চট্টগ্রাম শনিবার, ২৮ জানুয়ারি, ২০২৩

সর্বশেষ:

২৬ এপ্রিল, ২০২২ | ১১:৫৪ অপরাহ্ণ

মোহাম্মদ শাহজাহান

পবিত্র মাহে রমজান: সৌভাগ্যের শেষ দশদিন

রমজানের বিদায়ের সূর বেজে ওঠেছে। এ সময় বেশি বেশি আল্লাহর ইবাদত-বন্দেগির মাধ্যমে নাজাত হাসিল করা খুব জরুরি। কেননা জাহান্নাম থেকে নাজাত হাসিল করে জান্নাত লাভ করাই মুমিন জীবনের সর্বশ্রেষ্ঠ সফলতা।

রমজানের প্রথম দুই দশকের গুরুত্ব ও ফজিলত থাকলেও শেষ দশকের গুরুত্ব ও ফজিলত আরো অনেক গুণ বেশি। কেননা এ দশকেই রয়েছে পবিত্র রজনী লাইলাতুল কদর। শবে কদর হাজার মাস অপেক্ষা উত্তম। অর্থাৎ এক হাজার মাস ইবাদত করলে যে সওয়াব হতে পারে, এই রাতের ইবাদতে তার চেয়েও বেশি সওয়াব পাওয়া যাবে। এ রাতের কারণেই পুরো রমজান তাৎপর্য ও ফজিলতপূর্ণ হয়েছে। পবিত্র গ্রন্থ আল কোরআনও অবতীর্ণ হয়েছে এই কদরের রাতে। এই বিষয়ে পবিত্র কোরআনে বলা হয়, আমি এই কিতাব অবতীর্ণ করেছি এক বরকতময় রজনীতে। অবশ্যই আমি সতর্ককারী। এ রজনীতে প্রত্যেক প্রজ্ঞাপূর্ণ বিষয় স্থিরীকৃত হয়।

মুয়াত্তা-ই-ইমাম মালেকে বর্ণিত আছে যে, হযরত রাসূল (সা.) জানতে পারলেন, পূর্বেকার উম্মতের বয়স অনেক দীর্ঘ হতো এবং সে তুলনায় নিজের উম্মতের বয়স অনেক কম। সুতরাং আমার উম্মতের আমলের পরিমাণ এ হায়াতের ব্যবধানে পূর্বেকার উম্মতের আমলের পরিমাণের সমান হতে পারে না। বিষয়টি অবগত হয়ে রাসূল (সা.) দুঃখিত হলেন। তখন আল্লাহ তা’আলা লাইলাতুল কদর প্রদান করেন। যাতে এ সমস্যা ও দুঃখ দূরীভূত হয়। তাই এমন এক রাত দান করলেন যে রাতের ইবাদত হাজার মাসের ইবাদত অপেক্ষা উত্তম।

‘যে ব্যক্তি লাইলাতুল কদরে ঈমান সহকারে ও আল্লাহর কাছ থেকে বড় শুভফল লাভের আশায় ইবাদতের জন্য দাঁড়িয়ে থাকবে, তার পেছনের সব গুনাহ মাফ হয়ে যাবে’ (বুখারি ও মুসলিম)। এ রাতের কল্যাণ থেকে একমাত্র হতভাগ্য লোক ছাড়া আর কেউ বঞ্চিত হয় না (ইবনে মাজাহ ও মিশকাত)। এ রাতে হযরত জিবরাইল (আ.) ফেরেশতাদের এক বিরাট জামায়াত নিয়ে দুনিয়ার বুকে অবতীর্ণ হন ও জগতবাসীর মধ্যে লাইলাতুল কদরের কল্যাণ ও প্রাচুর্য বিতরণ করেন। এ বিতরণের কাজ ফজর হওয়া পর্যন্ত অনবরত চলতে থাকে।

লাইলাতুল কদর আল্লাহর পক্ষ থেকে একটি বিরাট নেয়ামত- যার কোনো তুলনা হয় না। এ রাতে ইবাদতের একাগ্রতা হাসিল হয়। অন্তর গাফিল হয় না। এ রাতে আল্লাহ তা’আলা অসংখ্য পাপী বান্দাকে মাফ করে দেন। এ রাতে তওবা কবুল হয়, আসমান-যমীনের রহমতের দরজা খুলে দেয়া হয়। ইবাদতে মশগুল মুমিনকে ফেরেশতারা সালাম করে। এ রাতে কুরআন তিলাওয়াত, নফল নামায, তসবীহ-তাহলীল পাঠ করে কাটিয়ে অনেক সওয়াব অর্জনের চেষ্টা করতে হবে।

হাদিস শরিফে আছে, দুনিয়ার আকর্ষণ সব পাপের মূল। (বুখারি, মুসলিম ও তিরমিজি) আপনি নাজাত বা মুক্তি লাভ করেছেন বা মুক্তির অধিকারী হয়েছেন, তা বোঝা যাবে আপনার আচরণে যদি মোহমুক্ত ভাব প্রকাশিত হয়; নয়তো নয়। তাই রমজানের তৃতীয় দশক নাজাতের বা মুক্তির ১০ দিন করণীয় হলো দুনিয়ার সবকিছুর আকর্ষণ থেকে সম্পূর্ণ মোহমুক্ত হওয়া। আমরা মুসলিম উম্মাহ অত্যন্ত উৎসাহ-উদ্দীপনার সাথে রোজা পালন করে থাকি।

অর্থাৎ যথারীতি পানাহার ও জৈবিক লালসা চরিতার্থ করা থেকে বিরত থাকি। কিন্তু সর্বসাধারণের জন্য যা হারাম ও অবৈধ, যার পংকিলতা থেকে মুক্তিদান করাই রোজার এই মহান প্রশিক্ষণ, তা আমরা মোটেই পরিত্যাগ করতে পারি না। রোজার প্রকৃত উপকারিতা পেতে হলে মিথ্যা বলা, গীবত, কুদৃষ্টি, হারাম উপার্জন, অশ্লীল গানবাজনাসহ যাবতীয় গোনাহ থেকে বিরত থাকতে হবে।

এ মাসে অবারিত রহমত-বরকতের পাশাপাশি দোয়া-মোনাজাতের মাধ্যমে নিজেকে পাক-সাফ করে নেয়া যায়। মানবজাতির কল্যাণ ও মুক্তির জন্য এবং যে কোনো বিপদ-মসিবত থেকে উত্তরণে দোয়ার বিকল্প নেই। আমাদের ওপর আল্লাহতায়ালার পক্ষ থেকে এটা একটা বড় ধরনের নিয়ামত ও অনুগ্রহ যে, তিনি আমাদের তাঁর কাছে দোয়া করার অনুমতি দিয়েছেন এবং দোয়া কবুলেরও ওয়াদা করেছেন। এ মর্মে পবিত্র কোরআনে ইরশাদ হয়েছে, ‘আমার কাছে দোয়া কর, আমিই তোমাদের দোয়া কবুল করব।’ -সূরা মুমিন : ৬০। সুতরাং মহান আল্লাহর রহমত, মাগফিরাত ও নাজাতের গুণ অর্জন ও আজীবন ধারণ করাই রমজানের মূল শিক্ষা। আল্লাহ পাক আমাদের প্রকৃত দয়া, ক্ষমা ও মুক্তিলাভের তাওফিক দিন। আমিন!

লেখক: মোহাম্মদ শাহজাহান, প্রাবন্ধিক

 

পূর্বকোণ/সাফা/পারভেজ

শেয়ার করুন

সম্পর্কিত পোস্ট