস শরীফে এ রাতটি ঠিক কখন তা নির্দিষ্ট করে বলা হয়নি। এরও একটি গভীর তাৎপর্য রয়েছে। তা হচ্ছে, উম্মতে মুহাম্মদী যেন বরকতময় রমজানের দশ দিনই লাইলাতুল কদর খুঁজতে গিয়ে ইবাদতে মশগুল থেকে কামিয়াবি হাসিল করতে পারে।

বুখারি শরীফে হযরত আয়েশা রাদিয়াল্লাহু আনহা হতে বর্ণিত আছে যে, মহানবী (স.) ইরশাদ ফরমাইয়েছেন, “ পবিত্র রমজানের শেষ দশকের বেজোড়  রাত্রে তোমরা লাইলাতুল ক্বদরের তালাশ করবে।”  নবীজী রমজানের শেষ দশকে নিজে অত্যধিক পরিশ্রম করে লাইলাতুল ক্বদর সন্ধানের মাধ্যমে তার উম্মতের জন্য অনুপম শিক্ষা রেখে যান। নবী করিম (সা.) বললেন, “আমি তোমাদেরকে লাইলাতুল ক্বদরের খবর দেয়ার জন্য বের হয়েছিলাম। কিন্তু অমুক অমুক কলহে লিপ্ত হল, ফলে আমিও ভুলে গেলাম। সম্ভবত এটা আমাদের জন্য মঙ্গল হয়েছে। তাই যুগ যুগ ধরে মুসলিম উম্মাহর ঘরে ঘরে  রমজানের এ রাতই পবিত্র লাইলাতুল ক্বদর হিসেবে পালিত হয়ে আসছে। অবশ্য এ রাত রমজান মাসের মধ্যে আবর্তিত হয়ে থাকে।

সহী বুখারি শরীফের ব্যাখ্যাকার আল্লামা ইবনুল হাজর আসকালানী তার বিখ্যাত ফাতহুল বারীর মধ্যে উল্লেখ করেন,“ লাইলাতুল ক্বদর রমজানের শেষ দশকের যে কোন বেজোড় রাত্রিতে এবং তা পরিবর্তনশীল। লাইলাতুল ক্বদর সংক্রান্ত হাদিসগুলো হতে এ কথাই বুঝা যায়।

এই কল্যাণময় রজনীটি গোপন রাখার রহস্য প্রসঙ্গে গবেষকগণের মতামত হচ্ছে, আমরা জাগতিক ক্ষেত্রে দেখতে পাই, সাধারণত যে জিনিস অধিক মূল্যবান হয় সেই জিনিস লুকায়িত থাকে। এমনিভাবে যে জিনিস বহু দুঃখ-কষ্ট ও পরিশ্রমের পর লাভ করা হয় সেই জিনিস মানুষের অধিক অন্তরঙ্গ ও ভালোবাসার কারণ হয়। যদি এই রজনীকে গোপন না রেখে প্রকাশ করে দেয়া হত, তাহলে এই রাতের গুরুত্ব কমে যেত এবং ঈমানদারগণ সব ইবাদাত-বন্দেগী পরিত্যাগ করে উক্ত রজনীর ওপর নির্ভর করত।

যাই হোক, ফয়জ-বরকত হাসিলের জন্য আমাদেরকে রমজানের শেষ দশকে ইবাদতের জন্য কোমর বেঁধে নেমে পড়তে হবে। মাগফিরাত ও নাজাত লাভে ব্রতী হতে হবে। অধিক পরিশ্রম করে সৌভাগ্যবানদের মাঝে সামিল হতে হবে। হে আল্লাহ ! আমাদেরকে অন্ততপক্ষে জীবনে একবার হলেও লাইলাতুল ক্বদর বখশিশ করুন। আমিন।

 

পূর্বকোণ/সাফা/পারভেজ

শেয়ার করুন

সম্পর্কিত পোস্ট